চৌগাছায় হত্যা মামলায় পঙ্গু পিতার দুই ছেলে জেলে

0
517

স্টাফ রিপোর্টার : ছোট্ট একটি চায়ের দোকান চালাতেন শরিফুল ইসলাম। সারা দিন যা বিক্রি হতো শরিফুল তার লাভের টাকা তুলে দিতেন পঙ্গু পিতা শাহাবুদ্দিনের হাতে। এ ভাবেই চলছিল তাদের সংসার। কিন্তু একটি হত্যাকান্ড তার সবকিছু তছনছ করে দিয়েছে। ঐ ঘটনায় শরিফুল ছাড়াও শাহবুদ্দিনের দুই ছেলেই এখন জেলখানায়। এ অবস্থায় দুই হাত হারা তাদের পিতা অনেক কষ্টে ব্যবসাকে টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন।

সূত্র জানায়, গত ৮ নভেম্বর উপজেলার সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ কয়ারপাড়া গ্রামের দিন মজুর পিকুল হোসেন নির্মম হত্যার শিকার হন। এ ঘটনায় পুলিশ ঐ দুই সহোদরসহ তিন জনকে আটক করে। আদালত তাদের জেল হাজতে প্রেরণ করেন। দুই সহোদও হলেন, শরিফুল ইসলাম ও আরিফ হোসেন। তাদের পিতা পঙ্গু শাহাবুদ্দিন। শরিফুল ইসলাম চৌগাছা-যশোর সড়কের ডিভাইন হাসপাতালের পাশে ভাড়া দোকানে চা বিক্রি করতেন আর আরিফ হোসেন স্থানীয় মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেনীর ছাত্র। আটক অপরজন সাদ্দাম হোসেন ফার্ণিচার ব্যবসায়ী। তারা প্রায় দেড়মাস জেলখানায় আটক থাকায় চরম কষ্টে দিন পার করছেন তাদের পঙ্গু পিতা শাহাবুদ্দিন।

সরেজমিন যেয়ে দেখা যায়, দুই হাত হারা শাহাবুদ্দিন অনেক কষ্টে টুকটাক মালামাল বিক্রি করছেন। চা আর পান বিক্রিতে তার ছোট ভাই তাকে সহযোগিতা করছেন। শাহাবুদ্দিন বলেন, ‘আমার দুই ছেলে দশ চড়েও কথা বলে না। বড় ছেলে শরিফুল কাকডাকা ভোরে দোকান খোলে আর অনেক রাতে বাড়ি ফেরে। সারাদিনে যা বিক্রি হয় তাই দিয়ে চলে সংসার। আর ছোট ছেলে ৯ম শ্রেনীতে পড়ে। স্কুল বন্ধ তাই কখনও বড় ভাইয়ের দোকানে বসে আবার অনেক সময় মাঠে আমার কাজে সহযোগিতা করে। তারা দুই ভাই এখন হত্যা মামলায় জেলখনায়।’

শাহাবুদ্দিন বলেন, ‘১৯৯৬ সালে বৈদ্যুতিক এক দূর্ঘটনায় আমার দুই হাত নষ্ট হয়ে যায়। এরপর বেশ কিছু দিন পরে কুনুই থেকে হাত দুটি কেটে ফেলতে হয়। আমি আর আমার স্ত্রী রাশিদা বেগম অনেক কষ্টে সন্তানদেরকে বড় করে তোলার চেষ্টা করছি। শত বাধা এসেছে কিন্তু কখনও কারও কাছে হাত পাতিনি। এমনও দিন গেছে সন্তানদের মুখে কোন খাবার তুলে দিতে পারিনি। যখন সন্তান কোন রকম আয় রোজগার করতে শিখেছে, আমি কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছি, ঠিক সেই সময়ে আমার সব কিছুই যেন এলোমেলো হয়ে গেলো।’ কষ্টের কথা বলতে যেয়ে আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন শাহাবুদ্দিন ।

পঙ্গু শাহাবুদ্দিনের দাবি, তার ছেলেরা কখনও খুন করতে পারেনা। অভাব অনাটনের সাথে লড়াই করে সন্তানদের বড় করার চেষ্টা করছি। প্রতিপক্ষরা আমাকে ঘায়েল করতে হত্যারমত একটি জঘন্য ঘটনা আমার পরিবারের উপর চাপিয়ে দিয়েছে। এতে আমি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছি আর মুল হত্যাকারি রয়ে গেছে আড়ালে। তার দাবি, ‘আমার ছোট ছোট দুই ছেলেসহ আটক তিন জনই নির্দোষ। সুষ্ঠু তদন্ত করলেই মুল রহস্য বেরিয়ে আসবে।’

তিনি চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলার সুষ্টুু তদন্তসহ মূল রহস্য উদঘাটনে আইন শৃংখলা রক্ষা বাহিনীর সুদৃষ্টি কামনা করেছেন #

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here