অভয়নগরের মাছুরা হত্যা মামলায় আটক আরমানের স্বীকারোক্তি

0
305

স্টাফ রিপোর্টার : যশোর অভয়নগরের বুইকারা ড্রাইভার পাড়ার মাছুরা বেগম হত্যা মামলায় আটক আরমান আদালতে স্বীকারোক্তি জবানবন্দি দিয়েছে। একই এলাকার মাদক বিক্রেতা ওয়াহিদুল তাকে ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করেছিল। এরপর তারা দুইজন লাশ বস্তায় ভরে পুকুর পাড়ে ফেলে আসে। শনিবার আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে এ তথ্য জানিয়েছে আটক আরমান। এদিন আসামির এ জবানবন্দি গ্রহণ শেষে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মামুনুর রহমান। আরমান নওয়াপাড়া স্টেশন বৌবাজার এলাকার মৃত ওয়াহাবের ছেলে।
আরমান জবানবন্দিতে জানিয়েছে, ওই সময় সে কাঠ মিস্ত্রি ছিল। মাঝে মধ্যে ওয়াহিদুলের কাছ থেকে মাদক কিনে সেবন করত। ২০১৫ সালের ওই রাতে নেশা করা ইচ্ছা হওয়ায় ওয়াহিদুলের বাড়ি যেয়ে দুই পুরিয়া গাঁজা কিনে এলাকায় যেয়ে সেবন করে। এরপর গভীর রাতে আবারও গাঁজা কিনতে ওয়াহিদুলের বাড়িতে যাচ্ছিল আরমান। পথিমধ্যে তার পূর্ব পরিচিত মাছুরার সাথে দেখা হয়। সে মাছুরাকে সাথে নিয়ে ওয়াহিদুলের বাড়িতে গাঁজা কিনতে গেলে তাদের মারপিট করে ঘরেম মধ্যে নিয়ে যায়। এরপর মাছুরাকে ধাক্কা দিলে ওয়ালে গেলে পড়ে যায়। ওয়াহিদুল তখন একটি ছুরি দিয়ে মাছুরার গলা কেটে হত্যা করে। এরপর তারা দুইজন একটি মাছুরার লাশ বস্তায় ভরে বৌবাজার মন্দিরের পুকুরের পাড়ে লাশ ফেলে আসে। মামলার অভিযোগে জানা গেছে, মাছুরার স্বামীর সাথে বনিবনা না হওয়ায় ছেলের কাছে ঢাকায় থাকত। সে মাদকাশক্ত হয়ে পড়ে। মাঝেমধ্যে পিতার বাড়ি যশোর নওয়াপাড়ার বুইকারার ড্রাইভার পাড়ায় বেড়াতে আসত। ২০১৫ সালের ১২ আগস্ট তার মামাবাড়িতে বেড়াতে আসে মাছুরা বেগম। ১৩ আগস্ট ঢাকায় ফিরে যাওয়ার কথা বলে নিখোঁজ হয় মাছুরা বেগেম। ১৫ আগস্ট দুপুরে বৌবাজার মন্দিরের পুকুর পাড় থেকে মাছুরা বেগমের লাশ উদ্ধার করে স্থানীরা। এ ব্যাপারে নিহতে ছেলে মাসুদ শেখ বাদী হয়ে অপরিচিত ব্যক্তিদের আসামি করে অভয়নগর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলাটি বর্তমানে সিআইডি পুলিশ তদন্ত করছে। মামলারতদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই ফকরুল ইসলাম হত্যার সাথে জড়িত সন্দেহে আরমানকে আটক করে শনিবার আদালতে সোপর্দ করেন। আরমান হত্যার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে ওই জবানবন্দি দিয়েছে।
যশোরের ভোক্তা অধিকার সংরক্ষন অধিদফতর সদরের আমদাবাদ বাজারে অভিযান চালিয়ে সাড়ে ১৩ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেছে। আইচক্রিমে ক্ষতিকর রঙ, নোংরা পরিবেশ ও ফিজিশিয়ান শ্যাম্পল বিক্রির অপরাধে মামলা দিয়ে এ জরিমানা আদায় করা হয়। রোববার পরিচালিত এ অভিযানের নেতৃত্ব দেন ভোক্তা অধিকারের সহকারি পরিচালক ওয়ালিদ বিন হাবিব। সূত্রে জানা গেছে, সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষন অধিদফতর আমদাবাদ বাজারে অভিযান চালায়। এ সময় মুক্তা আইচক্রিম কারখানায় নোংরা পরিবেশ ও ক্ষতিকর রঙ ব্যবহারের অপরাধে মামলা দিয়ে ১২ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। এ ছাড়া আশা মেডিও হলে অভিযান চালিয়ে ফিজিশিয়ান শ্যাম্পল বিক্রির জন্য রাখার অপরাধে মামলা দিয়ে দেড় হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযানকালে ব্যবসায়ীদের মূল্য তালিকা টানানো ও হালনাগাদকরন, নির্ধারিত মূল্যে পণ্য বিক্রয় এবং ক্রয় রশিদ সংরণ করাসহ আবশ্যিকভাবে মাস্ক পরিধান করে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্রয়-বিক্রয় করার নির্দেশনা দেয়া হয়। অভিযানকালে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
ঝিকরগাছার নির্বাশখোলার খ্রিস্টান পাড়ার রানা বিশ্বাসের বাড়িতে ডাকাতির ঘটনায় আটক কুখ্যাত ডাকাত বাহার আলীর তরফদারের ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। রোববার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক গৌতম মল্লিক রিমান্ড আবেদনের শুনানি শেষে এ আদেশ দিয়েছেন। বাহার আলী নাভারন পুরতান বাজার এলকার আশিকুর রহমানের বাড়ির ভাড়াটিয়া। মামলার অভিযোগে জানা গেছে, গত ২৮ আগস্ট গভীর রাতে একদল ডাকাত রানা বিশ্বাসের বাড়িতে হানা দেয়। অস্ত্রের মুখে বাড়ির লোকজনদের জিম্মি করে সোনার গহনা, নগদ টাকাসহ ৫ লাখ ৮হাজার টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এ ব্যাপারে রানা বিশ্বাস অপরিচিত ৭/৮ জনকে আসামি করে ঝিকরগাছা থানায় ডাকাতি মামালা করেন। এ মামলায় আটক আব্দুস সালাম, তৌহিদুর রহমানের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে দলনেতা বাহার আলীকে আটক করা হয়। তদন্তকারী কর্মকর্তা আটক বাহার আলীর ৫ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে সোপর্দ করেন। গতকাল শুনানি শেষে বিচারক আসামির ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here