যশোর পৌরসভার নির্বাচন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত

0
362

স্টাফ রিপোর্টার : যশোর পৌরসভার নির্বচান অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। গতকাল বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে সিনিয়র সহকারি সচিব সাক্ষরিত চিঠিতে যশোর পৌরসভা নির্বাচন পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত জেলা রির্টানিং কর্মকর্তাকে কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গতকাল ১৭.০০.০০০০.০৩৪.৩৮.০২২.২০(অংশ-১)-১৭৫ নং স্বারকে সিনিয়র সহকারি সচিব মোহাম্মদ মোরশেদ আলম স্বাক্ষরিত চিঠিতে এ আদেশ দেওয়া হয়। জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা হুমায়ূন কবীর বলেন, নির্বাচন কমিশন আজ (গতকাল) যে নির্দেশনা দিয়েছেন সে মোতাবেক নির্বাচন স্থগিত করা হচ্ছে।
গত ৯ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টের এক আদেশে নির্বাচন স্থগিত করা হয়। ওই আদেশ হাতে পেয়ে নির্বাচন কমিশন বৃহষ্পতিবার যশোর পৌরসভার নির্বাচন স্থগিত করেছে। ফলে নির্ধারিত দিনে ভোটগ্রহণ নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা বলছেন, চেম্বার জজের আদেশের বিষয়ে নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত না দেয়া পর্যন্ত ভোটগ্রহণ স্থগিতই থাকেব। গত ৯ ফেব্রুয়ারি এক রিট আবেদনের শুনানি শেষে বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মো. কামরুল হোসেন মোল্লার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ যশোর পৌরসভার নির্বাচনের ওপর তিনমাসের স্থগিতাদেশ দেন। সীমানা নির্ধারণ ও ভোটার তালিকা সংশোধন ইস্যুতে রিটটি দায়ের হয়েছিল। পরে ওই স্থগিতাদেশ স্থগিত চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার আদালতে আবেদন করেছিল নির্বাচন কমিশন। এরপর আজ (গতকাল) হাইকোর্টের দেয়া তিনমাসের স্থগিতাদেশ সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার আদালত স্থগিত করেছেন। এদিক হাইকোর্টের স্থগিতাদেশের পর নির্বাচন কমিশন যশোর পৌরসভার নির্বাচন স্থগিত করে একটি আদেশ জারি করে। যা যশোর নির্বাচন অফিসে এসে পৌছেছে। জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা হুমায়ূন কবীর বলেন, নির্বাচন কমিশন আজ যে নির্দেশনা দিয়েছেন সে মোতাবেক নির্বাচন স্থগিত করা হচ্ছে। হাইকোর্টে নতুন কোন আদেশ হলে সে বিষয়ে যতণ পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন কোন নির্দেশনা না দিবেন ততণ নির্বাচন স্থগিতই থাকবে।
এদিকে গত ৯ ফেব্রুয়ারি যশোর পৌরসভার নির্বাচন উপলে মনোনয়ন জমা দেন আওয়ামী লীগ মনোনীত জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি হায়দার গণি খান পলাশ, বিএনপি মনোনীত নগর বিএনপির সভাপতি মারুফুল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মোহাম্মাদ আলী সরদার ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুর রহমান কাকন মৃধা। এছাড়া নয়টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে ৬৫ জন ও সংরতি কাউন্সিলর পদে ১৩ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। মনোনয়ন যাচাই বাছাইয়ে বিএনপি মনোনীত নগর বিএনপির সভাপতি মারুফুল ইসলাম ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুর রহমান কাকন মৃধার মনোনয়ন বাতিল করেন রিটানিং অফিসার। এনসিসি ব্যাংকে খেলাপী ঋণের কারণে তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছিল। মারুফুল ইসলামের দাবি গত ২৪ জানুয়ারি টাকা পরিশোধ করেন তিনি। ২ ফেব্রুয়ারি ‘টাকা পরিশোধ হয়েছে’ মর্মে চিঠি হাতে পান। তবে নিয়ম অনুযায়ী এনসিসি ব্যাংক ওই ঋণ পরিশোধের চিঠি বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠাবে। এ সংক্রান্ত কাগজপত্র জমা দিলেও রিটানিং অফিসার তার মনোনয়ন বাতিল করেছিলেন। এরপর তিনি উচ্চ আদালতে গিয়ে প্রার্থীতা ফেরত পেয়েছেন। এদিকে ২৮ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রতীক বরাদ্দও করা হয়েছে। প্রার্থীরা প্রচারণাও শুরু করেছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here