মালেকুজ্জামান কাকা, যশোর : ঘোষিত তফসিল অনুযায়ি আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি যশোর পৌরসভা নির্বাচনে ভোটগ্রহণ হবে। উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন করা তিনজনের দুইজন মামলা প্রত্যাহার করে নিচ্ছেন। দু-একদিনের মধ্যেই তারা আদালতে আবেদন করবেন।
তারা বলেছেন, ভুল বুঝিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে তাদের দিয়ে আদালতে মামলা করানো হয়েছে। বিষয়টি বুঝতে পেরে তারা এখন মামলা প্রত্যাহার করে নিচ্ছেন।
জানা যায়, গত ১৯ জানুয়ারি পঞ্চম দফায় যশোর পৌরসভার নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। ঘোষণা অনুযায়ি আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি যশোর পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু এই তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচন স্থগিতের আদেশ চেয়ে উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন দায়ের করেন যশোর উপশহরের ৭নং সেক্টেরের বাসিন্দা মোসলেম উদ্দিনের ছেলে এডি আব্দুল্লাহ, রামনগর ইউনিয়নের আমির আলীর ছেলে সিরাজুল ইসলাম ও চাঁচড়া চেকপোস্ট এলাকার মোকসেদ আলীর ছেলে মনিরুল ইসলাম। এর শুনানি শেষে গত ৯ ফেব্রুয়ারি আদালত যশোর পৌরসভা নির্বাচনের উপর তিন মাসের স্থগিতাদেশ দেন। এরপর বিষয়টি নিয়ে বেশ আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। পরে আবেদনকারীদের মধ্যে দুইজন সিরাজুল ইসলাম ও মনিরুল ইসলাম এই মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। রিট আবেদনকারীদের একজন চাঁচড়া চেকপোস্ট এলাকার মনিরুল ইসলাম বলেন, আমাকে ভুল বুঝিয়ে নির্বাচন স্থগিতের জন্য মামলা করানো হয়েছে। আমি প্রতারনার শিকার হয়েছি। বর্তমান মেয়র জহিরুল ইসলাম চাকলাদারের লোকজনকে আমার কাছ থেকে স্বার করে আনেন। আমার কাছে মামলার বিষয়টি এড়ানো হয়েছে। আদতে মামলার বিষয়টি আমি জানতাম না। রিটকারীদের আরেকজন সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমি কিছুই জানতাম না। আমি দল করি। দলীয় কাজে লাগবে বলে আমার কাছ থেকে স্বার করিয়ে নেয়। এখন আমি বুঝতে পারছি বিষয়টি আমার ভুল হয়েছে। আমি নির্বাচনের প।ে যশোর পৌরসভার নির্বাচন স্থগিত থাকছে। সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার আদালতে রোববার এ বিষয়ে শুনানি হওয়ার কথা থাকলেও চেম্বার বিচারপতি মো. নুরুজ্জামান তা মুলতবি করেছেন। একইসঙ্গে হাই কোর্টের আদেশ বের হওয়ায় রাষ্ট্রপরে আইনজীবীকে নিয়মিত আবেদন (সিপি) করতে বলেছেন। আগামী বৃহস্পতিবার চেম্বার বিচারপতির আদালতে স্থগিত হওয়ার বিষয়ে শুনানি হতে পারে। সেই পর্যন্ত যশোর পৌরসভার নির্বাচনে তিন মাসের স্থগিতাদেশ দিয়ে হাই কোর্টের দেয়া আদেশ বহাল থাকছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপরে আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সমরেন্দ্র নাথ বিশ্বাস।
এর আগে গত ৯ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার একটি রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মো. কামরুল হোসেন মোল্লার সমন্বয়ে গঠিত হাই কোর্ট বেঞ্চ যশোর পৌরসভার নির্বাচন আগামী তিন মাসের জন্য স্থগিত করে আদেশ দেন। ওই বেঞ্চের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার নওরোজ মোহাম্মদ রাসেল চৌধুরী জানিয়েছিলেন,সীমানা নির্ধারণ ও ভোটার তালিকা সংশোধন ইস্যুতে যশোর পৌরসভার নির্বাচন আগামী তিনমাসের জন্য স্থগিত করেছেন আদালত। পরে ওই স্থগিতাদেশ স্থগিত চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার বিচারপতির আদালতে আবেদন করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। উল্লেখ্য, আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি যশোর পৌরসভায় ভোট গ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করে নির্বাচন কমিশন। যশোর পৌরসভা নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী গত ১২ জানুয়ারি বৈধ প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। যারা রাত-দিন নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যস্ত রয়েছেন। বিশেষ করে কাউন্সিলর প্রার্থীরা যশোর শহরকে রীতিমতো উৎসবের শহরে রুপান্তর করেছেন। পোস্টারে ছেয়ে গেছে গোটা পৌর এলাকা। নৌকার প্রার্থী হায়দার গনি খান পলাশের পে চলছে মাইকিং। আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের ব্যনারে প্রতিদিনই হচ্ছে নৌকাকে বিজয়ী করতে প্রস্তুতি সভা। এই নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থী হয়েছেন নগর বিএনপির সভাপতি সাবেক মেয়র মারুফুল ইসলাম মারুফ। এছাড়া মেয়র পদে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী হয়েছেন মোহাম্মদ আলী সর্দার। এবার যশোর পৌরসভা নির্বাচনে ৬৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। যশোর জেলা সিনিয়র নির্বাচন অফিসার ও রিটার্নিং কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির বলেন, তফসিল অনুযায়ী নির্বাচনী কার্যাক্রম চলছে। নির্বাচন স্থগিতাদেশের বিষয়ে কোন নির্দেশনা আমাদের কাছে আসেনি। তাই আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি ভোট গ্রহণ হবে। সেই অনুযায়ী আমাদের প্রস্তুতি চলছে।














