ডুমুরিয়া উপজেলার ৫ নং আটলিয়া ইউনিয়ন পরিষদে আসন্ন নির্বাচনে কে হচ্ছে নৌকার মাঝি ?

0
777

কোমল রাহা,স্টাফ রিপোর্টার,ডুমুরিয়া,খুলনাঃ-খুলনা জেলার বাণিজ্যিক এলাকা হিসাবে পরিচিত চুকনগর।ভৌগলিক অবস্থানের কারনে এ ইউনিয়নের গুরুত্ব অনেক বেশি।মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালীন সময় চুকনগরে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ এক গনহত্যা ঘটে।অর্থনৈতিক ,ভৌগলিক , মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস খ্যাত এ ইউনিয়ন । আটলিয়া ইউনিয়ন হলেও মূলত পরিষদ চুকনগর বাজারে অবস্থিত । মাঠ,ঘাট,চা এর দোকানে চায়ের কাপের চুমুকে সাথে আলোচনার ঝড়,কে হচ্ছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের এর নৌকার মাঝি ।জনগনের সমর্থন,প্রচার প্রচারণা চালিয়ে এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে চারজন প্রার্থী ।বিভিন্ন কার্যক্রম,গণসংযোগ করে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের এর নৌকার প্রতীক এর নির্বাচনী টিকিট নিশ্চিত করা । বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রার্থীরা হলেন বর্তমান চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক বাবু প্রতাপ রায়, ডুমুরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সাংগাঠনিক সম্পাদক সহকারী অধ্যাপক জি.এম. ফারুক হোসেন ,জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক অধ্যক্ষ এ.বি.এম শফিকুল ইসলাম, , ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক শেখ হাবিবুর রহমান হাবিব ।
ডুমুরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সাংগাঠনিক সম্পাদক সহকারী অধ্যাপক জি.এম. ফারুক হোসেন সাথে আলাপকালে তিনি বলেন,আমি আওয়ামীলীগ পরিবারের সন্তান, আমার রক্তে মিশে আছে, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ,যুবলীগ ও আওয়ামীলীগ ।ছাত্র জীবনে সরকারি বি.এল কলেজের সাধারণ সম্পাদক হিসাবে রাজনীতির সাথে জড়িত । যুবক বয়সে জেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক দায়িত্ব পালন করি,থানা যুবলীগের আহবায়ক হিসাবে দায়িত্ব পালন করি । বর্তমানে উপজেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ।বি.এন.পি শাসন আমলে বহু হামলা, মামলাল শিকার হয়েছি,রাজপথ ছাড়িনাই জয়বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু স্লোগানে মুখরিত করেছি রাজপথ ।দলের দুর্দিনে দলের সাথে ছিলাম ।১৯৯৬ সালে ২৫মার্চ ডুমুরিয়ায় বি.এন.পি জামাতের হামলার শিকার হয়ে মৃত্যুর দূয়ার হতে ফিরে এসেছি, জননেত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা এবং খুলনা ৫ আসন এর সংসদ সদস্য বাবু নারায়ন চন্দ্র চন্দ্রের নির্দেশ মোতাবেক সকল দলীয় কর্মকান্ড বাস্তাবায়ন করছি ।বিগত ২০১৭ সালে উপনির্বাচনে আমি ইউনিয়ন কমিটির সর্বাধিক ভোট পেয়ে আমার নাম কেন্দ্রে যায় ,কিন্তু কোন এক শক্তির হাতে আমার মনোনয়ন বাদ যায় ।তারপরও,সে সময় হতে আমি এলাকার জনগনের বিপদে আপদে তাদের পাশে আছি ।ছুটে চলেছি এলাকার এক প্রান্ত হতে অন্য প্রান্তে । এলাকার উন্নয়নে আমার সাধ্যমত চেষ্টা করে যাচ্ছি ।স্কুল,কলেজ,মঠ মন্দির, মসজিদ,মাদ্রাসা ,রাস্তাঘাট উন্নয়নে সাধ্যমত নিজের হাত প্রসারিত করেছি মুক্ত হস্তে । আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আমার সাথে ছাত্রলীগ,যুবলীগ,আওয়ামীলীগের নেতাকর্মী ও এলাকার সাধারণ জনগন আছে ।দলীয় সভানেত্রী যদি আমার হাতে নৌকা তুলে দেন ,আমি আশাবাদি আমি বিজয় বেশে নেত্রীকে নৌকা ফিরিয়ে দিব।
জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক অধ্যক্ষ এ.বি.এম শফিকুল ইসলাম,বলেন ১৯৬৯ সালে গনঅভ্যুত্থান স্কুল ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক ছিলাম ।১৯৭০ সালে নির্বাচনে ব্যাপক ভুমিকা রাখি।মুক্তিযুদ্ধ চলাকালিন সময় মুক্তিযোদ্ধাদের অস্ত্র,গোলাবারুদ সরবারহ কাজে সর্বপ্রকার সহযোগিতা করি।১৯৭২ সালে এস.এস.সি পাশকরি ।কেশবপুর কলেজে পড়াকালীন কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলাম।১৯৭৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয় । ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যায়নরত কালীন সময়ে আমি জহুরুল হক হলের ছাত্রলীগের সহসভাপতি নির্বাচিত হয় এবং সে সময়ে দলের প্রতিটি সংগ্রামে অগ্রনী ভুমিকা রাখি ।জননেত্রী ১৯৮১ সালে ছয় বছর বিভিন্ন দেশে কাটিয়ে যখন দেশে ফিরে, সে সময় জহুরুল হক হল হতে বিশাল মিছিল নিয়ে মানিক মিয়া এভিনিউতে যোগদেয় । ১৯৭৯ সালে ডাকসু নির্বাচনে আমি জহুরুল হক হলের ছাত্র সংসদের সদস্য নির্বাচিত হয়। উল্লেখ্য আজকের সড়কপরিবহন ও সেতুমন্ত্রী সে দিনের ছাত্রলীগের সভাপতি আমার প্রিয় নেতা ওবায়দুল কাদের জহুরুল হক হলের ছিটের ব্যাপারে আমাকে সহযোগিতা করেন।অনার্স,মাষ্টার্স শেষ করে এলাকায় ফিরে আওয়ামীলীগের রাজনীতিকে সুসংগঠিত করার সর্বপ্রকার কার্যক্রম পরিচালনা করি এবং ছাত্র অবস্থায় কোন নেতা না থাকায় ৫ নং আটলিয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব নিতে হয়,সে থেকে থানা কমিটির প্রচার সম্পাদক নির্বাচিত হয় এবং থানা আওয়ামীলীগ কে সংগঠিত করি।১৯৯২ সালে আওয়ামীলীগের কাউন্সিল অধিবেশনে ভোটের মাধ্যমে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয় এবং ২০০৩ কাউন্সিল অধিবেশনে উপজেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহসভাপতি ,সাথে সাথে জেলা কমিটির সদস্য নির্বাচিত হয় ।পরর্বতীতে জেলা আওয়ামীলীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক এর দায়িত্ব পালন করি ।১৯৮২ সালে এলাকার জনগনের সহযোগিতায় চুকনগর কলেজ প্রতিষ্ঠা করি।১৯৮৮ সালে উপজেলা নির্বাচনে জাতীয় পার্টি থেকে আমাকে মনোনয়ন দিতে চাইলে তা আমি প্রত্যাখ্যান করি।দলের দুর্দিনে কখনও দলত্যাগ করিনি । বিগত দিনে আমি এ ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্ব পালন করেছি ।১৯৯১,৯৬ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের পক্ষে ব্যাপক ভুমিকা রাখি।মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে চুকনগরে গনহত্যা স্মৃতিসৌধ স্থাপনে,দক্ষিন পশ্চিম অঞ্চলে জলাবদ্ধতা নিরসনে আমি কাজ করে চলেছি ।জননেত্রী বলেছেন যারা ত্যাগী,সৎ, দলের দুর্দিনে দলের সাথে ছিল,যারা দীর্ঘ রাজনৈতির জীবনে অধিকারী,যাদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি,খুঁজে খুঁজে তাদের মনোনয়ন দেওয়া হবে ।আমি বর্তমান কর্মজীবনে অবসরপ্রাপ্ত,কোন পিছু টান নেই, জীবনে একদিনের জন্যও দলের বাইরে কিছু করিনি,দলের আদর্শ জাতীর জনক বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন সোনার বাংলা গড়ার কাজে জননেত্রীর শেখ হাসিনার একজন নূন্যতম কর্মি হিসাবে ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নে বাকী জীবন কাটাবো এই প্রত্যায় ব্যক্ত করি। রাজনীতির শেষ জীবনের আশা বঙ্গবন্ধুর নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করার । দলীয় সভানেত্রী দেশরতœ শেখ হাসিনা যদি আমার হাতে নৌকা তুলে দেন কথা দিলাম জয়ের মাধ্যমে নেত্রীকে নৌকা উপহার দিব ।
