ভুমি দস্যু হাফিজুর রহমান বটু গংদের ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তের সাতকাহন-২ সহায় সম্বলহারাদের আর্তনাদে ভারি হয়ে উঠেছে বকচর এলাকার পরিবেশ,পাষন্ড বটুগংদের শাস্তির দাবিতে সোচ্চার এলাকাবাসী !!!

0
374

জি এম অভি : যশোর শহরের বকচর হুশতলা এলাকার চিহ্নিত ভুমিদস্যু হাফিজুর রহমান বটু গংদের অত্যাচার আর নির্যাতনে সর্বহারা পরিবার গুলোর আর্তনাদ থামছে না। এসব অসহায় মানুষের আত্সচিৎকারে ভারি হয়ে উঠেছে এলাকার পরিবেশ। ভুমিদস্যু এই দূর্বৃত্তদের শাস্তির দাবিতে সোচ্চার হয়ে উঠেছে এলাকার সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে জনপ্রতিনিধি, শিক্ষকসহ মসজিদের ইমাম ও মুসল্লিবৃন্দ। এদিকে দখলবাজ ভুমিদস্যু হাফিজুর রহমান বটুগং ও তার সহযোগীরা দৈনিক যশোর পত্রিকায় তাদের মুখোশ উন্মোচনের খবর প্রকাশিত হওয়ার পর দিশেহারা হয়ে পড়েছে। তারা শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা করছে। প্রকাশিত খবরের সত্যতা আড়াল করতে তাদের হেনচেষ্টার কোন ত্রুটি নেই। কিন্তু তারপরও এই পাষন্ড বটুগংদের মুখোশ উন্মাচন করতে সোচ্চার এলাকাবাসী। তারা দৈনিক যশোর দপ্তরে ফোন করে এই চক্রান্তকারীদের মুখোশ উন্মোচন করার জন্য পত্রিকা কর্তৃপক্ষকে যেমন ধন্যবাদ জানান তেমনি বটু গংদের অন্যায় অত্যাচার ও ভুমি দস্যুতার চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়ে সহায়তা করেন। এদিকে ভূমিদস্যু হাফিজুর রহমান বটুকে গত শুক্রবার জুম্মার দিনে স্থানীয় কবরস্থান মসজিদের সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে এলাকাবাসী অপসারণ করেছে। তাদের বক্তব্য হচ্ছে কোন ভুমি দস্যু মসজিদ কমিটির সেক্রেটার বা সদস্য হতে পারে না।স্থানীয়রা জানান, যশোর পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের বকচর এলাকার আদি বাসিন্দা আব্দুল জব্বার গং। তারা পৈত্রিক ভাবে বহু জায়গাজমির মালিক ছিল। কিন্তু নিরক্ষর জব্বার শেখের মৃত্যুর পর তার ওয়ারেশগণ ওই জমিজমা ঠিকমতো পরিচর্যা করতে না পারায় তা হাত ছাড়া হতে শুরু করে। এক পর্যায়ে মৃত জব্বার শেখের ছেলে শেখ ওমর আলী তার অংশের ২ একর ৬৪ শতক জমি তার ছেলে হযরত আলী বাবুকে হেবা দলিল মুলে রেজিষ্ট্রি করে দেন। কিন্তু অদ্যাবধি বাবু সেই পৈত্রিক সম্পত্তিতে নিজের দখল প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। তার আগেই ওই জমির ওপর কুনজর পড়ে স্থানীয় ভুমিদস্যু খ্যাত মৃত আবুল হোসেন শেখের ছেলে আমির হোসেন মনু ও কাঞ্চন সরদারের ছেলে হাফিজুর রহমান ওরফে বটু গংদের। এক পর্যায়ে তাদের সাথে হাত মেলায় আমির হোসেন মনুর ছেলে আবুল কাশেম, নুর মোহাম্মদ খানের ছেলে আলামিনসহ অন্যরা। এই চক্রটি নিরক্ষর শেখ ওমর আলীর দুর্বলতা ও অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে জালজালিয়াতির মাধ্যমে উক্ত ২একর ৬৪ শতক জমির মালিকানা স্বত্ত্ব জোর করে দখল করে নেয়। এক পর্যায়ে হাফিজুর রহমান বটু নিজে দাতা হিসেবে মোটা অংকের টাকায় এই জমির একাংশ শেখ ইশারত আলীর ছেলে হাফিজুর রহমানের নামে পাওয়ার অব এ্যাটর্নী করে দেয়। ওই পাওয়ার অব এ্যাটর্নী মুলে হাফিজুর রহমান বটু ও তার সাগরেদ শেখ হাফিজুর রহমান বকচর ও শংকরপুর মৌজার বিভিন্ন দাগের জমি ভূয়া মালিক সেজে বিভিন্ন জনের কাছে উচ্চমুল্যে বিক্রি করে দেয়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এস. এ ৩১ খতিয়ানভুক্ত ৬০ দাগের ৮৫ শতক, এস এ ৮১ খতিয়ানভুক্ত ৬৯ দাগের ৫৩ শতক,এস এ ১২৮ খতিয়ানভুক্ত ৫৪ দাগের ১.