মালেক্জ্জুমান কাকা, যশোর : যশোরের চৌগাছা পৌরসভায় শান্তিপূর্ণ ভোট গ্রহন হয়েছে। পৌরসভার দশটি কেন্দ্রে দুপুর পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায় নি। রোববার সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া ভোটে কেন্দ্রগুলোতে পুরুষ ভোটারের পাশাপাশি নারী ভোটারদের উপস্থিতিও রয়েছে চোখে পড়ার মতো।
চৌগাছা পৌরসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৫০ জন প্রার্থী। এদের মধ্যে আওয়ামী লীগ, বিএনপির দলীয় প্রার্থীসহ মেয়র পদে চারজন প্রার্থী। নয়টি সাধারণ কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৩৫ জন প্রার্থী। তিনটি নারী কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন ১১ জন। পৌরসভা সবুজকুঁড়ি কিন্ডারগার্টেন স্কুল, সরকারি ডিগ্রি কলেজ, হাফেজিয়া মাদ্রাসা, মৃধাপাড়া মহিলা কলেজ, তরিকুল ইসলাম পৌর ডিগ্রীকলেজ, সরকারি শাহাদৎ পাইলট বিদ্যালয়, মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি কিছুটা কম ল্য করা গেছে। তবে বেলা বাড়ার সাথে সাথে ভোটারদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। সকাল ১০টার পর থেকে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল আশাপ্রদ। প্রথমবারের মত ইভিএম এ ভোট গ্রহণ হওয়ায় ভোটাদের মধ্যে বেজায় আগ্রহ ল্য করা গেছে। হাফিজিয়া মাদ্রাসা কেন্দ্রে প্রথম ভোট দাতারা জানান, এই প্রথম আমরা ইভিএমএ ভোট দিলাম। ভোট কেন্দ্রে সুন্দর পরিবেশ পেয়েছি। চৌগাছায় শান্তিপূর্ণভাবে ভোট চলছে ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে। সবুজকুঁড়ি কিন্ডারগার্টেন স্কুল কেন্দ্রে ভোট দিতে আসা মনোয়ারা, বেবি খাতুন, শিউলি বেগম, রেশমা খাতুন, রিতা রাণী জানান, ছোট এক মেশিনে (ইভিএম) ভোট দিয়েছেন তারা। ব্যালট পেপার ভাজ করতে হয়নি। টিপ দেয়ার সাথে সাথে ভোট হয়ে গেছে। কোনো ঝামেলা নেই। ভোট করে পরিবেশ খুব ভালো। নির্বাচন অফিস জানিয়েছে, চৌগাছা পৌরসভায় মোট ভোটার ১৭,২৪৮। এর মধ্যে পুরুষ ৮৫০২ও নারী ৮,৭৪৬ জন। দশটি ভোট কেন্দ্রে দশজন প্রিজাইডিং অফিসার, ৫৮ জন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার, ১১৬ জন পুলিং এজেন্ট এবং ১০ জন অপারেটর দায়িত্ব পালন করছেন। ভোট কেন্দ্রে মোট বুথ রয়েছে ৫৮টি। এছাড়া প্রতিটি ওয়ার্ডে পুলিশ, আনসার ভিডিপির সদস্যসহ একজন ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে স্ট্রাইকিং ফোর্স মোতায়েন রয়েছে। চৌগাছা পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে লড়াই করছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত বর্তমান মেয়র নূর উদ্দিন আল মামুন হিমেল (নৌকা), বিএনপি মনোনীত আব্দুল হালিম চঞ্চল (ধানের শীষ), জামায়াত সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী কামাল আহমেদ (জগ) এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শিহাব উদ্দিন (হাত পাখা)। সাধারণ কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এক নম্বর ওয়ার্ডে আনিছুর রহমান, আবু আহসান ও সুমন হোসেন, দুইনম্বর ওয়ার্ডে শাহিদুল ইসলাম ও বকুল হোসেন। তিন নম্বর ওয়ার্ডে হাচানুর রহমান, সোহেল রানা উজ্জ্বল, জামাত আলী মৃধা, আব্দুল ওয়াদুদ, শান্তি মিয়া ও হারুন অর রশিদ, চার নম্বর ওয়ার্ডে সিদ্দিকুর রহমান ও মোফাজ্জেল হোসেন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডে গোলাম মোস্তফা, সিরাজুল ইসলাম সাগর ও সাজ্জাদুর রহমান, ছয় নম্বর ওয়ার্ডে আতিয়ার রহমান, আবুল খায়ের, আনিছুর রহমান, সাদ্দাম হোসেন ও কাত্তিক চন্দ্র দে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সাত নম্বর ওয়ার্ডে আব্দুর রহমান, রশিদুল ইসলাম, শাহিনুর রহমান শাহিন ও রুহুল আমিন, আট নম্বর ওয়ার্ডে মো. শাহিন, সাইফুল ইসলাম, উজ্জল হোসেন ও আব্দুল মুজিদ এবং নয় নম্বর ওয়ার্ডে আনিছুর রহমান, আতিয়ার রহমান, জুয়েল রানা, নাজমুল হুসাইন, গোলাম মোস্তফা ও আনোয়ার হোসেন। তিনটি নারী কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এক নম্বর ওয়ার্ডে সাবিনা খাতুন, ফাতেমা খাতুন ও তৌহিদা খাতুন, দু’নম্বর ওয়ার্ডে জোসনা খাতুন, জেসমিন আক্তার, মোছা. রুনা, সাইবি বেগম ও আল্পনা মিশ্র এবং তিন নম্বর ওয়ার্ডে জহুরা খাতুন, রাফেজা খানম ও শামছুন নাহার। যশোরের চৌগাছা পৌরসভা নির্বাচনে দশটি কেন্দ্রে নারী ভোটারের উপস্থিতি চোখে পড়ার মত। সকাল ৮টায় ভোট গ্রহণ শুরু হলে ভোটারদের উপস্থিতি তেমন ল্য করা যায়নি। তবে বেলা বাড়ার সাথে সাথে সবুজকুঁড়ি কিন্ডার স্কুল, সরকারি ডিগি কলেজ, হাফিজিয়া মাদ্রাসা, মৃধাপাড়া মহিলা কলেজ, তরিকুল ইসলাম পৌর কলেজ, সরকারি শাহাদৎ পাইলট, মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে বাড়তে থাকে ভোটারের সংখ্যা। প্রতিটি কেন্দ্রে নারী ভোটারের উপস্থিতি ছিল বেশি। আনোয়ারা খাতুন, লাইজু, রিনা খাতুন, লিপি বেগম, সীমা খাতুন, আম্বিয়া বেগম, দুলি বেগম জানান, সকালে বাড়ির কাজকর্ম সেরে তারা ভোট দিতে এসেছিলেন। ইভিএমএ ভোট দিয়ে ভালো লেগেছে তাদে । অনেক নারী কোলের শিশু সন্তান সাথে নিয়ে ভোট দিতে কেন্দ্রে আসেন এদিন। চৌগাছায় নারী ভোটারের উপস্থিতি বেশি সাত নম্বর ওয়ার্ডের ছারা বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিতে আসা খাদিজা খাতুন জানান, দুপুরে রান্না করতে হবে তাই সকালে ভোট দিতে এসেছি। ভোট করে পরিবেশ সুন্দর। ভোট দিতে কোনো অসুবিধাই হয়নি। অথচ কেন্দ্রে আসার আগে মনের মধ্যে ভয় ভয় ছিল। চার নম্বর ওয়ার্ডের শাহাদত পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিতে আসা রেশমা, বিথী খাতুন, রেনুকা রাণী, আছমা খাতুন জানান, ইভিএমএ মেশিনে প্রথম ভোট দিলাম। ভোট দিতে কোনো সমস্যা হয়নি। কেন্দ্রগুলো মানুষের বাড়ির কাছাকাছি হওয়ায় অধিকাংশ ভোটার পায়ে হেঁটে ভোট দিতে যাচ্ছেন।














