স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপর প্রশাসনের নজরদারি যশোরাঞ্চলে করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ পর্যায়ে

0
286

মালেকুজ্জামান কাকা : যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি) জেনোম সেন্টারের পরীায় আরো ৭০ ব্যক্তির শরীরে করোনাভাইরাসের অস্তিত্ব মিলেছে। সন্দেহভাজন এসব রোগীদের শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয় যশোর, মাগুরা এবং নড়াইল জেলা থেকে। এই পরিস্থিতিকে ভয়াবহ পর্যায়ে বলে মন্তব্য করেছেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও দেশের শীর্ষস্থানীয় অণুজীববিজ্ঞানী ড. মো. আনোয়ার হোসেন। যবিপ্রবির অণুজীববিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ও পরীণ দলের সদস্য ড. ইকবাল কবীর জাহিদ জানান, গত শুক্রবার তাদের ল্যাবে মোট ১৫০ জনের নমুনা পরীা করা হয়। এর মধ্যে ৮৬ জনের রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। অর্থাৎ পরীতি নমুনার প্রায় ৪৪ শতাংশই পজেটিভ। এদিন যশোর জেলার ১২৯টি নমুনা পরীা করা হয়। এর মধ্যে ৫১ জনের নমুনায় করোনাভাইরাসের অস্তিত্ব মিলেছে। এছাড়া মাগুরার ১৯টি নমুনা পরীা করে ১৪টি এবং নড়াইলের ১৩টি নমুনা পরীা করে পাঁচটিকে পজেটিভ বলে শনাক্ত করা হয়। সামগ্রিক পরিস্থিতিকে ভয়াবহের কাছাকাছি বলছেন বিশিষ্ট অণুজীববিজ্ঞানী প্রফেসর ড. মো. আনোয়ার হোসেন। তার ভাষ্য, পরিস্থিতি কেমন তা নির্ভর করে মূলত একটি দেশের রোগী হ্যান্ডলিং করার ক্যাপাসিটির ওপর। তিনি বলছেন, এই হারে করোনার বিস্তার হতে থাকলে গোটা স্বাস্থ্য ব্যবস্থা দ্রুতই কোলাপস করবে। ইতিমধ্যে ঢাকা শহরে করোনা রোগীরা কেবিন মেলাতে পারছেন না। অর্থনৈতিক ক্যাপাসিটি থাকা সত্ত্বেও চিকিৎসার আওতায় আসতে পারছে না মানুষ। ফলে স্বাস্থ্যবিধি মানার কোনো বিকল্প নেই। ড. আনোয়ার বলেন, আমি যশোর থেকে ঢাকায় এলাম। দেখছি মানুষের মুখে মাস্ক নেই। কারও কারও মাস্ক আছে থুতনিতে। কোথাও কোনো নিয়মের বালাই নেই। মার্চ মাসটা আমরা বেপরোয়াভাবে কাটিয়েছি। সরকার দেরিতে হলেও লকডাউন দিয়েছে। কিন্তু লকডাউন তোলার জন্য চাপ দিচ্ছেন দোকানিরা। সবকিছু ওপেন করে দিলে পরিস্থিতি আরো খারাপ হবে। এর খেসারত এতো বেশি হবে যে, আমরা কল্পনাও করতে পারছি না।
স্বাস্থ্য বিভাগের হিসেব মতে, শুক্রবার বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত যশোর জেলায় মোট পাঁচ হাজার ৫০০ জনের শরীরে করোনাভাইরাসের অস্তিত্ব শনাক্ত হয়েছে। এক বছরের কিছু বেশি সময়জুড়ে মোট ৩২০০০ জনের নমুনা পরীা করে এই ফলাফল পাওয়া যায়।
শনাক্তদের মধ্যে ইতিমধ্যে সুস্থ হয়ে উঠেছেন চার হাজার ৯০০+ জন। মারা গেছেন ৬৬ জন। হাসপাতাল ও বাসায় চিকিৎসাধীন আছেন যথাক্রমে ২০ ও ৫০০ জন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here