খোলাডাঙ্গার সুদে কারবারী চক্রের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের জের দৈনিক যশোর ও দৈনিক গ্রামের কাগজের প্রকাশক সম্পাদকসহ ৪ সাংবাদিকের নামে সুদখোর লাকির মামলা দায়ের

0
365

 

স্টাফ রিপোর্টার : সুদে কারবার সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশ করায় দৈনিক গ্রামের কাগজ ও দৈনিক যশোরের চার সাংবাদিকসহ সাতজনের বিরুদ্ধে যশোর আদালতে মামলা হয়েছে। মামলাটি করেছেন যশোর সদর উপজেলার খোলাডাঙ্গা এলাকার শেখ আব্দুস সবুরের স্ত্রী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা জাকিয়া সুলতানা লাকি। এদিকে, মামলার খবর জানাজানি হলে স্থানীয়রা বিষয়টি ভিন্ন ভাবে দেখছেন। কেউ কেউ বলছেন লাকি নিজে সুদে কারবারের সাথে জড়িত। তার আরো কয়েকজন সহযোগিও রয়েছে। তিনি একজন শিক্ষক হওয়ায় নিজেকে আড়াল করতে সাংবাদিকদের নামে ষড়যন্ত্রমুলক মামলা করেছেন। এ মামলার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন যশোরের সাংবাদিক সমাজ সহ সুশীল সমাজের ব্যক্তিবর্গ।
লাকির দায়ের করা মামলার বিবাদীরা হলেন খোলাডাঙ্গা পশ্চিম পাড়ার লাল্টু মিয়া ও তার স্ত্রী আলেয়া সুলতানা আলো, লাল্টু মিয়ার শ^াশুড়ি ও খোলাডাঙ্গার মফিজুর রহমানের স্ত্রী ডলি বেগম, দৈনিক যশোরের প্রকাশক ও সম্পাদক প্রেস কাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ও প্রেস কাব যশোরের সিনিয়র সহ সভাপতি নুর ইসলাম, দৈনিক গ্রামের কাগজের প্রকাশক ও সম্পাদক মবিনুল ইসলাম মবিন এবং ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক আঞ্জুমানারা বেগম। বিষয়টি আমলে নিয়ে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুদ্দীন হোসাইন সিআইডি যশোর জোনকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। একই সাথে আগামী ৪ জানুয়ারী মামলার পরবর্তি দিন ধার্য্য করেছেন।
মামলার এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন,বিবাদী আলেয়া খাতুন আলো বিভিন্ন সময় বাদীর কাছ থেকে টাকা ধার নিতেন এবং পরবর্তীতে তা পরিশোধও করতেন। এরমাঝে আলো ও ডলি লাকিকে এসে জানায় ডলি একটি জমি কেনার জন্য মোটা অংকের টাকা বায়না দিয়েছে। অবশিষ্ট টাকা পরিশোধ না করলে জমি লিখে দেবেনা ও বায়নার টাকা ফেরতও দেবেনা । একই সাথে আটলাখ টাকা তিনমাসের জন্য লাকির কাছে টাকা ধার স্বরুপ চান তারা। একপর্যায় বাদীর জমানো ছয় লাখ ৭০ হাজার টাকা ধার স্বরুপ দেন লাকি। কিন্তু নির্দিষ্ট সময় পাওনা টাকা ফেরত দিতে ব্যর্থ হয়ে নন জুডিসিয়াল স্টাম্পে একবছরের মধ্যে পরিশোধ করবে অঙ্গিকার করেন। এরপর ওই সময় অতিবাহিত হলেও টাকা ফেরত দেয়না আলো। এর মাঝে আলোর স্বামীলাল্টু মিয়ার প্ররোচনায় গত ২৩ আগস্ট দৈনিক যশোর ও ২৪ আগস্ট দৈনিক গ্রামের কাগজে বাদী ও বাদীর ভায়ের ছেলে এবং তার এক মামাতো ভাইকে জড়িয়ে সুদখোর আখ্যা দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করা হয়। বাদীর অভিযোগ সংবাদটি যাচায় বাছাই ছাড়া প্রকাশ করায় পত্রিকার চার কর্মকর্তাকেও মামলায় বিবাদী করা হয়েছে।
এ বিষয়ে মামলার আসামি পক্ষের দাবি যশোর শহরতলীর খোলাডাঙ্গা গ্রামের স্কুল শিক্ষিকা জাকিয়া সুলতানা লাকির নেতৃত্বে স্থানীয় একটি চক্র দীর্ঘ দিন চড়া সুদের কারবার করছে। সম্প্রতি বিষয়টি থানা পুলিশ পর্যন্ত গড়ালে ঘটনাটি সাংবাদিক মহলের দৃষ্টি গোচর হয়। মামলার ১ নম্বর আসামী লাল্টু মিয়া এই সুদে কারবারী চক্রের কবলে পড়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। লাল্টু মিয়ার স্ত্রী আলেয়া সুলতানাকে এই সুদের কারবারে জড়িয়ে এই সুদখোর চক্র বিভিন্ন সময়ে তার কাছ থেকে মোটা অংকের সুদ আদায় করেছে। এখানেই শেষ নয় সুচতুর জাকিয়া সুলতানা লাকি একজন সরকারী চাকুরীজীবী হয়েও প্রশাসনের চোখে ধুলো দিয়ে দীর্ঘ দিন সুদের কারবার করে আসছিল। এই সুদখোর চক্রের খপ্পরে