০৩ একর জমি, ৫৫ দাগের ৫১ শতক ও শংকরপুর মৌজার এস এ ১০৬৫ দাগের ৬৬ শতক জমি বিভিন্ন জনের নামে কবলা দলির মুল্যে বিক্রি করেছে হাফিজুর গং। অনুসন্ধানে জানা গেছে, ৫৫ দাগে কবির, গোলাম রসুল ও হাসান, ৬০ দাগে পারভীন,বানু ও কালাম এবং শংকরপুরের ১০৬৫ দাগে আজিজুল ডাক্তার,আরোজ আলী, কদম আলী ও নুর নবীগং বর্তমানে মালিকানা ভোগ দখল করছে। এরা সকলেই হাফিজুর গংদের কাছ থেকে উচ্চমুল্যে ওই জমি ক্রয় করেছ্ েকিন্তু মজার বিষয় হচ্ছে অদ্যাবধি ক্রেতারা উক্ত জমিরি মিউটেশন বা সেপারেশন সম্পন্ন করে নিজেদের নামে খতিয়ান ভুক্ত পর্চা বা দাখিলা কাটতে পারেননি। তারা বহুবার নড়াইল কাছারির পৌর ভুমি অফিসে এসব বিষয়ে যোগাযোগ করেও কোন ফল না পেয়ে দাতাগংদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। ভুমি অফিস বলছে, এই জমির দাতা হাফিজুর গংরা আদৌও মালিক নয়। জমির প্রকৃত মালিক শেখ আব্দুল জব্বারের ওয়ারেশ সূত্রে শেখ ওমর আলী ও তার পুত্র হযরত আলী বাবুগং। ফলে ক্রেতাদের নামে দলিল থাকলেও তা নামপত্তনের যোগ্য নয়।এদিকে এই ভুমিদস্যু হাফিজুর রহমান বটু ও হাফিজুর রহমান, আল আমিন, আবুল হোসেন শেখ ও তার ছেলে আমির হোসেন মনুগং উক্ত ওমর আলী শেখের জায়গাজমি জোরপূর্বক ভোগ দখল করছে ও বেচা বিক্রি করে কালো টাকার মালিক বনে যাচ্ছে। এখানেই শেষ নয়, সম্প্রতি হযরত আলী বাবু যশোরের যুগ্ম জেলা জজ ১ম আদালতে ওই ভুমি দস্যুদের বিবাদী করে একটি দেওয়ানী মামলা রজু করেন। মামলায় মৃত আবুল হোসেন শেখের ছেলে আমির হোসেন মনু, মেয়ে সখিনা খাতুন,শেখ ইশারত আলীর ছেলে হাফিজুর রহমান, নুরুল হুদার ছেলে হারুন অর রশীদসহ ২৮জন ভোগদখলকারীকে অবৈধ দখলদার দাবি করে বিবাদী করা হয়েছে। যা বর্তমানে বিচারাধীন। এদিকে এই মামলা করায় আঁতকে ওঠে বটু গং। তারা মামলার বাদী হযরত আলী বাবুকে ম্যানেজ করতে তার হাতে পায়ে ধরে কিছু নগদ অর্থ দিয়ে তাকে ঠান্ডা করার চেষ্টা করেন। একই সাথে নিরক্ষর হযরত আলী বাবুকে ভুল বুঝিয়ে, নগদ টাকার লোভ দেখিয়ে তার ব্যাংক একাউন্টের ২টি ব্লাংক চেক হাতিয়ে নেয় বটু। বর্তমানে হযরত আলী বাবু ওই চেক ফেরত চাইলে বটু ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা বাবুকে নানা ভাবে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এমতাবস্থায় হযরত আলী বাবু ও তার পিতা বৃদ্ধ ওমর আলী শেখ জীবনাশংকায় ভুগছ্ েতাদের আশংকা কোটি কোটি টাকার এই সম্পত্তিই হয়তো তাদের জীবনের কাল হয়ে দাঁড়াচ্ছে। কারন ইতিমধ্যে এলাকাবাসী সোচ্চার হয়ে উঠেছে ওই ভুমি দস্যু হাফিজুর রহমান বটু ও তার সাঙ্গপাঙ্গদের বিরুদ্ধে। স্থানীয় মসজিদের মুসল্লিদের দাবির প্রেক্ষিতে গত শুক্রবার মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে বটুকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এলাকাবাসীর বক্তব্য হচ্ছে কোন ভুমি দস্যুকে মসজিদ কমিটিতে