চুকনগর প্রতিনিধি ॥ করোনা ভাইরাস বিস্তার রোধে নিরাপদ দূরত্ব, স্বাস্থ্য বিধি না মেনে ও জনসমাগন সৃষ্টি করে চুকনগরে মমতা বস্ত্রালয় এ্যান্ড গার্মেন্টস্ নামে একটি শপিং কমপ্লেক্র আসন্ন ঈদুল ফেতরের মালামাল বিক্রয় করছে। এঘটনায় খুলনা জেলা প্রশাসকের অনুমতিক্রমে রবিবার দুপুরের দিকে শহরের কাউন্সিল রোডে অবস্থিত মমতা বস্ত্রালয়ে গিয়ে দোকানের ভিতরে জনসমাগনের ছবি তুলতে গেলে অত্র প্রতিষ্ঠানের মালিক মহাদেব পাল সাংবাদিকদের অকথ্যভাষায় গালিগালাজ ও দোকান থেকে জোরপূর্বক বের করে দেয়াসহ দেখে নেওয়ার হুমকী প্রদান করেন।
জানা যায় গত ০৯/০৫/২০২০ইং তারিখের ৫২০নং স্মারকে করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) বিস্তাররোধে স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব অনুসরণ করে সীমিত আকারে খুলনা জেলার অভ্যন্তরীণ দোকানপাট/শপিংমল শর্ত সাপেে চালুর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। তবে বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, বর্ণিত শর্ত দুটি মানুষের উপচে পড়া ভিড়, অসচেতনতা ও অবহেলার কারণে যথাযথভাবে পালিত না হওয়ার ফলে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ ভয়াবহভাবে বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশক্রমে গত ১৪মে পূর্ণরাদেশ না দেয়া পর্যন্ত জেলা উপজেলা পর্যায়ের দোকানপাট/শপিংমল সমূহ বন্ধ রাখার নির্দেশ প্রদান করেন খুলনার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন। এরপরও আসন্ন মুসলমানদের ধর্মীয় অনুষ্ঠান ঈদুল ফেতরের কথাসহ দেশের অর্থনীতির কথা বিবেচনা করে জেলা প্রশাসক মহোদয় কঠোর শর্ত সাপেে দোকানপাট খোলার অনুমতি প্রদান করেন। আর এসুযোগকে কাজে লাগিয়ে শহরের মমতা বন্ত্রালয়ের মালিক মহাদেব পালসহ কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সকল ধরণের শর্ত ভঙ্গ করে ব্যাপক জনসমাগণ সৃষ্টি করে দোকানে ঈদের মালামাল বিক্রয় করছে। সেখানে বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মহামারী করোনা ভাইরাসের বিস্তার রোধ হতে দেশবাসীকে রেহাই পাওয়ার জন্য দিনরাত অকান্ত পরিশ্রম করে চলেছেন। সেখানে মমতা বস্ত্রালয়ের গত কয়েক দিনের সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ চেক করলে দেখা যাবে তিনি কিভাবে সকল নির্দেশনা অমান্য করে করোনা ভাইরাস ছড়ানোর দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া কেশবপুর ও তালা উপজেলার লোকজনও এই মহামারির মধ্যে চুকনগরে এসে মালামাল ক্রয় করছে। এমনকি সময়ের নির্দেশনাও অমান্য করে ভোর হতে রাত পর্যন্ত দোকান গুলোতে উপচে পড়া ভিড় ল্য করা যাচ্ছে। এ বিষয়টি শনিবার স্থানীয় সাংবাদিকরা জানার পর খুলনা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন মহোদয়ের সাথে কথা বলে তার অনুমতিক্রমে রবিবার দুপুরের দিকে মমতা বস্ত্রালয়ে গিয়ে জনসমাগনের ছবি তুলতে গেলে অত্র প্রতিষ্ঠানের মালিক মহাদেব পাল দৈনিক প্রবাহের চুকনগর প্রতিনিধি ও দৈনিক যশোর পত্রিকার ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি গাজী আব্দুল কুদ্দুস এবং দৈনিক নওয়াপাড়া পত্রিকার চুকনগর সংবাদদাতা মোঃ ইমরান হোসেনকে অকথ্যভাষায় গালিগালাজ ও দোকান থেকে জোরপূর্বক বের করে দেয়াসহ দেখে নেওয়ার হুমকী প্রদান করেন। এঘটনার পর থেকে কোটিপতি ও প্রভাবশালী ব্যক্তি মহাদেব পালের ভয়ে দুই সাংবাদিক চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিনাতিপাত করছে। এব্যাপারে মহাদেব পাল বলেন, তিনি এভাবে জনসমাগন সৃষ্টি করে দোকানদারী করবেন। যদি কোন মতা থাকে তাহলে তার দোকান বন্ধ করে দেন। এব্যাপারে ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছাঃ শাহানাজ বেগম বলেন, যারা নির্দেশনা অমান্য করে দোকানপাট খোলা রাখবে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। খুলনা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন শনিবারে বলেন, এই পরিস্থিতির মধ্যে যদি কেউ রমমরা ব্যবসা করতে চায়। তাহলে অবশ্যই উপজেলা পুলিশ দিয়ে তার বিরুদ্ধে আইনগত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।