তালা (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি
তালার আলোচিত চলশের বিল মৎস্য ঘেরের ম্যানেজার শরিফুল ইসলাম শরিফ’র বিরুদ্ধে ঘের সংলগ্নের এক গৃহবধুকে উত্ত্যাক্ত করা সহ অপর এক নারীকে ধর্ষন এবং ঘেরের বাসায় পতীতা এনে অনৈতিক কর্মে লিপ্ত হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। আর তার এই অনৈতিক কাজে বাঁধা দেওয়ায় এলাকার নিরিহ মানুষদের হুমকি প্রদান সহ উল্টো শায়েস্তা করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
উপজেলার ঢ্যামসাখোলা গ্রামের আমিনুর রহমান সহ একাধিক নারী ও শিশু জানান, ইসলামকাটি ইউনিয়নের আলোচিত চলশের বিলে কেশবপুরের সুফলাকাঠি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মঞ্জুর রহমান মৎস্য ঘেরে করার পর থেকে এলাকায় দাঙ্গা, বিরোধ, সন্ত্রাসী কর্মকান্ড, হামলা ও মামলা লেগেই রয়েছে। সাতক্ষীরা পুলিশ প্রশাসন সহ উপজেলার শীর্ষ নেতা এবং জনপ্রতিনিধিদের হস্তক্ষেপে ঘের এলাকায় কিছুদিন থেকে শান্তি বিরাজ করছিল। কিন্তু ওই ঘেরের ম্যানেজার শরিফুল ইসলাম শরিফ ঘের সংলগ্নে নতুন করে অশান্তির কারন হয়ে দাড়িয়েছে। সে ও তার লোকজন প্রায় বিভিন্ন এলাকা থেকে পতীতা এনে অসামাজিক কাজে লিপ্ত হচ্ছে। এছাড়া ঘেরের পাশের এক দরিদ্র গৃহবধুকে কিছুদিন পূর্বে ধর্ষন করলেও লোকলজ্জার ভয়ে সেই গৃহবধু বিষয়টি চেপে যায়। তাছাড়া, ঘের সংলগ্নে অপর এক গৃহবধুকে দীর্ঘদিন উত্ত্যাক্ত করার পর রোববার তাকে কূ-প্রস্তাব দেয়। বিষয়টি নিয়ে ওই গৃহবধু ক্ষোভ প্রকাশ করলেও প্রভাবশালী ঘের মালিকের ভাগ্নে হওয়ায় শরিফের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেনা তিনি।
ভুক্তভোগী আমিনুর রহমান ও আব্দুস সাত্তার বলেন, ঘেরের মালিক মঞ্জুর রহমান ঘেরে না থাকায় ম্যানেজার শরিফ একের পর এক অনৈতিক কর্মকান্ড করে যাচ্ছে। তার ভয়ে ঘের সংলগ্নের গৃহবধুরা রাতে ঘর থেকে বাইরে আসতে কুন্ঠাবোধ করে। এসব বিষয় নিয়ে এলাকার লোকজন প্রতিবাদ করলে লম্পট শরিফ তাদের নানাবিধ হুমকি প্রদান করে। বর্তমানে মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রামের নিরিহ মানুষদের হয়রানীর চেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। ঘেরে অনৈতিক কর্মকান্ড এবং গ্রামের মহিলাদের উত্ত্যাক্ত করায় ক্ষুব্ধ লোকজন বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও উপজেলা আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতাদের অবহিত করেছে বলে জানাগেছে।
এবিষয়ে জানতে চাইলে, ঘেরের ম্যানেজার শরিফ নারী ধর্ষন ও উত্ত্যাক্ত করার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ঘেরের মাছ চুরি সহ চাঁদা দাবী করছে গ্রামের কিছু লোক। তাদের চাঁদা না দেয়ায় আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করা হচ্ছে। যারা চাঁদা চেয়েছে তাদের বিরুদ্ধে তালা থানায় মামলা করা হয়েছে।
এব্যপারে তালা থানার ওসি মো. মেহেদী রাসেল বলেন, থানায় এমন কোনও মামলা রেকর্ড হয়নি। তবে, ঘেরে চাঁদা দাবীর অভিযোগ এসেছে। এবিষয়ে তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।