রাখা যাবে না। এদিকে ওই ঘটনার পর হাফিজুর রহমান বটু ও তার গ্যাংদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে শুরু কেেরছে এলাকাবাসী। তাদের দাবি হচ্ছে শুধু জমিজমা সেটেলমেন্ট করেই এই চক্র খ্যান্ত হচ্ছে না। তারা এলাকায় মাদক বিক্রি থেকে শুরু করে নানা ধরনের আনিয়ম দূর্নীতি ও চোরাকারবারীর সাথে জড়িত । তাদের বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর অভিযোগের অন্ত নেই। এই চক্র গ্রামের সহজ সরল মানুষ গুলোর দুর্বলতার সুযোগে তাদেরকে সর্বশান্ত করে আজ কোটি পতি বনে যাচ্ছে। অথচ প্রকৃত সম্পত্তির মালিকরা ঘুরছে রাস্তায় রাস্তায়। তাদের দুবেলা দুমুঠো ভাত জুটছে না। আর তাদেরই জমাজমি জবর দখল করে আজ বটু গংরা সমাজপতি। মসজিদ কমিটির নেতা হচ্ছেন। সামজিক ভাবে প্রভাব প্রতিপত্তির বুনিয়াদে একদা কপর্দক শুন্য বটু ও তার চ্যালাচামুন্ডুরা আজ ধনী। এলাকাবাসী বলছেন, এতো দিন তারা ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পাননি। কিন্তু আজ তাদের চোখ খুলে দিয়েছে মিডিয়ার বন্ধুরা। তারা সাহস করে আজ কথা বলতে পারছে। কিন্তু তারপরও ভেতরে ভেতরে ভয় করছে। কারন এই বটু গংরা একদিকে যেমন অবৈধ টাকার মালিক হয়েছেন অন্যদিকে নানা ধরনের সমাজ বিরোধী কর্মকান্ডে তাদের জুড়ি নেই। ফলে যে কোন স্বার্থের কারনে তারা মানুষের জীবন পর্যন্ত নিতে পারে। এই কারনে এলাকাবাসী তাদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পুলিশ প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।এদিকে এসব বিষয়ে আতœপক্ষ সমর্থনের জন্য বার বার যোগাযোগ করা হলেও হাফিজুর রহমান বটু এই বিষয়ে এই প্রতিবেদকের সাথে কোন প্রকার কথা বলতে রাজি হয়নি। এমনকি তিনি কিভাবে জব্বার শেখের সম্পত্তির ওয়ারেশ প্রাপ্ত হলেন ? কিভাবে তিনি এই সম্পত্তির মালিক হিসেবে ইশারত আলীর ছেলে হফিজুর রহমানকে পাওয়ার অব এ্যাটর্নী প্রদান করলেন ? কিভাবে হাফিজুর গং উক্ত ওমর আলী শেখ ও তার পুত্র হযরত আলী বাবুর জমির মালিক হয়ে অন্যত্র বিক্রি করলেন ? সে সব বিষয়ের স্বপক্ষে কি কি কাগজপত্র তাদের আছে ? ইত্যাদি বিষয়ে কোন সদুত্তর দেননি ও কোন ডকুমেন্ট দেখাতে পারেননি হাফিজুর রহমান বটু গং। স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি বলছেন উপরোক্ত কোন প্রশ্নের সদুত্তোর হাফিজুর রহমান বটু তার তার লোকজনের কাছে নেই। যে কারনে তারা বার বার বলার পরও কোন কাগজপত্র দেখাতে পারছেন না। আর এ থেকে প্রমানীত হয় বটু গং জোর পূর্বক নিরক্ষর ওমর আলী শেখ ও তার পিতা জব্বার আলী শেখের নিরক্ষরতার সুযোগ নিয়ে জাল জালিয়াতির মাধ্যমে উক্ত বিষয় সম্পত্তির মালিক বনে গেছেন। যা আইন আদালতে প্রমানিত হবে। এদিকে হাফিজুর রহমান বটু ও তার সাঙ্গপাঙ্গদের অতীত ও বর্তমান কর্মকান্ড ও অর্থ বিত্তের উৎস খুজতে মাঠে নামছে একটি গোয়েন্দা সংস্থার মাঠ কর্মীরা। এছাড়া জেলা দূর্নীতি দমন কমিশনের কর্মকর্তারাও এই বিষয়ে পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত খবরের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিচার বিশ্লেষন করছেন বলে জানা গেছে। – চলবে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here