হাতপাখা তৈরি করে ভাত কাপড় জোটে সবুজের

0
347

মালেকুজজামান কাকা : তোমার হাত পাখার বাতাসে/প্রাণ জুড়িয়ে আসে/কিছু সময় আরো তুমি থাক আমার পাশে- ভ্যাপসা গরমে লোডশেডিং অথবা যেসব এলাকায় বিদ্যুত নেই, সেসব এলাকায় হাতপাখা যে স্বস্তির একমাত্র অবলম্বন তা শিল্পী আকবরের এক সময়ের সাড়া জাগানো গানটিতে ফুটে উঠেছে। সেই হাতপাখা এখন বিলুপ্তির পথে। তবে মাজে মধ্যে তা দেখা যায় গ্রামে।
প্রাচীন কাল হতে এখনো পর্যন্ত হাতপাখার চাহিদা রয়েছে প্রায় সমানতালে। তবে আধুনিকার এই যুগে প্লাসটিকের কারণে হাতপাখার কদর কিছুটা কমায় এর কারিগররা হিমসিম খাচ্ছে পেশা টিকিয়ে রাখতে। গ্রামাঞ্চলে মার্চ থেকে আক্টোবর মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত হাতপাখার চাহিদা থাকে বেশি। বছরের বাকি চার মাসও হাতপাখা তৈরির কারিগররা ব্যস্ত থাকেন এ প্রস্তুতে। আর তাদের এতেই ভাত, এতেই কাপড় জোটে এই তথ্য দিয়েছেন হাতপাখা তৈরির কারিগর সবুজ হোসেন (৩৬)।
যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার শিওরদহ গ্রামের সবুজ হোসেন। ১৫ বছর ধরে তিনি তালপাতা দিয়ে হাতপাখা তৈরি করছেন। তার বাবাও ২৫ বছর এ কাজ করেছেন। স্ত্রী ও দুই ছেলেমেয়ে তাকে এ কাজে সহযোগিতা করেন। সবুজ হোসেন জানান, প্রতিবছর অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত পাখার জন্য তালপাতা কেটে সংগ্রহ করতে হয়। প্রতিটি তালপাতা পাঁচ থেকে ছয় টাকা করে কিনতে হয়। একটি তালপাতায় দুইটি হাতপাখা হয়। এলাকায় দিনদিন তালগাছ কমে যাওয়ায় অধিকাংশ পাতা ফরিদপুর জেলা থেকে সংগ্রহ করতে হয়। তালপাতা সংগ্রহ করে তা কেটে রোদে শুকাতে হয়। তারপর ১০-১২ঘন্টা পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হয়। পরে সেগুলো বাঁশ ও লোহারদন্ডের মাধ্যমে চওড়া করার জন্য আবার রোদে দিতে হয়। শুকিয়ে গেলে ফের কেটে শলা ও হাতল লাগিয়ে রং করতে হয়। তালপাতার হাতপাখায় শলা ও হাতল বানানোর কাজে তল্লাবাঁশ ব্যবহার করা হয়।
তালপাতা, বাঁশ, রং ও অন্যান্য খরচসহ কটি হাতপাখায় প্রায় দশ টাকা খরচ পড়ে। বর্তমান একটি হাতপাখা পাইকারি বিক্রি হচ্ছে ১৫-১৬ টাকা। বছরে তিনি ১৫ হাজারের মতো হাতপাখা বানাতে পারেন। তাতে বছরে লাখ দেড়েক টাকা আয় হয়। বছরে আট নয় মাস হাতপাখা তৈরির কজে ব্যস্ত থাকতে হয়। বর্ষাকালে পাখা তৈরির কোন কাজ থাকে না। সবুজ হোসেন আরো জানান, নিজের কোন সম্পদ না থাকায় এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে হাতপাখা তৈরির মালামাল কিনতে হয়। পরে হাতপাখা বিক্রি করে ঋণ শোধ দিতে হয়। বছরে আট নয় মাস হাতপাখা তৈরি করে যে আয় হয় তা দিয়ে সারা বছর সংসার চালাতে হয়। আমাদের ‘এতেই ভাত, এতেই কাপড়’। কিন্তু প্লাসটিকের কারণে তালপাতার পাখার চাহিদা কমায় পেশা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন। তিনি সরকারের ঋণ সুবিধার দাবি করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here