হেলাল উদ্দিন, রাজগঞ্জ প্রতিনিধি : মণিরামপুর উপজেলার রাজগঞ্জের বিভিন্ন হাট-বাজার গুলোতে নিম্নমানের ভেজাল ধান বীজে সয়লাব হয়ে গেছে। সঠিক বীজ মনিটরিং না হওয়ার কারণে নিম্নমানের ভেজাল ধান বীজ বিক্রেতারা দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে। এদিকে এসব নিম্নমানের ধান বীজ কিনে কৃষকরা প্রতারিত হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, রাজগঞ্জ এলাকায় সারা বছরই কৃষকেরা তাদের জমিতে বিভিন্ন প্রকার ফসলের চাষ করে থাকেন। তবে এখানকার কৃষকরা ধানের আবাদ করেন সব চেয়ে বেশি। গেল রোপা-আমন মৌসুমে মণিরামপুর উপজেলায় ২২,৬০০ হেক্টর জমিতে ধান চাষ করেছিলেন কৃষকরা।
আর এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কতিপয় অসাধু ব্যবসায়ীরা বীজ ভাণ্ডার খুলে বসেছেন। তারা অধিক লাভের আশায় আসন্ন ইরি-বোরো মৌসুমের জন্য অত্যান্ত নিম্নমানের ভেজাল ধান বীজ চকচকা প্যাকেটে ভরে উন্নত জাত হিসেবে প্রচার করে অধিক মূল্যে বিক্রি করছেন।
রাজগঞ্জ এলাকার চাষি নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, বাজার থেকে যে ধান বীজ কিনে নিয়ে যাচ্ছি, তাতে কী হবে জানিনা। আল্লাহ ভরসা করে কিনে নিয়ে যাচ্ছি।
তবে ব্যবসায়ীরা উন্নতমানের উন্নত জাত ধান বীজ বলছে।
এদিকে, রাজগঞ্জের ঝাঁপা গ্রামের চাষি ফজলুর রহমান বলেন, বাজারের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ধান বীজ কিনে এর আগে প্রতারিত হয়েছি। বীজ ধান বোনার পর চারা বের হয়নি। কোনো কোনো স্থানে বের হলেও তা বেড়ে ওঠেনি। তারপর আবার বীজ কিনে বোনতে হয়েছিলো।
এব্যাপারে রাজগঞ্জ বাজারের একজন ধান বীজ বিক্রেতা বলেন, আমরা কোম্পানির কাছ থেকে উন্নতমানের ধান বীজ যেনেই কিনে এনে বিক্রি করছি। আশা করি চাষিরা প্রতারিত হবেন না। চাষিরা এ সকল ধান বীজ কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।
এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের কয়েক জন উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তাদের সাথে কথা বললে, তারা জানান, বীজ ব্যবসায়ীদের জানানো হবে তারা যেনো নিম্নমানের ভেজাল বীজ বিক্রি না করে। এরপরেও যদি বিক্রি করে, তা যদি প্রমাণিত হয়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগ করা হবে।














