বাঘারপাড়া পৌরসভা নির্বাচন মেয়র প্রার্থী জুলাই জনবিচ্ছিন্ন নয়, জনবান্ধন পৌর মেয়র হতে চাই’ ।

0
468

নিজস্ব প্রতিবেদক: যশোরের বাঘারপাড়া পৌরসভাকে আধুনিকায়ন করতে চান জুলফিক্কার আলী জুলাই। পৌর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তিনি মাঠ পর্যায়ে ব্যাপত গণসংযোগ করে বেড়াচ্ছেন। জুলাই বাঘারপাড়া উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক। বাঘারপাড়া পৌরসভার ছয় নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর জুলফিক্কার আলী জুলাই কয়েক মাস ধরে পৌরসভার সকল ওয়ার্ডে গনসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ অব্যাহত রেখেছেন। ভোটারদের বাড়ি-বাড়ি যেয়ে তাদের সাথে কুশল বিনিময় করছেন।
জানাগেছে, চথুর্থ ধাপে বাঘারপাড়া পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সে হিসাবে যে কোন মুহুর্তেই এ পৌর সভার নির্বাচনী তফসিল ঘোষনা হতে পারে। জুলাই জানিয়েছেন, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সভাপতি ও বর্তমান প্রধান মন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা যদি মাঠ পর্যায়ের তথ্য নিয়ে দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন দেন তাহলে তাকেই মনোনয়ন দেবেন, এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি। একই সাথে তিনি নির্বাচিত হলে জনবান্ধন মেয়র হওয়ার আশা প্রকাশ করেছেন।
জুলাই পরিবার বাঘারপাড়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সুতিকাগার নামে পরিচিত। রাজনৈতিক পরিবার থেকে বেড়ে ওঠা জুলফিক্কার আলী জুলাই পৌর এলাকার দোহাকুলা গ্রামের হোসেন আলী ম্যোলার ছেলে। তিনি ছাত্রজীবন থেকে আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে জড়িত রয়েছেন। ১৯৯০ সালে মাধ্যমিকে পড়া অবস্থায় স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। ১৯৯৬-১৯৯৮ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ছাত্রলীগের বাঘারপাড়া শাখার সাংগঠনিক সম্পাদকের দ্বায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ ষোষিত ভাত ও ভোটের অধিকার রক্ষার দাবিতে অসহযোগ আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন তিনি। জুলাই ১৯৯৮ সাল থেকে দীর্ঘ ৭ বছর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতির দ্বায়িত্ব পালন করেন। এর আগে ২০০৩ থেকে ২০০৯ পর্যন্ত যশোর জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতির দ্বায়িত্ব পালন করেন। বাঘারপাড়া উপজেলা যুবলীগের বিগত কমিটির সদস্য পদে থেকে জুলাই বাঘারপাড়ার আওয়োমীলীগের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রেখেছেন। এ কারণেই তিনি বর্তমান উপজেলা যুবলীগের এক নং যুগ্ম আহবায়ক মনোনীত হয়েছেন। রাজনীতিতে ব্যাপক সক্রিয়তার কারণে তিনি বিগত সরকার আমলে বিভিন্ন সময়ে হামলা-মামলার শিকারও হয়েছেন। ২০০৬ সালে জামায়াত-বিএনপির অবৈধ সরকার পতনের লক্ষে লগি বৈঠার আন্দোলনে জুলাই অগ্রণি ভূমিকা পালন করেছেন। ২০১৫ সালে জামায়াত-বিএনপির অগ্নিসন্ত্রাস ও নাশকতামূলক কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে আওয়ামীলীগ ঘোষিত সকল কর্মসূচিতে তিনি দ্বায়িত্ব পালন করেছেন। জুলাই রাজনীতিতে আসার পর থেকে জামায়াত-বিএনপি সরকার ও ওয়ান ইলেভেনের পর যৌথবাহিনীর নির্যাতন ও ডজন খানেক মামলার শিকার হন। তৎকালিন সময়ে আওয়ামীলীগ সরকারের পক্ষে কাজ করার জন্য তাকে ১০ টি মামলা দেওয়া হয়। এমনকি ২০০৭ সালের ১৬ জুলাই যৌথ বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হন। হামলা-মামলার শিকার হয়েও দলের জন্য থেমে নেই তরুন এই রাজনৈতিক নেতা। সদ্য উপজেলা পরিষদের উপনির্বাচনে নৌকা প্রতিকের পক্ষে কাজ করায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর রোষানলে পড়ে আবারো মামলার শিকার হন।
জুলফিক্কার আলী জুলাইয়ের পরিবারে প্রতিটা সদস্যের রয়েছে বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক পরিচিতি। তার পিতা হোসেন আলী ১৯৮৮-১৯৯৪ সাল পর্যন্ত আওয়ামীলীগ মনোনিত দোহাকুলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের দ্বায়িত্ব পালন করেছেন। ২০০৩-২০১৭ সাল পর্যন্ত দোহাকুলা ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি ছিলেন। একইসাথে ২০০৪ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। চাচা গোলাম মোস্তফাও বাংলাদেশ স্বাধীনের পর থেকে রাজনীতির সাথে জড়িয়ে আছেন। ১৯৮০ থেকে ১৯৮৩ সাল পর্যন্ত বাঘারপাড়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ১৯৮৪-১৯৮৭ পর্যন্ত উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ১৯৯০-১৯৯৬ সাল পর্যন্ত উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদকেরও দায়িত্ব পারন করেন। ২০০৩ থেকে একটানা ১৬ বছর পর্যন্ত উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দ্বায়িত্ব পালন করেছেন জুরফিক্কার আলীর জুলাই’র চাচা গোলাম মেস্তফা।
জুলফিক্কার আলী জুলাই জানিয়েছেন, ’পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্য হিসেবে বিগত দিনে জনস্বার্থে কাজ করেছি, এখনও করছি। তারই অংশ হিসাবে বাঘারপাড়া পৌরসভার নাগরিকদের সেবার মানসিকতা নিয়ে মাঠে আছি, থাকবো। নির্বাচিত হলে বাঘারপাড়া পৌরসভাকে পরিচ্ছন্ন শহরে রুপান্তরিত করে জনসাধারণকে একটি আধুনিক পৌরসভা উপহার দেব। এজন্য পৌরসভার সকল নাগরিকদের দোয়া, সহযোগিতা ও ভালোবাসা নিয়ে আমি জনবিচ্ছিন্ন নয়, একজন জনবান্ধন পৌর মেয়র হতে চাই’ ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here