যশোরে প্রতি বছর এক হাজার কোটি টাকার সবজি উৎপাদিত হচ্ছে

0
548

জিএম অভি : যশোরে প্রতিবছর এক হাজার কোটি টাকার সবজি উৎপাদিত হচ্ছে। জেলার মানুষের চাহিদা পূরণ করে এসব সবজি দেশের বিভিন্ন জায়গায় পাঠানো হয়। সবজি চাষ অধিক লাভজনক হওয়ায় অনেকে এখন এই পেশায় ঝুঁকে পড়েছেন।
যশোর আঞ্চলিক কৃষি অফিস সুত্রে জানা গেছে, জেলার কৃষকরা মৌসুমে দু’বার সবজির আবাদ করে থাকেন। তবে এবার অতিরিক্ত বৃষ্টির কারনে অনেক সবজি দুই থেকে তিনবার চাষ করা হয়েছে। ফলে তুলনামুলকভাবে উৎপাদিত সবজির ফলন কম, বাজারেও দাম বেশী। কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের সুত্রঅনুসারে বর্তমানে জেলার আট উপজেলায় ৪ হাজার ৬শত ৯৫ হেক্টর জমিতে মুলা, বাধাকপি, ফুলকপি, ওলকপি, শিম, টমেটো, লাউ, বেগুন, সবুজশাক, লালশাক ও পালংশাকের চাষ হচ্ছে। জেলার বিভিন্ন উপজেলার সবজি চাষীদের মধ্যে সমিতি করে দেওয়ায় প্রান্তিক চাষীরা তাদের উৎপাদিত সবজির সঠিক দাম পাচ্ছে বলে জানালেন জেলার প্রশিক্ষন কর্মকর্তা কৃষিবিদ বিরেন্দ্র নাথ মজুমদার। তিনি আরও বলেন, কৃষকরা উন্নত জাতের বীজ ব্যবহার করে সবজি চাষ করছেন। তাই ফলনও প্রতি বছর অনেক বেশি পাচ্ছেন কৃষকরা। সবচেয়ে বেশি সবজির চাষ হয়ে থাকে সদর, চৌগাছা ও ঝিকরগাছা উপজেলায়।
এদিকে সবজি চাষীদের সাথে কথা বলে জানাযায়, এক বিঘা টমেটো চাষে প্রায় লাখ খানেক টাকা খরচ হয়, কপি চাষে খরচ হয় ২০ থেকে ২২ হাজার টাকা, সিম ও পটল চাষে লাগে ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকা। চাষীদের মতে বেগুন চাষে সবচেষে পরিশ্রম বেশী সেই সাথে খরচও লাগে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা। তবে মরিচ, সবুজশাক, লালশাক ও পালংশাকে খরচ কম।
যশোরের পাইকারি বাজার ঘুরে দেখা যায় সিম বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৮৫টাকা। খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১২০টাকা। বেগুন বিক্রি হচ্ছে পাইকারি বাজারে ৪৫ থেকে ৫০টাকা, খুচরা বাজারে ৭০থেকে ৮০টাকা, টমেটো পাইকারি বাজারে ৮০টাকা, খুচরা বাজারে ১শ’টাকা, পটল পাইকারি বাজারে ৪০ থেকে ৪৫টাকা, খুচরা বাজারে ৬০ থেকে ৬৫ টাকা। মুলা ৩০ টাকা খুচরা বাজারে ৪০টাকা। পাইকারি বাজারে কৃষকরা সরাসরি সবজি বিক্রি করেন। সেই সবজি ব্যবসায়ির মাধ্যমে আসে আড়তে। আড়ৎ থেকে বিক্রেতার মাধ্যমে খুচরা বাজারে বিক্রি হয়। যশোরের বড় সবজি বাজার সাতমাইলে কথা হয় ঢাকার বাজারে সবজি ব্যবসায়ি মনিরুলের সাথে। তিনি জানান, এখান থেকে ঢাকার বাজারে সবজি পাঠাতে তার কেজি প্রতি ৬টাকা খরচ লাগে।
বর্তমানে যেসব সবজি চাষ হচ্ছে ক্ষেত থেকে উঠে যাবার পর কৃষকরা ফের সবজির আবাদ শুরু করবেন। দুই মৌসুমে উৎপাদিত সবজি জেলার চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো হয়ে থাকে । যশোরের ৮টি উপজেলায় এখন পুরোদমে সবজির আবাদ চলছে। অনেক উপজেলায় আগে থেকে সবজির আবাদ করা হয়েছে। যার উৎপাদিত সবজি বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। কৃষি বিপনন অধিদপ্তরের বাজার কর্মকর্তা সুজাত হোসেন খান জানান, যশোরে প্রতিবছর হাজার কোটি টাকার সবজি বিক্রি হয়।
সরেজমিন সদর উপজেলার সাতমাইল এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সেখানে মাঠ জুড়ে সবুজের সমারহ। বিঘা বিঘা জমিতে কৃষকরা সবজির আবাদ করেছেন। সিমক্ষেত পরিচর্ষার সময় কথা হয় শাহবাজপুর গ্রামের আতিয়ার রহমানের সাথে। তিনি জানান, এবার তিনি এক বিঘা জমিতে শিমের চাষ করেছেন। এতে তার খরচ হবে ৪০ হাজার টাকার মতো। তার মতে বিঘা প্রতি সিম পাওয়া যাবে প্রায় ৩ হাজার কেজি। তিনি বলেন, যেহেতু সিম বাজারে উঠতে একটু সময় লাগবে তাই ৪০ টাকা কেজিও যদি বিক্রি করতে পারি তাহলে লক্ষাধিক টাকার সিম বিক্রি করতে পারবো। চুড়ামণকাটির উত্তরপাড়ার চাষি জালাল উদ্দিন জানান, তিনি সাড়ে ৫ বিঘা জমিতে মূলা, এক বিঘায় সিম এবং এক বিঘা জমিতে ফুলকপি আবাদ করেছেন। মূলা আবাদে তার খরচ পড়েছে বিঘায় ৬ হাজার, শিমে ৪০ হাজার ও ফুলকপিতে ২০ হাজার টাকা। বাঘারপাড়া উপজেলার ধলগ্রাম এলাকার কৃষক আবুল হোসেন জানান, তিনি ৩ বিঘা জমিতে এবার বেগুন চাষ করেছেন। এরই মধ্যে বেগুন বাজারে বিক্রি করা শুরু করেছেন মাত্র। তিনি জানান, এক বিঘা জমিতে বেগুন চাষে খরচ হয় ৪৫ হাজার টাকা। বিঘায় বেগুন পাওয়া যাবে প্রায় ২শ’ মণ । প্রাকৃতিক দূর্যোগ না হলে বাম্পার ফলন হবে বলে তিনি আশা করছেন। শহর থেকে ৩ কিলোমিটার দূরে নোঙরপুর গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, কৃষকরা সেখানে দলবদ্ধ হয়ে শুধু বাঁধা কপির আবাদ করেছেন। কাজের ফাকে কৃষকরা বলেন বর্তমান সবজির যে বাজার কোন দুর্যোগ যদি না হয় তাহলে ৩০দিনে মধ্যে বাজারে তুলতে পারবো। বুক ভরা আশা নিয়ে তারা বলেন ধানসহ অন্যান্য ফসলের লোকসান আমরা এবার সবজি চাষে তুলতে পারবো।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here