স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোর শহরের কারবালা সিঅ্যান্ডবি রোড এলাকা থেকে ইসরাফিল হোসেন মান্নাফ (৪০) নামে এক শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল সকাল ১০টার দিকে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। নিহতের মাথায় ও মুখমন্ডলে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তিনি মণিরামপুর উপজেলার কাশিপুর গ্রামের মৃত বীরমুক্তিযোদ্ধা বজলুর রহমানের ছেলে এবং বকচর বিহারী কলোনীর মোস্তফা বাড়ির ভাড়াটিয়া।
নিহতের স্বজনদের দাবি স্ত্রীর পরকীয়াকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকান্ড হতে পারে। অবশ্য পুলিশ এ বিষয়ে কিছু বলতে রাজি হয়নি। স্বজন ও স্থানীয়রা জানান, গতপরশু রাতে নিজের বাইসাইকেল নিয়ে বের হয়েছিলেন মাটিকাটা স্কেভেটরের হেলপার মান্নাফ। রাতে আর বাড়িতে ফেরেননি তিনি। গতকাল সকালে কারবালা এলাকার বাসিন্দারা ফজরের নামাজ পড়ে বাড়ি ফেরার পথে মান্নাফের মরদেহ রাস্তার পাশে পড়ে থাকতে দেখে। এরপর পথচারীরা তার মোবাইল থেকে স্বজনদের ফোন দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ সকাল ১০টার দিকে নিহতের লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়। মান্নাফের মরদেহের পাশে তার ব্যবহৃত বাইসাইকেল ও একটি ভাঙ্গা ইট পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে ইট দিয়ে মাথায় আঘাত করে মান্নাফকে হত্যা করা হয়েছে।
নিহতের প্রতিবেশি আল-আমিন, মনির ও স্থানীয় বাসিন্দা সাইদ সরদার বলেন, মান্নাফের স্ত্রী সুমির সাথে মান্নাফের ভগ্নিপতি সাহালোমের পরিকিয়া ছিল। মান্নাফ দুই মাস আগে স্ত্রী সুমির সাথে অনৈতিক কর্মকান্ডে লিপ্ত থাকা অবস্থায় সাহালোমকে ধরে ফেলে । এ নিয়ে শালিশ বিচার হয় এবং স্ত্রী সুমিকে তালাক দেয় মান্নাফ । স্ত্রীকে তালক দেওয়ায় মান্নাফের সাথে ভগ্নিপতি সাহালোমের শত্রুতার সৃষ্টি হয়। এই হত্যাকান্ডের সাথে সাহালোমের হাত রয়েছে বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেন। জানতে চাইলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(ডিএসবি) তৌহিদুল ইসলাম বলেন, হত্যাকান্ডের ব্যাপারে বিস্তারিত বলা যাচ্ছেনা। পুলিশ বিষয়টি গভির ভাবে খতিয়ে দেখছে। নিহতের স্ত্রী সুমি ও ভগ্নি পতি সাহালোমের সাথে পরোকিয়ার বিষয়টিকে বেশি গুরুত্ব দিয়েই তদন্ত চলছে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত যশোর কোতোয়ালী থানার ওসি (অপারেশন) আবু হেনা মিলন জানান, নিহতের মাথায় ও মুখমন্ডলে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তবে তাকে কে বা কারা কি কারণে হত্যা করেছে তা জানা যায়নি। তবে এ ঘটনায় তদন্ত শুরু হয়েছে ও মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান তিনি।















