ইভজিটিংয়ের প্রতিবাদ করায় শেখহাটি তরফনওয়াপাড়া গ্রামের একটি পরিবার জিম্মি জামিনে মুক্ত হয়ে ফের সন্ত্রাসী কর্মকান্ড ও চাঁদাবাজিতে মেতে উঠেছে কিশোর সন্ত্রাসী গ্যাংয়ের ক্যাডাররা

0
318

স্টাফ রিপোর্টার : যশোর শহরের শেখহাটি তরফ নওয়াপাড়া এলাকার একদল কিশোর সন্ত্রাসীদের ভয়ে স্থানীয় একটি পরিবার দিশেহারা হয়ে পড়েছে। ইভটিজিং ও হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা মামলার আসামী ওই সব টিনএজ সন্ত্রাসীরা জেল থেকে বের হয়ে ফের ওই পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকি দিয়ে মোটা অংকের চাঁদা দাবি করায় ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা এক প্রকার জিম্মি জীবন যাপন করছে। প্রায়শ: চিহ্নিত ওই সন্ত্রাসী চক্রের সদস্যরা অস্ত্র শস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ওই পরিবারের বাড়ির আশেপাশে অবস্থান নিয়ে বাড়ির বউঝিদের নানা ভাবে উত্যক্ত করছে। পুরুষ সদস্যদের হত্যার ভয় দেখাচ্ছে। তাদের এহেন কর্মকান্ডে গোটা পরিবারের সদস্যরা এক প্রকার জিম্মি হয়ে পড়েছে। তারা আশংকা করছেন যে কোন সময় ওই টিনেজার সন্ত্রাসীদের হাতে পরিবারের সদস্যরা খুন খারাবীর শিকার হতে পারে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্টরা পুলিশ প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন। এক লিখিত অভিযোগে জানা গেছে, গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে তরফ নওয়াপাড়া গ্রামের আকরাম হোসেনের বাড়িতে তার কয়েকজন আতœীয় বেড়াতে আসে। বেড়ানো শেষে ১৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টার দিকে ওই আতœীয় স্বজন তাদের গ্রামের বাড়ি পালবাড়ি নতুন খয়েরতলা এলাকায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে বের হয়। পথিমধ্যে তরফ নওয়াপাড়া গ্রামের বিপ্লবের বাড়ির সামনে পৌঁছালে তরফ নওয়াপাড়া গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে মুন্না, আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে পাপ্পু, নজরুল ইসলামের ছেলে বিশাল,নারু গোপালের ছেলে বাপ্পী ও সুলতানপুর গ্রামের মনু মিয়ার ছেলে দীপু ওরফে ডেঞ্জার দীপুসহ স্থানীয় একদল উঠতি মাস্তান তাদের পথ রোধ করে। এসব টিনেজার সন্ত্রাসীরা লিটনের স্ত্রী পুর্ণিমা(২২)কে ইভটিজিং শুরু করে। তারা পুর্ণিমার পড়নের শাড়ি ধরেও টানা হেচড়া করে। এ ঘটনায় পুর্ণিমার সাথে থাকা তার স্বামী লিটন, তপু, জানু ও পুর্ণিমার সাথে সন্ত্রাসীদের কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে ঘটনা বেগতিক দেখে সেখানে উপস্থিত স্থানীয়রা প্রাথমিক ভাবে বিষয়টি মীমাংশা করে দিয়ে ওই আতœীয়দের আকরামের বাড়িতে ফেরত পাঠায়। এদিকে এই ঘটনার জের ধরে সন্ত্রাসী মুন্না, পাপ্পু, বিশাল, দীপু, বাপ্পীসহ আরো ৭/৮জন দেশীয় অস্ত্র শস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ওই দিন রাত সাড়ে ১১টার দিকে আকরামের বাড়িতে চড়াও হয়। তারা লিটন, তপু, জানু, পুর্ণিমাসহ সেই মুহুর্তে বাড়িতে উপস্থিত অন্যান্যদের ওপর হামলা চালায় । তাদের হামলায় আকরাম, তার ছেলে সাগর, আকরামের স্ত্রী আছমা, বাড়ির ভাড়াটিয়া আমিনুর আহত হন। সন্ত্রাসীরা ধারাল অস্ত্র দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে আকরাম,তপু, পুর্ণিমা, সাগর, আমিনুর ও লিটনকে আঘাত করলে তারা গুরুতর জখম হয়। এখানেই শেষ নয়। সন্ত্রাসীরা আছিয়া বেগম, পুর্ণিমা ও জানু বেগমকে বিবস্ত্র করে শ্লীলতাহানিরও চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে গ্রামবাসি খবর পেয়ে এগিয়ে আসলে সন্ত্রাসীরা নানা প্রকারের ভয়ভীতি দেখিয়ে চলে যায়। পর দিন এই ঘটনায় গুরুতর আহত আকরামের ভাই লিয়াকত বাদী হয়ে যশোর কোতয়ালী মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। যার নম্বর -৫৪। ধারা১৪৩/৪৪৭/৩২৪/৩২৫/৩২৬/৩০৭/৩৫৪/৩৭৯/৫০৬ বাংলাদেশ পেনাল কোড। যশোর কোতয়ালী মডেল থানার সাব ইন্সপেক্টর স্বপন কুমার বিশ^াসকে মামলাটির তদন্ত ভার দেওয়া হয়। মামলার আইও এই মামলার কয়েকজন আসামীকে আটক করে জেল হাজতে প্রেরন করেন। কয়েকদিন পরেই আসামীরা জামিনে মুক্ত হয়ে এলাকায় ফিরে প্রতিশোধের নেশায় মরিয়া হয়ে উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে এসব আসামীরা মামলাটি প্রত্যাহার করে নেওয়ার জন্য মামলার বাদীকে নানা ভাবে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। শুধু তাই নয় সম্প্রতি এসব সশস্ত্র আসামীরা আকরামের বাড়িতে উপস্থিত হয়ে তাকে ও তার ছেলে সাগরকে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি প্রদান করে মামলার খরচ বাবদ নগদ ৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে ওই চাঁদা পরিশোধ না করলে পিতা পুত্রকে হত্যার করে লাশ গুম করে দেওয়া হবে বলেও সন্ত্রাসী মুন্না, পাপ্পু ও ডেঞ্জার দীপু হুমকি প্রদান করে। তারা বাড়িতে ঢুকে প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া দিয়ে বাড়ির লোকজনকে ভীত সন্ত্রস্ত করে তোলে। বিষয়টি তাৎক্ষনিক মামলার আইও সাব ইন্সপেক্টর স্বপন কুমারকে অবহিত করলে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ও আসামীদের অভিভাবকসহ এলাকাবাসীকে এ বিষয়ে সতর্ক করে আসে। কিন্তু পুলিশের ওই অভিযানে আসামীদের টনক নড়েনি। তারা এ সব বিষয়ে থানা পুলিশ করায় চাঁদার হার বাড়িয়ে ৫ লাখ টাকা দাবি করেছে। এদিকে জামিনে মুক্ত হয়ে আসামীদের এহেন কর্মকান্ডে আকরাম হেসেন ও তার পরিবারের সদস্যরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে জানান। তারা আশংকা করছেন এসব সন্ত্রাসীদের হাতে যে কোন সময় তাদের প্রাণ নাশের শংকা দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবারটি যশোরের মাননীয় পুলিশ সুপারের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here