স্টাফ রিপোর্টার : বড় ধরনের কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শেষ হয়েছে যশোর পৌরসভার নির্বাচন। এই নির্বাচনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা হায়দার গণি খান পলাশ জয়লাভ করে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা ৩২ হাজার ৯শ’ ৪০ । তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মোহাম্মদ আলী সরদার হাতপাখা মার্কায় পেয়েছেন ১২ হাজার ৯শ’ ৪৭ ভোট। এছাড়া নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানো বিএনপি নেতা সাবেক মেয়র মারুফুল ইসলামের ধানের শীষ প্রতীকে পড়েছে ৭ হাজার ৩শ’ ২ ভোট। গতকাল সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ইভিএম ম্যাশিনে চলে ৫৫টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ। বিপুল সংখ্যক পুলিশ, বিজিবির পাশাপাশি স্ট্রাইকিং ফোর্সের প্রধান হিসাবে প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে একজন করে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট দায়িত্ব পালন করায় কোথাও কোন অপ্রীতিকর ঘটনার সৃষ্টি হয়নি। তবে প্রথম বারের মতো ইভিএম ম্যাশিনে ভোট প্রদান করতে গিয়ে সাধারণ ভোটাররা কম বেশি বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া সাধারণ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে ১নং ওয়ার্ডে সাহিদুর রহমান রিপন,২ নং ওয়ার্ডে শেখ রাশেদ আব্বাস রাজ, ৩ নং ওয়ার্ডে শেখ মোকছিমুল বারী অপু, ৪ নং ওয়ার্ডে জাহিদ হোসেন মিলন,৫ নং ওয়ার্ডে রাজিবুল আলম, ৬ নং ওয়ার্ডে হাজি আলমগীর কবির সুমন, ৭ নং ওয়ার্ডে শাহেদ হোসেন নয়ন, ৮ নং ওয়ার্ডে প্রদীপ কুমার নাথ বাবলু ও ৯ নং ওয়ার্ডে এ্যাড. আসাদুজ্জামান বাবুল নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়া সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ১ নং ওয়ার্ডে আইরিন পারভীন ডেইজী, ২ নং ওয়ার্ডে নাসিমা আক্তার জলি ও ৩ নং ওয়ার্ডে শেখ রোকেয়া পারভীন ডলি নির্বাচিত হয়েছেন।
যশোর পৌরসভা নির্বাচনে ৩২ হাজার ৯৪০ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হায়দার গণি খান পলাশ। তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মোহাম্মাদ আলী সরদার হাতপাখা প্রতীকে ১২ হাজার ৯৪৭ ভোট পেয়েছেন। আর নির্বাচন থেকে অনেক আগেই সরে দাঁড়ানো বিএনপির মারুফুল ইসলামের ধানের শীষ প্রতীকে পড়েছে সাত হাজার ৩০২টি ভোট; যা অনেকের কাছেই বিস্ময়ের সৃষ্টি করেছে।
গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় পৌর কমিউনিটি সেন্টারে ভোট গণনা শেষে বেসরকারিভাবে এ ফলাফল ঘোষণা করেন জেলা রির্টানিং অফিসার ও জেলা নির্বাচনী কর্মকর্তা হুমায়ুন কবীর।
এদিকে, এক নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে সাইদুর রহমান রিপন পাঁচ হাজার ১১৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাহাঙ্গীর আহমেদ শাকিল পেয়েছেন এক হাজার ৮৪৬ ভোট।
দুই নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে রাশেদ আব্বাস রাজ দুই হাজার ১৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শেখ সালাউদ্দিন পেয়েছেন এক হাজার ১৪৮ ভোট।
তিন নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে মোকসিমুল বারী অপু এক হাজার ৬৮৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সাব্বির মালিক পেয়েছেন ৯৫৯ ভোট।
চার নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে জাহিদ হোসেন মিলন তিন হাজার ৫৬২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মুস্তাফিজুর রহমান পেয়েছেন দুই হাজার ৪৬৫ ভোট।
পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে রাজিবুল আলম দুই হাজার ৭৯৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হাফিজুর রহমান পেয়েছেন এক হাজার ৭৩৬ ভোট।
ছয় নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে আলমগীর কবীর সুমন দুই হাজার ৪৮০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আজাহার হোসেন স্বপন পেয়েছেন এক হাজার ৫২৭ ভোট।
সাত নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে শাহেদ হোসেন নয়ন এক হাজার ৫৬৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জুলফিকার আলী পেয়েছেন এক হাজার ৫৪৬ ভোট।
আট নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে প্রদীপ কুমার নাথ বাবলু দুই হাজার ১১৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সন্তোষ দত্ত পেয়েছেন এক হাজার ১৫১ ভোট।
৯ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে এ্যাড. মো. আসাদুজ্জামান বাবুল দুই হাজার ৪০৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আজিজুল ইসলাম পেয়েছেন দুই হাজার ২৮৬ ভোট।
এছাড়া সংরতি এক নম্বর ওয়ার্ডে আইরিন পারভীন ডেইজী চার হাজার ১৪২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আয়েশা সিদ্দিকা পেয়েছেন দুই হাজার ৫৪১ ভোট।
সংরতি দুই নম্বর ওয়ার্ডে নাসিমা আক্তার জলি ১৪ হাজার ১১৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নাছিমা সুলতানা পেয়েছেন তিন হাজার ১৮৫ ভোট।
সংরতি তিন নম্বর ওয়ার্ডে শেখ রোকেয়া পারভীন ডলি দশ হাজার ৮৩৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সালমা আক্তার বাণী পেয়েছেন সাত হাজার ৯০৭ ভোট।
ব্রিটিশ ভারতের দ্বিতীয় প্রাচীন পৌরসভা যশোরে এবার প্রথমবারের মতো ভোটগ্রহণ হয়েছে ইভিএমে। পৌরসভার ৫৫টি কেন্দ্রের ৪৭৯টি বুথে ভোটগ্রহণ করা হয়। মেয়র পদে তিনজন, কাউন্সিলর পদে ৪৭ জন ও সংরতি নারী কাউন্সিলর পদে ১৩ জন প্রতিদ্বন্দ্বীতায় ছিলেন। তবে প্রচারণা শুরুর পরপরই কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিএনপি তাদের প্রার্থী সাবেক মেয়র মারুফুল ইসলামকে ভোট থেকে সরিয়ে নেয়। এ পৌরসভার মোট এক লাখ ৪৬ হাজার ৫৯২ জন ভোটার । যার মধ্যে পুরুষ ভোটার ৭২ হাজার ৪৫ জন, নারী ভোটার ৭৪ হাজার ৫৪৯ জন।
নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ ভোটে ৩৬ শতাংশ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসার হুমায়ুন কবীর এ ফলাফল নিশ্চিত করেছেন।