পড়ে আলেয়া বেগমের সংসার ভাঙ্গার উপক্রম হয়। মান সম্মান বাঁচাতে আলেয়া বেগম তিন বার আতœহত্যার চেষ্টা করে। তবুও ওই সুদখোর চক্রের হাত থেকে তার রেহায় মেলেনি। সুদখোর জাকিয়া সুলতানা লাকি মিথ্যা ও প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে সাদা স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক আলেয়া বেগমের স্বাক্ষর নিয়ে সেখানে মোটা অংকের টাকা লেনদেনের তথ্য যুক্ত কওে তা অঅদায় করার জন্য নাান ভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করতে থাকে। এক পর্যায়ে আলেয়া ও তার স্বামী এই বিষয়ে সুবিচার দাবি কওে যশোর কোতয়ালী থানায় একটি লিখিত এজাহার দাখিল করেন। পরবর্তীতে থানার একজন এসআই ঘটনাটি তদন্ত কওে জাকিয়া সুলতানাসহ অন্যদেও বিরুদ্ধে মোটা অংকের মুনাফায় অর্থ লগ্নির তথ্য প্রমান পান এবং সে মর্মে বিষয়টি প্রতিবেদন অঅকাওে জেলার পুলিশ সুপারের নিকট প্রতিবেদন দাখিল করেন। ওই প্রতিবেদন ও বাদি লাল্টু মিয়ার দায়েরকৃত এজাহারের উপর ভিত্তি করে সাংবাদিকবৃন্দ তাদের পত্র পত্রিকায় সুদখোর চক্রের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। ওই প্রতিবেদন প্রকাশের সময় অভিযুক্ত জাকিয়া সুলতানা লাকি ও রাকিব হাসান ইমনের মোবাইল ফোনে বহুবার যোগাযোগ করা চেষ্টা করা হলেও তারা সেদিন ফোন রিসিভ করেননি। পরবর্তীতে সংবাদ প্রকাশিত হলে জাকিয়া সুলতানা লাকি ও ইমন পত্রিকা দপ্তরে হাজির হয়ে তাদের অপরাধ মৌখিক ভাবে স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। লাকি সরকারী চাকুরীজীবী হওয়ায় ওই প্রতিবেদনের কারনে তার চাকুরীর ক্ষতি হতে পারে আশংকায় প্রতিবাদ লিপি দেন। যা পরদিন দৈনিক যশোর পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। তারপরও জাকিয়া সুলতানা লাকি বাদি হয়ে ঘটনার প্রায় ২ মাস পরে বিষয়টি নিয়ে আদালতে মামলা করেছেন যা চরম অভিসন্ধিমুলক বলেই প্রতিবেদক মনে করেন।
ওই ঘটনায় সংবাদ প্রকাশের পর কয়েকদিন চুপচাপ থাকার পর জাকিয়া সুলতানা লাকি ও তার সহযোগীরা দেদারছে ওই সুদে কারবার অব্যাহত রেখেছে। তাদের বেপরোয়া আচরণে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন অনেকে। এই সুদখোর চক্রের মাত্রাতিরিক্ত বাড়াবাড়ির কারনে সর্বশেষ গত ২০ আগস্ট খোলাডাঙ্গার মফিজুর রহমানের মেয়ে ও লাল্টু মিয়ার স্ত্রী আলেয়া সুলতানা আত্মহত্যার চেষ্টা চালান। লাকি বাদেও এই সিন্ডিকেটের উল্লেখযোগ্য অন্য সদস্যরা হলেন শেখ শাহীনের ছেলে রাকিব হাসান ইমন, মিলন বিশ্বাসের ছেলে সবুজ,সিরাজুল ইসলামের ছেলে মাহাবুবুর রহমান সাকিল,আবু তালেবের স্ত্রী শাহিদা মেম্বর প্রমুখ।
ভুক্তোভোগী নারীর স্বামী লাল্টু মিয়ার দাবি , চার বছর আগে তার স্ত্রী বিপদে পড়ে সুদে কারবারি চক্রের তিন সদস্যের কাছ থেকে দু’ লাখ ৩০ হাজার টাকা নেন। তার বিনিময়ে প্রতিমাসে তাকে ৯২ হাজার টাকা সুদ দিতে হয়েছে। এ পর্যন্ত সুদে কারবারিরা তাদের কাছ থেকে ২৫ লাখ টাকা নিয়েছে। সর্বশেষ, সালিশের মাধ্যমে সুদে কারবারিদের এককালীন তিন লাখ ৬৪ হাজার টাকা পরিশোধ করেছেন লাল্টু মিয়ার শ্বশুর মফিজুর রহমান। টাকা পেয়ে কিছুদিন সুদে কারবারিরা চুপচাপ ছিল। গত কয়েক মাস ধরে তারা আবারো টাকা দাবি করে আসছে তার স্ত্রী আলেয়া সুলতানার কাছে। তিনি টাকা দিতে অস্বীকার করলে স্কুল শিকিা জাকিয়া সুলতানা লাকি প্রায় দিন অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতো। আলেয়া সুলতানা এ পর্যন্ত সুদে কারবারিদের অত্যাচারে তিনবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। এসব বিষয়ে তিনি সাংবাদিকদের দৃষ্টি আকর্ষন করলে সাংবাদিকরা তাদের পাশে দাড়ান । এখন চক্রটি নিজেদের গাঁ বাচাতে সাংবাদিকদেরকে ষড়যন্ত্রমুলক মামলায় জড়িয়েছে। এ বিষয়ে তিনি প্রশাসনের উর্ধ্বোতন মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here