বিনোদনের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছে মহম্মদপুর পরিষদ

0
286

মহম্মদপুর (মাগুরা) প্রতিনিধি : সকল শ্রেনিপেশার মানুষের একমাত্র বিনোদনের মাধ্যম হয়ে উঠেছে মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলা পরিষদের মধ্যে নির্মিত মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি চত্ত্বর। ঋতুরাজ বসন্তের আমেজে রাতে হালকা শীত আর দিনে ঝাঁজালো গরম উপেক্ষা করে বিকেল হলেই উপজেলার নানা শ্রেনিপেশার মানুষ মনের খোরাক জোগাতে বিভিন্ন এলাকা থেকে ছুটে আসেন এই মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি চত্ত¦রে। মুঘল আমলে ভূষনা রাজ্যের রাজধানী হিসেবে নাম ছিলো মাহমুদপুর, সেই থেকে এখনো পর্যন্ত ঐতিহ্য বহন করে আসছে বর্তমান মহম্মদপুর। ঐতিহ্যবাহী এই উপজেলা সদরে বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে রয়েছে রাজা সিতারাম রায়ের কাচারি বাড়ী ও বাস ভবন, মধুমতি নদী ও তার উপর নির্মিত শেখ হাসিনা সেতু এবং দক্ষিন পাশে রয়েছে সৌন্দর্য মন্ডিত একটি বাওড়। হাজার বছরের এসব ঐতিহ্যের সাথে শিশু-কিশোরসহ নারী-পুরুষের বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে যোগ হয়েছে মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি চত্ত্বর। জানা যায়, উপজেলা প্রশাসন ও পরিষদের সার্বিক সহযোগিতায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’র ২৯ ফুটের একটি মুর‌্যাল নির্মাণ করা হয়েছে পরিষদের মধ্যে। এ ছাড়া সুজ্জিত একটি শহিদ মিনারও নির্মাণ করা হয়েছে। যার সামনে রয়েছে বিশাল মঞ্চ, এই মঞ্চে প্রতিনিয়ত কোনো না কোনো অনুষ্ঠান হচ্ছে। দেখা যায়, বঙ্গবন্ধুর মুর‌্যালের সামনে চারটি অংশে সবুজ ঘাসের গালিচা। মাঝ দিয়ে দর্শনার্থীদের হেটে চলার পথ। পথের পাশে ও প্রতিটি অংশের মাঝে ফুটেছে নানা রঙের ফুল। ঋতুরাজ বসন্তের আমেজ চলছে প্রকৃতিতে। গাছে গাছে এসেছে কচি পাতা। পাখিদের কিচিমিচির শব্দে মুখরিত চারিদিক। উপজেলার এই স্বর্গীয় সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিন শতশত নারী-পুরুষ বিভিন্ন এলাকা থেকে ছুটে আসছেন এই চত্ত্বরে। ফুলের সাথে ফটো সেশনে সময় কাটে এসব দর্শনার্থীদের।এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে আশা উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল যশোবন্তপুর গ্রামের মাসুদ রানা ও সদরের বাসিন্দা রুবাইয়াতুল ইসলাম শিমুল বলেন, এই মুক্তিযোদ্ধা চত্ত্বরটি ভালো লাগে তাই মাঝে মাঝে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসি। প্রতিনিয়ত আমার মতো অনেকেই আসেন এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে। তাই ধন্যবাদ জানাই নির্বাহী অফিসার এবং উপজেলা চেয়ারম্যানকে, সকল শ্রেনি-পেশার মানুষের কাছে উপজেলা পরিষদকে বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে গড়ে তোলার জন্য। উপজেলা নির্বাহী অফিসার রামানন্দ পাল জানান, কাজের পাশাপাশি প্রতিটি মানুষের বিনোদনের প্রয়োজন। মানুষের বিনোদন এবং উপজেলা পরিষদটি সুন্দর করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে আমার এবং উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের প্রচেষ্টায় সাজানো হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি চত্ত্বরটি নানা জাতের ফুল দিয়ে জাতীয় পতাকার আদলে গড়ে তোলা হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন শ্রেনি-পেশার মানুষ তাদের ভালো লাগে বলেই এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসেন। এটা আমাদেরও ভালো লাগে। উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ আবু আব্দুল্লাহেল কাফি বলেন, ঐতিহ্যবাহী এই উপজেলাকে সুন্দর করে সাজানোই আমাদের মূল লক্ষ। বিনোদনের জন্য উপজেলাার বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ ঘুরতে আসবে, তাদের ভালো লাগবে এটাই আমাদের ভালো লাগা। এছাড়াও নদের চাঁদের ঘাট, বাওড়সহ ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলো পর্যাটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here