আদালতের নির্দেশনা উপো করে জমি দখলের অপচেষ্টা পুলিশের উপস্থিতিতে কলাগাছ তুলে ফেলার অভিযোগ

0
540

শেখ আব্দুল মজিদ, চুকনগর, খুলনা ॥ ডুমুরিয়ার বরাতিয়ায় জমি-জমা সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জের ধরে আদালতের নির্দেশনা উপো করে মামলার বাদীপরে রোপনকৃত কলাগাছ প্রতিপরা উপড়ে ফেলে তি সাধন করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আর এেেত্র ব্যবহার করা হয়েছে পুলিশের বিশেষ সেবার ফোন ৯৯৯ হট নম্বরটি। ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার বেলা ১১ টার দিকে খুলনার ডুমুরিয়া থানার কুলবাড়িয়া-বরাতিয়া গ্রামে। মামলার নথিপত্র, থানা পুলিশ ও সরেজমিনে গিয়ে ভূক্তভোগীর সাথে আলাপকালে জানা যায়, ডুমুরিয়া থানার কুলবাড়িয়া-বরাতিয়া গ্রামের আব্দুল কুদ্দুস শেখের স্ত্রী মোসাঃ খাদিজা বেগম একই এলাকার মোঃ রুহুল আমিন বিশ্বাস গংদের কাছ থেকে কবলা দলিল মূলে খরিদকৃত ভোগ দখলীয় কুলবাড়িয়া মৌজার খতিয়ান নম্বর এস এ ১৯৫৫, দাগ নম্বর ১২২১, আর এস খতিয়ান নম্বর ১৩২৮, বিআরএস দাগ নম্বর ২৮৭৬- এর ২৮ শতক জমির মধ্যে হতে প্রায় ১৭ শতাংশ জমি নিয়ে প্রতিপরে সাথে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। মামলা চলমান থাকা অবস্থায় প্রতিপ একই এলাকার মোঃ হায়দার গোলদার, মোঃ শহিদুল ইসলাম গোলদার, আয়ুব আলী গোলদার, মোঃ আতিয়ার গোলদার, আনিছুর গোলদার, আজিবর গোলদার ওই জমি জবর দখলে নেয়ার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এমন অভিযোগে খাদিজা বেগম বাদী হয়ে খুলনার বিজ্ঞ সিনিয়র সহকারী জজ, ডুমুরিয়া আদালতে একটি দেওয়ানী মামলা দায়ের করেন যার নং ১২৩/১৯ইং। ওই মামলায় বিজ্ঞ বিচারক গত ২রা মার্চ দো-তরফাসূত্রে শুনানী অন্তে বাদী খাদিজা বেগমের অনুকূলে দখল বজায় রাখতে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেন। এছাড়া বিবাদী মোঃ হায়দার গোলদার গংদের বিরুদ্ধে মোকদ্দমা নিষ্পত্তিকালতক নালিশী ওই জমির মধ্যে বেআইনী অনুপ্রবেশসহ বাদীর ভোগ-দখলে বিঘ্ন সৃষ্টি থেকে বিবাদীগনের বিরুদ্ধে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ দ্বারা বারিত করেন। কিন্তু আদালতের ওই আদেশকে অমান্য গত ১৫ মার্চ বাদী খাদিজা বেগমের লোকজন জমিতে কাজ করার সময় বিবাদী হায়দার আলী গোলদার গং পুলিশের বিশেষ সেবা ৯৯৯ এ ফোন করে হয়রানি মূলক ভাবে পুলিশের সহায়তায় কাজ বন্ধ করে দেয়। এক পর্যায়ে শুক্রবার হায়দার আলী গং আবারও হট লাইন ৯৯৯ এ ফোন করে পুলিশ ডেকে এনে কুদ্দুস শেখদের রোপনকৃত কলাগাছ তুলে ফেলে তি সাধন করে। এ প্রসঙ্গে আব্দুল কুদ্দস শেখ জানান, তিনি তার লোকজন নিয়ে শুক্রবার সকাল থেকে জমিতে কাজ করে সাড়ে ১০ টার দিকে বাসায় আসেন খাওয়া-দাওয়া করতে। এরই মধ্যে প্রতিপ হায়দার আলী গং জমিতে অনাধিকার প্রবেশ করে তাদের রোপনকৃত কলাগাছ উপড়ে জমির পার্শবর্তী গর্তে ফেলে দেন। খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছায়ে সেখানে থানা পুলিশের উপস্থিতি দেখতে পান এবং বিষয়টি তিনি ডুমুরিয়া থানা অফিসার ইনচার্জকে মোবাইল ফোনে অবহিত করেন বলে তিনি জনান। তিনি আরও জানান, ওই জমিতে কাজ করতে গেলেই প্রতিপরা নানাবিধ হুমকি-ধামকি এবং থানা পুলিশ ডেকে নিয়ে একাধিক বার তাদের বাঁধা সৃষ্টি এবং হয়রানী করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ প্রসঙ্গে ডুমুরিয়া থানা অফিসার ইন চার্জ মোঃ ওবাইদুর রহমান বলেন, ৯৯৯ এ ফোন করার কারণে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। তবে পুলিশের উপস্থিতিতে কোন গাছ তুলে ফেলা হয়নি। গাছ যদি তুলে ফেলে থাকে তাহলে সেটি থানা থেকে পুলিশ যাওয়ার পূর্বে তোলা হয়েছে। এ সংক্রান্ত কোন ঘটনা ঘটলে থানায় অভিযোগ দিলে তদন্ত সাপেে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি আরো জানান, জমির বিষয়টি নিয়ে আব্দুল কুদ্দুস শেখ আদালতের আদেশের একটি কপি ইতোপূর্বে থানায় জমা দিয়েছেন। অপরদিকে হায়দার গোলদার বিষয়টি সম্পর্কে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট একটি দরখাস্ত দাখিল করেছেন যার কপিও থানাকে দিয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here