দৈনিক যশোর এর প্রতিবেদক সাথে আলাপচারিতায় বর্তমান চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক বাবু প্রতাপ রায় বলেন ২০২১ সালে মার্চ মাসের দিকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে । আমি বর্তমান চেয়ারম্যান আছি এবং আগামী নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের এর নৌকার প্রতীক মনোনয়ন প্রার্থী ।২০১৭ সালে ১৬ এপ্রিল এ ইউনিয়ন অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনে দলীয় সভানেত্রী দেশরতœ বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা আমার হাতে নৌকা তুলে দেন । অবাদ,সুষ্ঠ,নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে আমি ২৯৯২ ভোটের ব্যবধানে ১১ টি কেন্দ্রের মধ্য ৮টি কেন্দ্রে প্রথম এবং ৩টি কেন্দ্রে দ্বিতীয় হবে, নিকটতম প্রার্থীকে পরাজিত করে নৌকার বিজয় নিশ্চিত করি । দায়িত্ব গ্রহণের পর হতে বর্তমান সরকারের দেশ ব্যাপি যে উন্নয়ন কার্যক্রম চলমান ,তার সাথে তালমিলিয়ে আমার ইউনিয়ন কে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি । আমি পরিষদের মাধ্যমে স্কুল,কলেজ,মসজিদ,মাদ্রাস,ঈদগাহ,মঠ মন্দির,রাস্তাঘাট উন্নয়ন,রোড সোলার লাইট স্থাপন, সুপেয় পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করণ , সরকারের গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রম সহ ,করোনা কালীন সময় সকল প্রকার সাহায্য সহযোগিতা এলাকাবাসীর মাঝে প্রদান করা হয় ।বর্তমান সরকারের সকল উন্নয়ন কর্মকান্ডে আমরা তৃনমূল পর্যায় থেকে বাস্তাবায়ন করছি এবং জনগনের সুশাসন ,আইন এর শাসন প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি । আমার এলাকায় বর্তমান সাড়ে নয় কিলোমিটার পাকারাস্তার কাজ চলমান ।মাদক এর বিরুেেদ্ধ আমরা যুদ্ধ ঘোষণা করেছি ।মনোনয়ন প্রসংঙ্গে আমি স্পষ্ট ভাবে বলতে চায় বিগত ২০১৭ সালে উপ নির্বাচনে দলীয় সভানেত্রী যখন আমাকে মনোনয়ন দিয়েছিলেন ,তখন যারা নৌকার বিরোধিতা করে দলথেকে বহিস্কার হয়েছিল এবং বিগত উপজেলা নির্বাচনে নৌকার বিরোধিতা করে ,যারা এক অরাজক পরিবেশ সৃষ্টি করেছে ,বারবার যারা দলের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে ,সে বিষয়ে দলীয় হাইকমান্ডের দৃষ্টি আকর্ষন করছি,তাদের হাতে যেন বঙ্গবন্ধুর আদর্শের নৌকা না যায় ।
ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক শেখ হাবিবুর রহমান হাবিব, বলেন আমি ১৯৯৬ সালে ছাত্রলীগ মাধ্যমে রাজনীতির হাতে খড়ি ।২০০৬ সালে খুলনা জেলা সেচ্ছাসেবক লীগের আহবায়ক কমিটির সদস্য ।২০১৪সালে ৫ নং আটলিয়া ইউনিয়ন কমিটির সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্ধীতা করি । উক্ত কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দায়িত্ব পালন করছি ।আমি ছাত্ররাজনীতির সাথে জব করতে থাকি । সেই সময় হতে আমি বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ডের সাথে জড়িত ।দলের সকল কর্মকান্ড পালন সহ দলকে সুসংগঠিত কারার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি ।দেশের প্রেক্ষাপটে জননেত্রী শেখ হাসিনা এবং খুলনা ৫ আসন এর সংসদ সদস্য বাবু নারায়ন চন্দ্র চন্দ্র যে উন্নয়ন এর ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য আমার মত একজন প্রার্থী দরকার বলে আমি মনে করি ।আমি বুকে হাত দিয়ে বলতে পারি চাঁদাবাজি,মাদক,দূরনীর্তির সাথে নিজে কে কখনও জড়ায়নি ।বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বুকে লালন করি, সে জন্য সেবার একটি মাধ্যম দরকার । সে লক্ষ্যে দলীয়সভানেত্রী যদি আমাকে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করার সুযোগ দেয় তাহলে সাধারণ জনগণের সেবা করার একটি মাধ্যম পাব বলে আমি মনে করি ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here