ভারতীয় পাসপোর্টে এসে বাংলাদেশের নাগরিক দাবি

0
252
আলমগীর হায়দা, শ্যামনগর ব্যুরো: সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় একজন ভারতীয় নাগরিক পাসপোর্টে বাংলাদেশে আসার পর শ্যামনগর উপজেলা নির্বাচন কমিশনের অফিসে এসে ভোটার আইডি কার্ড করার অভিযোগ উঠেছে। তার ভারতীয় আইডি কার্ডে আকতার চৌধুরী নাম থাকলেও বাংলাদেশে আকতার হোসেন নামে আইডি কার্ড করেছেন বলে জানা গেছে। পিতার নাম ভারতের আইডি কার্ডে শামসুদ্দিন চৌধুরী থাকলেও বাংলাদেশে শামসুর রহমান সরদার দেওয়া হয়েছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, শ্যামনগর উপজেলার ভুরুলীয়া ইউনিয়নের সিরাজপুর গ্রামের শামসুর সরদারের ছেলে দীর্ঘ ৪০ বছর আগে পরিবারকে না জানিয়ে ভারতে পাড়ি জমায়, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কোলকাতা শহরের Q-606,S.H রোড রাজাবাগান কোলকাতা ২৪ এই ঠিকানায় পরিবারসহ বসবাস করে আসছেন। তিনি দীর্ঘ চার দশক ধরে দেশের বাড়ি শ্যামনগর উপজেলার সিরাজপুর গ্রামের বসবাসরত তার পরিবারের কারো খোঁজ খবর নেননি। হটাৎ করে বেশ কিছু দিন আগে ভারত থেকে পাসপোর্টে এসে শ্যামনগর উপজেলা নির্বাচন কমিশন থেকে ভোটার আইডি কার্ড তৈরি করেছেন বলে জানা যাচ্ছে। তবে অল্প সময়ের মধ্যে ভোটার আইডি কার্ডের নমুনা কপি হাতে পেয়েছেন কি করে তা নিয়ে বেশ আলোচনায় এসেছেন তিনি। কোন সূত্র নিয়ে নির্বাচন কমিশন অফিস থেকে ভোটার আইডি কার্ডে নাম উঠলো এসব প্রশ্ন তুলেছেন সাধারণ মানুষ। অন্যদিকে বাংলাদেশের আইডি কার্ড করার পর তার পিতা শামসুর রহমানের জমির ভাগ বুঝে নিতে ভাইদের কাছ থেকে তিনি দলিল গুলো বুঝে নেন। এবং তার নামীয় জমিগুলো বিক্রি করবে বলে জানা গেছে। এরপর জমি বিক্রি করে টাকা গুলো সরকারকে আয়কর না দিয়ে অবৈধ ভাবে হুন্ডির মাধ্যমে ভারতে পাচারের পাইতারা চলছে বলে শোনা যাচ্ছে। সুধু তাই নয় একই ব্যক্তি দুই দেশের নাগরিক কিভাবে হয় তা নিয়ে এলাকায় নানা ধরনের আলোচনা সমালোচনার ঝড় উঠেছে। আরও শোনা যাচ্ছে, শ্যামনগর উপজেলার নির্বাচন কমিশনের অফিস থেকে মোটা অংকের টাকা মাধ্যমে তিনি ভোটার আইডি কার্ড তৈরি করে নেন। যা রীতিমত হতভাগ করছে সাধারণ মানুষকে। তবে উপজেলা নির্বাচন অফিস বলছে ভিন্ন কথা, তারা বলছেন আমরা কাউকে টাকার বিনিময়ে আইডি কার্ড করে দেয় না। উপযুক্ত নথিপত্র থাকলে কার্ড করে দেয়। সাধারণ মানুষ বলছে আকতার ভারতের সকল ধরনের সুবিধা ভোগ করছে সে দেশের আইডি কার্ডের মাধ্যমে, এছাড়া বাংলাদেশের আইডি কার্ড নিয়ে এই দেশের সকল সুবিধা ভোগ করছে। আসলেই আকতার নামের এই লোকটির আসল চেহারার পিছনে অন্য কোন উদ্দেশ্য আছে কিনা তা নিয়ে এলাকায় সন্দেহের দানা বেঁধেছে। কেউ কেউ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন, বলেছেন, এ ঘটনায় তার কাছে জিজ্ঞাসাবাদ করলে আসল রহস্য উদঘাটন করা যেতে পারে। এই বিষয়ে আকতার হোসেনের কাছে 01867293273 এই নাম্বারে ফোন দিলে তিনি রিসিভ করেননি। শ্যামনগর উপজেলা নির্বাচন কমিশন অফিসের কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম বলেন, দুই দেশের নাগরিক হয়ে কেউ থাকতে পারে না। তবে এলাকায় যেনে আমরা আইডি কার্ড করে দেয়। যদি এমন ধরনের অভিযোগ আসে তাহলে যাচাই বাছাই করে কার্ড বাতিল করব।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here