জসিম উদ্দিন, শার্শা : ২০২০ সালে এই প্রথম বারের মতো রেকর্ড পরিমাণ আলুর মূল্য বৃদ্ধিতে দিশেহারা হয়ে পড়েন মধ্যবৃত্ত নিম্নমধ্যবিত্ত, নিম্ন আয়ের মানুষ সহ সব শ্রেণি পেশার মানুষ। সে কারণে আলু সিন্ডিকেটের কারসাজি রোধ করতে সরকারের পক্ষ থেকে আলুর দাম নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।
হিমাগার পর্যায়ে প্রতি কেজি আলু ২৩ টাকা, পাইকারিতে ২৫ এবং খুঁচরা বাজারে সর্বোচ্চ ৩০ টাকা দাম নির্ধারণ করে বুধবার সকালে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে কৃষি বিপণন অধিদফতর।
পাশাপাশি এই দরে আলু বিক্রি নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসক ও বাজার কর্মকর্তাদের চিঠি পাঠানো হয়েছে। এই আদেশ অমান্য করে বেশি দাম রাখলে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে, দাম নির্ধারণ করার পর থেকে ২৪ ঘন্টা পার হেয় গেলেও যশোরের শার্শা উপজেলার বিভিন্ন বাজারে খুঁচরা প্রতি কেজি আলু বিক্রি করা হচ্ছে ৪০ থেকে ৪৫ টাকায়।
আর বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারের পক্ষে আলুর দাম নির্ধারণের পর হিমাগার থেকে শুরু করে পাইকারি ও খুঁচরা বাজারে কঠোর মনিটরিং করতে হবে। যাতে সরকার নির্ধারিত দামে আলু কিনে ভোক্তারা উপকৃত হতে পারেন।
চিঠিতে কৃষি বিপণন অধিদফতর জানায়, দেশে গত মৌসুমে প্রায় ১ দশমিক ৯ কোটি টন আলু উৎপাদিত হয়েছে। দেশে মোট আলুর চাহিদা প্রায় ৭৭ দশমিক ৯ লাখ টন। অর্থাৎ, গত বছর ৩১ দশমিক ৯১ লাখ টন আলু উদ্বৃত্ত থাকে। কিছু আলু রফতানি হলেও ঘাটতির আশঙ্কা নেই।
বাজার করতে আসা ক্রেতারা বলেন, বাজারে প্রতিটি পণ্যের দাম আকাশ ছোঁয়া। প্রতিদিন যা আয় হয় তা দিয়ে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতেই হিমশিম খেতে হয়। তারপর অন্যান্য খরচ তো আছেই। সে তুলনায় করোনার কারণে আয়-ইনকামও অনেক কমে গেছে। সেখানে ৪০-৪৫ টাকা কেজি দরে আলু কেনা অযৌক্তিক হয়ে পড়েছে ।
সরকার আলুর দাম নির্ধারণ করে দিলেও, বাজারে তদারকির অভাবে আলুর দাম বেশি নেওয়া হচ্ছে। তারা প্রশাসনের প্রতি বাজার মনিটরিং এর আহবান জানান।
এদিকে ব্যবসায়ীরা বলেন, আগের থেকে আলুর দাম কিছুটা কমেছে। ৫-৬ দিন আগেও যে আলু ৫৫-৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, তা এখন বিক্রি করছেন ৪৫ টাকা কেজি দরে।
আলুর দাম বেশি নেওয়া হচ্ছে প্রসঙ্গে আড়তদাররা জানান, সরকার যে আলুর দাম কমিয়েছে, সে আলু এখনও বাজারে এসে পৌঁছায়নি। বিধায় সরকার নির্ধারিত দামে তারা আলু বিক্রি করতে পারছেন না। তাই একটু বেশি দামে আলু বিক্রি হচ্ছে।















