যশোরে শামস-উল-হুদা অ্যাকাডেমি মাল্টি পারপাস বিল্ডিং নির্মাণ শুরু

0
376

মালেকুজ্জামান কাকা, যশোর : যশোর সদর উপজেলার হামিদপুর গ্রামে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে শামস-উল-হুদা ফুটবল অ্যাকাডেমির ভাষা সৈনিক মুসা মিয়া ভবনের। যশোরের বিশিষ্ট ক্রীড়াব্যক্তিত্ব শামস-উল-হুদার ৩৪তম মৃত্যুবার্ষিকীতে তার জামাতা শিল্পপতি নাসের শাহরিয়ার জাহেদী রোববার বিকেলে যশোর সদরের হামিদপুর গ্রামে এই ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করেন।
এই ভবন নির্মিত হলে এখানে দেড় শতাধিক ফুটবল খেলোয়াড় হোস্টেল সুবিধা পাবেন। ছয়তলা এই ভবনে থাকবে একটি জিমনেশিয়ামও। এ উপলে আয়োজিত ভিত্তিপ্রস্তর অনুষ্ঠানে রেডিয়েন্ট ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের চেয়ারম্যান নাসের শাহরিয়ার জাহেদী বলেন, নিয়ত ঠিক রেখে সঠিকপথে চেষ্টা করলে সেটি পূরণ সম্ভব। এই অঞ্চলে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ চেয়েছিলেন ফুটবল অ্যাকাডেমিটা হোক। আর সেই কারণেই আজকে অ্যাকাডেমির নতুন অধ্যায়ের শুভ সূচনা হলো।
অল্প সময়ের মধ্যে এই একাডেমি ভালো ফল পেতে শুরু করেছে। এই একাডেমির ৭ জন ফুটবলার জাতীয় পর্যায়ে খেলার সুযোগ পেয়েছে। একাডেমির একজন খেলোয়াড় এক মৌসুমের জন্য ২৬ ল টাকায় চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। এছাড়াও ইতিমধ্যে একাডেমিটি আন্তর্জাতিক কিছু ম্যাচও খেলেছে। অন্যদিকে বাংলাদেশের অনেক নামি দামি কাবে এখানকার ছেলেরা তাদের হয়ে খেলছে। অপরদিকে বিকেএসপি মাত্র একটি ম্যাচ বাদে সবগুলো ম্যাচ এই একাডেমির কাছে পরাজিত হয়েছে।’
একাডেমি কার্যক্রম এভাবে চলমান থাকলে আশা করছি দেশ ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সুনাম আনবে। একাডেমির নির্মাণের কাজ শেষ হলে ছয়তলা এই ভবনে দেড়শতাধিক ফুটবলার থাকতে পারবেন। সেই সাথে ভবনটিতে আধুনিক জিমনেসিয়াম, অডিও, ভিডিও কাসরুম, কমনরুম ও ডাইনিং রুম এর ব্যবস্থা থাকবে। শামস্-উল-হুদা ফুটবল একাডেমির পরিচালক শামস্-উল বারী শিমুল বলেন, সরকারিভাবে শুধু বিকেএসপিতেই মাল্টি পারপাস বিল্ডিং রয়েছে। আর বেসরকারিভাবে দেশের মধ্যে শামস্-উল-হুদা ফুটবল একাডেমিতে ফুটবলারদের জন্য মাল্টি পারপাস বিল্ডিং নির্মাণ শুরু হলো। যা দেশের ফুটবলার তৈরিতে একাডেমি হিসেবে শামস্-উল-হুদা ফুটবল একাডেমি ইতিহাসে নাম লেখালো। তিনি বলেন, এই অঞ্চলের মানুষ ক্রীড়াপ্রেমিক। তাদের রয়েছে সুন্দর মানসিকতা। একটি ফুটবল অ্যাকাডেমির জন্য এর চেয়ে আর ভালো কী পরিবেশ হতে পারে! এখানকার মানুষের আন্তরিকতার ফলেই একই জমিতে এত বড় একটা প্রতিষ্ঠান করা সম্ভব হচ্ছে।
তিনি বলেন, প্রতিবছর দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ৬০০+ কিশোর পরীা দিতে এখানে আসে। আমরা ২০ জনের বেশি রাখতে পারিনি। অ্যাকাডেমি ভবন নির্মাণ হলে দেড় শতাধিক স্টুডেন্ট এখানে হোস্টেল সুবিধা পাবে। পাশে আরো জমি পাওয়া গেলে আগামীতে এই গ্রামেই ক্রিকেট অ্যাকাডেমি করার আকাঙ্া ব্যক্ত করেন এই শিল্পপতি। অনুষ্ঠানে তিনি ছাড়াও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. শফিকউজ্জামান, ফতেপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম, সমাজসেবক রবিউল আওয়াল প্রমুখ বক্তৃতা করেন। ফুটবলের মাল্টি পারপাস ভবন বলতে বোঝায় একটি বহুমুখী স্টেডিয়াম যেখানে ফুটবলাররা ইনডোর প্রাকটিস ছাড়াও আধুনিক ফুটবলের সকল সুবিধা ভোগ করবেন। সেখানে আবাসন ব্যবস্থা থাকবে। থাকবে বিনোদনের ব্যবস্থা। এবং প্রশিক্ষন হবে আধুনিক প্রযুক্তিতে স্বয়ং সম্পুর্ণ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here