শার্শায় মাদক বিক্রির প্রতিবাদ করায় মাদক মামলার আসামী হয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে দিন মুজুর মফিজুর

0
383

শার্শা(যশোর)প্রতিনিধি ঃ যশোরের শার্শার অগ্রভুলোট গ্রামে আবু কালাম নামে এক মাদক ব্যবসায়ীর মাদক বিক্রির প্রতিবাদ করায় মাদক মামলার আসামী হয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে মফিজুর রহমান(৪২)নামে এক যুবক। মফিজুর শার্শার অগ্রভুলোট গ্রামের মৃত ইমাম হোসেনের ছেলে। সে পেশায় একজন দিন মুজুর। মাদক ব্যবসায়ী আবু কালাম স্থানীয় প্রভাবশালীদেও ছত্র ছায়ায় মাদক ব্যবসা করায় তার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাইনা।
একলিখিত অভিযোগে জানাগেছে, গত ১২ জুলাই সন্ধারাতে দিন মুজুর মফিজুর অগ্র ভুলোট বাজারে সুমনের চায়ের দোকানে কেরামবোর্ড খেলছিল। এমন সময় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে অগ্র ভুলোট গ্রামের মৃত বজলুর রহমানের ছেলে চিহ্নিত মাদক সম্্রাট, পুলিশের সোর্স আবু কালাম শার্শা থানার কয়েকজন পুলিশ দিয়ে দিন মুজুর মফিজুরকে আটক করায়। এ সময় ভুলোট বাজারের স্থাণীয় অর্ধশত মানুষের সামনে পুলিশ মফিজুরের দেহ তল্লাশী করে কিছু না পেয়ে ছেড়ে দেয়। কিছুক্ষন পরে চায়ের দোকানের পাশে একটি সিগারেটের প্যাকেটে ১১৩ পিস ভারতীয় ইয়াবা ট্যাবলেট পাওয়া যায়। পুলিশ ট্যাবলেট জব্দ করে থানায় নিয়ে যায়। ঐ দিন রাতেই শার্শা থানার পুলিশ বাদী হয়ে মফিজুরের নামে মাদক মামলা দেয়। যার মামলা নং ১৬। তাং ১২/০৭/২০। মামলার খবর শুনে দিন মুজুর মফিজুর পুলিশের ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। স্থানীয়রা জানান, অগ্র ভুলোট গ্রামের মাদক ব্যবসায়ী ও পুলিশের সোর্স আবু কালাম। সে দীর্ঘ দিন ধরে ভারত থেকে মাদক এনে পাইকারী ও খুচরা বিক্রি করে। সে এলাকায় ফেনসিডিল, ইয়াবা ও গাাঁজা বিক্রেতা হিসেবে পরিচিত। মাদক ব্যবসায় তার বিরোধিতা করলে প্রতিবাদকারীকে পুলিশ দিয়ে মাদক মামলা দেওয়ার হুমকি দেয় । স্থানীয়রা জানায়, দিন মুজুর মফিজুরও আবু কালামের ষড়যন্ত্রে মাদক মামলার শিকার। এ ছাড়া অগ্রভুলোট গ্রামের খায়রুল ইসলাম ওরফে বড় খায়রুল, দক্ষিন পাড়ার ছোট খায়রুল ও মেছেন নামে তিন দিন মুজুরের নামেও পুলিম দিয়ে হয়রানি করেছে। স্থানীয়রা আরও জানান, পুলিশের সোর্স বিধায় আবু কালাম যে কোন ব্যাক্তিকে হুমকি ও মামলার ভয় দেখায়। অভিযোগ রয়েছে, শার্শা থানা ও বাগআঁচড়া ফাঁড়ির পুলিম প্রতিনিয়ত আবু কালামের বাড়িতে যায়, সময় কাটায় ও খাওয়া – দাওয়া করে। অভিযোগে আরও জানাগেছে, আবু কালাম ও তার স্ত্রী পারভিনা খাতুনের নামে একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। কিছুদিন আগে আবু কালামের ছেলে আবু সাইদ(১৮)কে ১৩শ৩৫ পিস ইয়াবাসহ বিজিবি আটক করে। আবু সাইদ এখন জেল হাজতে রয়েছে। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে, মাদক ব্যবসায়ী আবু কালাম জানান, সে মফিজুরকে মাদক দিয়ে ধরিয়ে দেননি। তার নিজের নামে, তার স্ত্রী ও ছেলের নামে বিরুদ্ধে মাদক মামলা আছে বলে শিকার করেন তিনি। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে শার্শা থানার এস আই রবিউল ইসলাম জানান, মফিজুরকে আটক করার পর স্থানীয়রা তাকে ছিনিয়ে নিয়েছে। এব্যাপারে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ জানান, এ ব্যাপারে তিনি কিছুই জানেন না। তবে বিষয়টি তদন্ত দাবী করেন তিনি। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে , শার্শা থানার অফিসার ইনচার্জ বদরুল আলম খান জানান, মফিজুর নামে এক ব্যাক্তির বিরুদ্ধে মাদক মামলা হয়েছে। তিনি বলেন মফিজুরকে ফাঁসানো হলে তা তদন্ত করে প্রমানিত হলে আইনগত ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভুক্তভোগি দিনমুজুর মফিজুরের পরিবার বিসয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করে ষড়যন্ত্র ও মিথ্যা মামলা থেকে অব্যহতি পেতে শার্শা থানা ও,সি ও যশোর জেলা পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here