নিজস্ব প্রতিবেদক : যশোর সদর উপজেলার কাশিমপুর ইউনিয়নের কেফায়েত নগর গ্রামে বউ আনতে গিয়ে শ্বশুর পক্ষের হামলায় জখম হয়েও মামলার আসামি হয়েছেন জামাই সাহিদুল ইসলামসহ ৩ জন। শ্বশুর জামির হোসেন ঘটনার ১ মাস পর ওই তিনজনকে আসামি করে আদালতে মামলা করেছেন। অন্য দুই আসামি হলেন সাইদুল ইসলামের পিতা সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের বাগডাঙ্গা গ্রামের লোকমান সরদার ও ছোট ভাই দুলিন সরদার। সাইদুল ইসলামের অভিযোগ, বউকে না দিয়ে আমাদের শায়েস্তা করার জন্য পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।
জামির হোসেন মামলায় উল্লেখ করেছেন, যৌতুকের টাকা না পেয়ে আমার মেয়ে নাসরিনকে তাড়িয়ে দেয় সাইদুল ইসলাম। বিষয়টি মিমাংসার জন্য আসামি পক্ষকে দাওয়াত করে গত ২৩ অক্টোবর আসামিরা আমার বাড়িতে নিয়ে যায়। কিন্তু যৌতুক না দিলে আমার মেয়ে নাসরিনকে তারা নেবে না। এই সময় তর্কবিতর্কের এক পর্যায়ে আসামিরা বাদী জাকির হোসেনসহ দুই জনকে মারপিটের পর তান্ডব চালায়। এই ঘটনায় তিনি (জাকির হোসেন) ২৩ নভেম্বর আদালতে মামলা করেন। এদিকে মামলার ১ নম্বর আসামি সাইদুল ইসলাম জানান, ১৩ বছর আগে নাসরিন খাতুনের সাথে আমার বিয়ে হয়। কিন্তু গত দেড় বছর ধরে নাসরিন এক প্রবাসীর সাথে মোবাইল ফোনে কথা বলা শুরু করে। বিষয়টি আমি জানার পর প্রবাসীর সাথে কথা বলতে নিষেধ করি। এতে নাসরিন আমার ওপর ক্ষুব্ধ হয়। ৯ মাস আগে নাসরিন কাউকে কিছু না বলে পিতার বাড়ি চলে যান। এরপর তাকে একাধিকবার আনতে গেলেও ফিরে আসেনি। গত ২৩ অক্টোবর আমি আমার ভগ্নিপতি ও ভাইদের নিয়ে বউকে আনতে যায়। এসময় বউ আসবে না বলে জানিয়ে দেন। এই নিয়ে তর্কবিতর্ক হলে শ্বশুর জামির আলীর নেতৃত্বে আমির ও হায়দারসহ আরো কয়েকজন আমাদের ওপর হামলা করে। তাদের মারপিটে আমি (সাইদুল) আমার ভাই মহিদুল ইসলাম ও দুলিনকে পিটিয়ে জখম করে। এরমধ্যে গুরুতর অবস্থায় মহিদুলকে জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হয়। পরের দিন এই ঘটনায় কোতোয়ালি মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। কোতোয়ালি থানার এসআই সেকেন্দার নোটিশ দিয়ে তাদেরকে ডাকলেও তারা থানায় উপস্থিত হননি। ঘটনার ১ মাস পর উল্টো আমাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। ঘটনার দিন আমার পিতা সেখানে ছিলেন না। তারপরেও আসামি করা হয়েছে। ঘটনাটি সঠিকভাবে তদন্ত করা হলে সত্য ঘটনা বেরিয়ে আসবে।














