অন্যের কাব্য লিখে ৪২ বছর পার সাংবাদিক অরুণ বিশ্বাসের

0
359

কপিলমুনি প্রতিনিধি ঃ জীবনের গুরত্বপূর্ণ সময় ধরে অন্যের কাব্য লিখতে লিখতে প্রায় ৪২ টি বছর পার করলেন কপিলমুনির প্রবীণ সাংবাদিক অরুন কুমার বিশ্বাস (৬৯)। তিনি দীর্ঘ কয়েকযুগেরও অধিক সময় ধরে ন্যায় ও নিষ্ঠার সাথে লেখালেখির জগত পার করে চলেছেন। বর্তমানে খুলনা থেকে প্রকাশিত দণি বঙ্গের জনবহুল প্রিন্ট মিডিয়ার কর্ণধার দৈনিক পূর্বাঞ্চল পত্রিকার কপিলমুনি প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। জীবনের শেষপ্রান্তে দাঁড়িয়ে এখন পর্যন্ত পত্রিকাটির পরিবারেরর সাথে সুদৃঢ় ভাবে নিজেকে আগলে রেখেছেন তিনি। তিনি শুধু পত্রিকায় লিখে বসে থাকেননা। প্রতিদিন কাক ডাকা ভোর হতে কপিলমুনিময় সকল পূর্বাঞ্চল পাঠকদের হাতে পৌঁছে দেওয়ার কাজটিও নিজে করে থাকেন। বয়সের ভারে নুয়ে পড়েছেন। কিন্তু বয়সসীমা ৬৯ বছর অতিক্রম করলেও এখনো সংবাদপত্রে লেখালেখি করে চলেছেন নিরবিচ্ছিন্নভাবে। তিনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা পদবীতে ভূষিত হয়েছেন। দেশ স্বাধীনতার পর থেকে বাংলার বাণী পত্রিকায় হাতেখড়ির মধ্যে দিয়ে সংযুক্ত হন লেখালেখিতে। আর সেই থেকে প্রায় ৪২ বছর পার করে এখন দৈনিক পূর্বাঞ্চল পত্রিকায় কর্মরত রয়েছেন। নিজের অভিঞ্জতার একটি ফিরিস্থির ভলিউম তৈরি করে রেখেছেন তিনি। জীবন জীবিকার জন্যে নিজের নীতি-নৈতিকতাকে বিসর্জন দিয়েছেন এমনটা কখনো শোনা যায়নি। তাঁর জীবিকার একমাত্র অবলম্বন ছোট্ট একটি খুপড়ি দোকানটার পরিধি আজই বাড়েনি। কিন্তু তাঁর গুণমুগ্ধ ভক্ত বেড়েছে অসংখ্য। সুনাম কুড়িয়েছেন কপিলমুনির সর্বত্র জনসাধারণের কাছে। তাই কপিলমুনির সকল শ্রেণী পেশার মানুষ তাকে দাদাবাবু বলে ডাকেন। সম্মোধন ও করেন বটে। জীবনে তিনি শুধু অপরের কাব্য লিখে এখন জীবনের শেষ প্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছেন। তারপরও ুরধার লেখনির মাধ্যমে তিনি দৈনিক পূর্বাঞ্চল পত্রিকাটিকে বুকের মধ্যে আগলে রেখেছেন। এ ব্যাপারে সরেজমিনে গিয়ে তার সাথে সার্বিক বিষয়ে খোঁজখবর অন্তে এ প্রতিবেদকের সাথে বিভিন্ন আলাপচারিতার মাঝে বলেন, বয়স তো আর কম হলোনা। এখন শুধুমাত্র একটি লাঠি হলো চলার সম্বল। হাটতে গেলে খুবই কষ্ট হয়। দম মুখের উপর আসে। তারপরও প্রতিদিন সকালে খবরে কাগজ নিয়ে পূর্বাঞ্চল পাঠকপ্রিয় মানুষের দ্বারে দ্বারে পত্রিকাটি বিলি করছি। কয়েক মাস হল মুক্তিযোদ্ধার ভাতা পাচ্ছি। এতে করে ইশ্বরের কৃপায় একভাবে চলে যাচ্ছে। আর কয়টা দিন যে তোমাদের মাঝে থাকতে পারবো জানিনা। তবে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত দৈনিক পূর্বাঞ্চল পত্রিকাটি সন্তানের মত বুকের মধ্যে আগলে রাখতে চাই। চাওয়া পাওয়ার এর থেকে বেশি আর কিছুনাই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here