ত্রাণের টিন টাকা হাতালেন ধনাঢ্য যুবলীগ নেতা

0
399

মোঃ মেহেদী হাসান,মণিরামপুর ॥ যশোরের মণিরামপুরে মোহর আলী নামে সাবেক যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে তথ্য গোপন করে সরকারি টিন ও টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ করা হচ্ছে, গ্রামে ধনাঢ্য ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত এই ব্যক্তি নিজের ছেলের নাম দিয়ে ত্রাণের দুই বান্ডিল টিন ও ছয় হাজার টাকা হাতিয়েছেন। খবরটি প্রকাশ পাওয়ায় ইউনিয়ন জুড়ে হইচই পড়েছে। এই ঘটনায় সবাই তীব্র নিন্দা ও ােভ প্রকাশ করছেন। মোহর আলী উপজেলার শেখপাড়া রোহিতা গ্রামের মৃত তৌহিদ সরকারের ছেলে। তিনি ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক আহবায়ক। এছাড়া তিনি একটি স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদরাসা ও একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চলমান পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি। সরেজমিন খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মোহর আলী মায়ের সূত্রে পাওয়া ১৬-২০ বিঘা জমির মালিক। তার নিজের ও পরিবারের রয়েছে দুইটি ডিপকল (সেচ কাজে ব্যবহৃত), রয়েছে ব্যবহৃত দামি দুইটি পালসার মোটরসাইকেলও। শেখপাড়া রোহিতা গ্রামের দশজন ধণাঢ্য ব্যক্তির মধ্যে সে একজন। এই ব্যক্তি নিজেকে দুস্থ সাজিয়ে ছেলের নামে ত্রাণের টিন ও টাকা হাতিয়েছেন। সম্প্রতি সুপার সাইকোন আম্ফানে মণিরামপুরে তিগ্রস্থ কয়েক হাজার পরিবারের মধ্যে ৭৪ জনকে জেলা প্রশাসকের প থেকে দুই বান্ডিল করে টিন ও ছয় হাজার টাকার চেক দেওয়া হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার মণিরামপুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহসান উল্লাহ শরিফী এই টিন ও চেক বিতরণ করেন। ৭৪ জনের তালিকার ৫০ নম্বর সিরিয়ালের আল-মামুন নামটি এই মোহর আলীর ছেলের। এদিকে মোহর আলী ত্রাণের টিন টাকা পাওয়ায় হতবাক এলাকাবাসী। এলাকাজুড়ে বইছে নিন্দার ঝড়। স্থানীয়রা বলছেন,মোহরের মত ধনী ও রাজনৈতিক লোক যদি ত্রাণের টিন টাকা পায় তাহলে এলাকায় আর কেউ গরিব থাকলো না। মোহর আলী নিজেও ছেলের নামে ত্রাণের টিন এবং টাকা পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, আমি উপজেলায় টিন ফেরত পাঠাচ্ছি। স্থানীয় চার নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ রাসেদ আলী বলেন, আমার দেখা চোখে ঝড়ে পাড়ার ৫-৭ জন হতদরিদ্র লোকের ঘর ভেঙেছে। তারা কেউ কিছু পাইনি। আর মোহর আলীর মত ২০ বিঘা জমির মালক যদি ত্রাণের টিন পায় তাহলে কি হলো? এ কেমন রাজনীতি? ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোহিতুল ইসলাম বলেন, ওয়ার্ডে কারা টিন পাইছে জানি না। মোহর টিন পাওয়ার যোগ্য না। রোহিতা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হাফিজুর রহমান বলেন, মোহর আলী অধিক স্বচ্ছল ব্যক্তি। সে ৩০-৩৫ বিঘা জমির মালিক। সে ত্রাণের টিন পাওয়াটা মোটেও যুক্তিগত না। তারমত লোক টিন নিলে জনগনের সেবা হবে কি করে? রোহিতা ইউপি চেয়ারম্যান আবু আনছার সরদার বলেন, মোহর আলীর বিল্ডিং বাড়ি। সে কি করে টিন টাকা পেলো। এদের কোন চরিত্র নেই। জানতে চাইলে মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহসান উল্লাহ শরিফী বলেন, মোহর আলী নামে স্বচ্ছল এক ব্যক্তি তথ্য গোপন করে ত্রাণের টিন টাকা নিয়েছে বলে অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here