ভাইয়ে ভাইয়ে দ্বন্দ্ব, নড়াইলে জেলহাজতে বর্গাচাষি

0
310

নড়াইল প্রতিনিধি : ভাইয়ে ভাইয়ে জমি নিয়ে দ্বন্দ্ব; জেলহাজতে বর্গাচাষি। আবার জমির ধান উপড়ে মহাবিপদে ফেলা হয়েছে নড়াইলের মুলদাইড় গ্রামের সুনীল বালার স্ত্রী গীতাকে। একটার পর একটা বিপদে কান্না থামছে না অসহায় গীতারানী বালার। এই ঘটনার প্রতিবাদে সমব্যথী হয়ে স্থানীয়রা ত্রিগ্রস্ত জমির পাশে দাঁড়িয়েছেন। দাবি করেছেন সুষ্ঠু বিচারের। অভিযোগে বলা হচ্ছে, নড়াইলের মুলদাইড় গ্রামের সুরেন বালার ছেলে সুনীল বালা একজন বর্গাচাষি। তিনি তালতলা গ্রামের জাহিদ মুন্সীর মুলদাইড় মাঠের ১৮ শতক জমিতে বোরো ধানের আবাদ করেন। ফসলও ভালো হয়েছে। কিন্ত শুক্রবার সকালে তালতলা গ্রামের মাওলানা গোলাম মোস্তফার নেতৃত্বে একদল লোক এসে সেই ধান উপড়ে ফেলেন। গীতারানী বালা বলেন, ওই জমি বর্গাচাষ করার কথিত অপরাধে বুধবার রাত দেড়টার দিকে বাড়িতে পুলিশ আসে। কথা বলবে বলে পুলিশ তাকে থানায় নিয়ে যায়। এরপর কোর্টের মাধ্যমে জেলহাজতে। শনিবার সকালে তিগ্রস্ত মাঠের পাশে দাঁড়িয়ে এইসব ঘটনার বিচার দাবি করেন মুলদাইড় গ্রামের শহিদুল ইসলাম, সুরুচি রায়, বাসন্তীরানী, রেখারানী বালা, প্রত্যশী বালা প্রমুখ। তারা ঘটনার নিন্দা জানান এবং সুনীলের মুক্তি দাবি করেন। এ বিষয়ে মাওলানা গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘জমি আমার এবং এ নিয়ে আদালতে মামলা চলছে। সুনীল বালা ও ডাবলু জবরদখল করে খাচ্ছে। তাই আইনের আশ্রয় নিয়েছি। পুলিশ তাকে ধরে নিয়ে গেছে। পুলিশকে জানিয়েই জমি পরিষ্কার করেছি।’ গোলাম মোস্তফার চাচাতো ভাই জাহিদ মুন্সি বলেন, ‘প্রায় ৩৬ বছর আগে আব্বার মৃত্যুর পর থেকে আমার চাচা জোরপূর্বক জায়গা-জমি ভোগদখল করে আসছিল। ২০০১ সালে কাজের জন্যে বিদেশে (কুয়েত) যাই। সেখানে থাকাকালে সদর থানার (১৩৭ নম্বর তালতলা মৌজার খতিয়ান নম্বর ৮৫ এর সাবেক দাগ নম্বর ৪৪) ১৮ শতাংশ ধানি জমি তারা ভোগদখল করতে থাকে। ২০১৫ সালে দেশে আসার পর আমি ওই জমি দখলে নিই। এরপর থেকে আমার চাচা ওই জমি দখলে নিতে আমাকে খুন-জখম করার জন্য ষড়যন্ত্র করতে থাকে। যার কারণে জমিটি সুনীল বালাকে বর্গা দেই। সে দুই মাস আগে ইরি ধান বপন করে। গত ১২ মার্চ সকালে লাঠিসোটা নিয়ে আমার জমিতে অনধিকার প্রবেশ করে ও ধান উপড়ে ফেলে।’ নড়াইল সদর থানার ওসি মো. ইলিয়াস হোসেন বলেন, ‘লিখিত অভিযোগ পেয়েছি এবং একজন এসআইকে ঘটনা তদন্তে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সুনীল বালার জামিনের জন্য সহযোগিতা করা হবে।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here