মণিরামপুরে শর্বরী ফার্মেসী মালিকের খুটির জোর কোথায় দীর্ঘদিন মেয়াদউত্তীর্ন ঔষুধ বিক্রি করে আসলেও রয়েছে বহাল তবিয়াতে

0
358

আনিছুর রহমান, স্টাফ রির্পোটার : মণিরামপুরে মশিয়াহাটি বাজারের শর্বরী ফার্মেসী মালিক সুকুমার বিশ্বাসের খুটির জোর কোথায়। দীর্ঘদিন মেয়াদি উত্তীর্ন ঔষুধ বিক্রি করে আসলেও এখনও রয়েছে বহাল তবিয়াতে। এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলে ফার্মেসী মালিক সুকুমার বিশ্বাস দোকান বন্ধ করে প্রশাসন ও নামধারী সংবাদকর্মিদের ম্যানেজ করতে দৌড় ঝাঁপ শুরু করে। অভিযোগ উঠেছে, শর্বরী ফার্মেসীর মালিক তাদেরকে ম্যানেজ করে এ যাত্রা রক্ষা পাচ্ছে। অথচ ফার্মেসী মালিকের মেয়াদউত্তীর্ন ওষুধ সেবন করে এলাকার শত শত রোগী মৃত্যুঝুকিতে থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসন সম্পূর্ন নির্বিকার রয়েছে। ফলে বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য স্থানীয়রা সংশ্লিষ্ট উদ্ধোতন কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবী জানিয়েছেন।
জানাযায়, উপজেলার কুলটিয়া ইউনিয়নের মশিয়াহাটি বাজারে শর্বরী ফার্মেসীতে দীর্ঘদিন ধরে একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে মেয়াদউত্তীর্ন ওষুধ বেচাকেনা করে আসছে। অভিযোগ রয়েছে এ সিন্ডিকেটের প্রধান সুকুমার বিশ্বাসের আওতায় রয়েছে এলাকার বেশ কয়েকজন পল্লী চিকিৎসক। ফার্মেসী মালিক খুলনা ও যশোরের পাইকারী মোকাম থেকে দেশি-বিদেশী বিভিন্ন কোম্পানীর মেয়াদউত্তীর্ন ওষুধ স্বল্প মূল্যে সংগ্রহ করেন। পরে ওই ওষুধের লেবেল ব্লেড দিয়ে ঘষে (মেয়াদের তারিখ) উঠিয়ে বাজার মূল্যে বিক্রি করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে ইতিপূর্বে মেয়াদউত্তীর্ন ওষুধ বিক্রিকালে কয়েকবার হাতেনাতে ধরা পড়েন শর্বরী ফার্মেসীর মালিক সুকুমার বিশ্বাস। কালীবাড়ি এলাকার মিজানুর রহমান অভিযোগ করেন, তার কাছেও বিক্রি করা হয়েছে মেয়াদউত্তীর্ন ওষুধ। কেসি সার্জিক্যাল এন্ড শিশু (প্রা:) হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা, প্রশান্ত কুমার বিশ্বাস জানান,দীর্ঘদিন ধরে মেয়াদউত্তীর্ন ওষুধ বিক্রির অভিযোগ রয়েছে সুকুমার বিশ্বাসের বিরুদ্ধে। গত ১৮ জুলাই শুক্রবার তিনি একজন রোগীকে প্রেসক্রিপশন করেছিলেন ন্যাপ্রো-এ ৫০০ ট্যাবলেট এবং রোলাক্স ৬০ ইনজেকশন। কিন্তু সন্ধ্যার দিকে ওই রোগী শর্বরী ফার্মেসী থেকে কোম্পানীর নির্ধারিত মূল্যেই (এমআরপি) ট্যাবলেট এবং ইনজেকশন ক্রয় করেন। রাতে ওই ইনজেকশন পুশ করার সময় মেয়াদউত্তীর্ন লক্ষ্য করা যায়। বিষয়টি জানাজানি হবার পর রোগীর স্বজনরা ওই রাতেই মশিয়াহটি বাজারে শর্বরী ফার্মেসীতে গিয়ে হামলা চালিয়ে সুকুমারকে লাঞ্চিতের পর দোকানে তালা ঝুলিয়ে দেয়। এক পর্যায়ে স্থানীয়দের ম্যানেজ করে সুকুমার মুচলেকা দিয়ে তাৎক্ষনিক রক্ষা পান। এ বিষয়ে ২০ জুলাই তথ্যবহুল সংবাদ প্রকাশিত হয়। প্রকাশিত সংবাদের সুত্র ধরে প্রশাসন বিষয়টি নজরে নিয়ে আসে। যার ফলে ফার্মেসীর মালিক সুকুমার বিশ্বাস দোকান বন্ধ করে তাদের ম্যানেজ করতে বিভিন্ন মহলে দৌড় ঝাঁপ শুরু করে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ঝাঁমেলা এড়াতে প্রশাসন ও এক শ্রেনীর সংবাদকর্মিদের ম্যানেজ করতে তিনি মোটা অংকের টাকা ব্যয় করে এ যাত্রা রক্ষা পাচ্ছেন। এছাড়াও অভিযোগ উঠেছে, গতমাসে মেয়াদউত্তীর্ন গ্লুকোজ পাউডার বিক্রিকালে সুকুমার ধরা পড়েন। এসময় স্থানীয়রা ওই গ্লুকোজের প্যাকেট সুকুমারের গলায় ঝুলিয়ে বাজারে ঘুরিয়ে নিয়ে বেড়ায়। তারপরও সুকুমার মেয়াদউত্তীর্ন ওষুধের কারবার করে আসছে। এ ব্যাপারে মেডিকেল অফিসার ডা: প্রশান্ত কুমার বিশ্বাস জানান, মেয়াদউত্তীর্ন ওষুধ ব্যবহার করলে রোগীর মৃত্যুর সম্ভাবনা থাকে শতকরা ৯৫ ভাগ। বাংলাদেশ কেমিষ্ট এন্ড ড্রাগিষ্ট সমিতি মণিরামপুর সাব কমিটির অবৈতনিক সম্পাদক আলমগীর হোসেন মন্টু জানান, মেয়াদউত্তীর্ন ওষুধ বিক্রি করা আইনগত দন্ডনীয় অপরাধ। তাকে অবশ্যই আইনের আওতায় আনা উচিত। যশোরের ড্রাগ সুপার রেহান হাসান জানান, গত মাসে তিনি শর্বরী ফার্মেসীতে অভিযান চালিয়ে এক বস্তা অবৈধ স্যাম্পল উদ্ধার করে জরিমানা করেন। তবে এবারের অভিযোগ প্রমানিত হলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে তিনি জানান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here