কড়া লকডাউনের প্রথম দিন যেমন ছিল যশোর ১লা বৈশাখ ও মাহে রমজানের প্রথম দিনে অন্যরকম দিন কেটেছে যশোরবাসীর

0
414

স্টাফ রিপোর্টার : পবিত্র মাহে রমজানের প্রথম দিন, বাঙালীর প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ আর কড়া লকডাউনের প্রথম দিন সব কিছু মিলে এক অন্যরকম দিন কেটেছে যশোরবাসীর। মরণব্যাধী করোনা ভাইরাসের প্রার্দুভাব নিয়ন্ত্রনে মানুষকে ঘরবন্দি করার প্রানান্তর চেষ্টায় মাঠে যখন পুলিশের কড়া প্রহরা ঠিক তখন ঘর থেকে বের হওয়ার জন্য সাধারণ মানুষের অজুহাতের অন্ত ছিল না। রাস্তায় রাস্তায় পুলিশের সরব উপস্থিতির মধ্যেও মানুষের ভিড় ছিল রাস্তায়। অনেকটা গা ছাড়া ভাব ছিল তাদের। যেন করোনা ভাইরাস তাদের কিছু করতে পারবে না। অন্যদিকে বাঙালীর প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখে এবার ছিল না কোন উৎসবের আয়োজন। রাস্তায় ছিল না কোন মঙ্গল শোভাযাত্রা। ঢাক, ঢোল আর করতালের বাজনার তালে তালে ছিল না নানা বয়সের মানুষের সম্মিলিত নাচের দৃশ্য। তবুও এই দিনটাকে স্মরণীয় করে রাখতে তরুণ তরুণীর ছিল প্রানান্তর চেষ্টা।
সর্বত্রই চলছে কড়া লকডাউন। দোকান পাঠ, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, সরকারী আধা সরকারী অফিস আদালত সব বন্ধ। সীমিত পরিসরে ব্যাংক খোলা থাকলেও লেনদেন একেবারেই কম। নির্দিষ্ট সময়ের জন্য খোলা কাঁচাবাজার আর মাছ মাংসের দোকান। অতি প্রয়োজনে পুলিশী পাস ছাড়া জনসাধারণের চলাচল নিষেধ। কেবল মাত্র জরুরী সেবা কর্মে নিয়োজিতরা তাদেও পরিচয়পত্র দেখিয়ে চলঅচল করতে ডপারবে। সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। সরকারী নির্দেশনা মোতাবেক রিকসা, ভ্যান ইজিবাইসকসহ সব ধরনের মানুষ বাহী যানবাহন স্থানীয় ভাবে চলাচলের ওপর পুলিশী নিয়ন্ত্রন থাকবে। তবে পণ্য পরিবহন স্বাভাবিক রাখতে পন্যবাহী যানবাহন চলাচলের অনুমতি রয়েছে সরকারী ভাবে। কিন্তু সব কিছুই যেন কাগজে কলমে। বাস্তবে তার প্রয়োগ নেই বললেই চলে। সব কিছু বন্ধ থাকলেও নানা অজুহাতে সাধারণ মানুষ ঘর থেকে দেদারছে বের হচ্ছে। উপলক্ষ্য পহেলা বৈশাখের ঘোরাফেরা ও মাহে রমজানের কেনাকাটা।
এদিকে দোকান পাঠ সব বন্ধ থাকলেও যশোরের বড় বাজারে চলছে চোর পুলিশ খেলা। প্রতিটি মুদি দোকানী, তৈরী পোষাকের দোকানী, ছিট কাপড়ের দোকান, জুতার দোকান থেকে শুরু করে বড় বাজারের সব দোকান পাঠ ভেতরে ভেতরে খোলা। বাইরে থেকে দোকানের শার্টার নামানো থাকলেও ভেতরে চলছে বেচাকেনা। গতকাল সরেজমিন বড় বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি দোকানের সামনে কর্মচারীরা বসে আছে। ফাঁক বুঝে দোকানের শার্টার খুলে ভেতরে খদ্দের পাঠিয়ে দিচ্ছে। আর কেনাকাটা শেষ হলে ফের শার্টার খুলে খদ্দেরদের বাইরে বের করে দিচ্ছে। তবে পুলিশী প্রহরা দেখলে দ্রæত দোকানের শার্টারে বা দরজায় ঝুলিয়ে দেওয়া হচ্ছে তালা। স্বাভাবিক ভাবে দেখলে মনে হচ্ছে দোকান পাঠ বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ কিন্তু আসলে না নয়। আর এ কারনেই সারা দিন যশোরের বড় বাজারসহ সর্বত্রই ক্রেতা সাধারণের চাপ সামলাতে হিমসিম খেতে হচ্ছে পুলিশের।
এবারের লকডাউনে বড় বড় শপিং মল ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও ছোট ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বা দোকান পাঠে চলছে চোর পুলিশের খেলা। আর এর পাশাপাশি ইজিবাইক, সিএনজি অটো রিকসা,ভ্যানে করে মানুষের চলাচল অনেকটা স্বাভাবিক রয়েছে। খেটে খাওয়া এসব মানুষের বক্তব্য হচেছ কাজ না করলে না খেয়ে তো মারা যাবো। আমরা দিন আনি দিন খাই মানুষ। একদিন কাজ না করলে চুলো জ¦লে না। আমাদের তো আর সরকার ত্রাণেল ব্যবস্থা করছে না। ফলে জীবনের ঝুকি নিয়েই আমরা রাস্তায় বের হচ্ছি। মরণ যদি হয় তবে কিছু করার নেই।
এদিকে এবারের পহেলা বৈশাখ নীবওে পার করছে বাঙালীরা। মরণব্যাধী করোনা ভাইরাসের মরণ থাবায় দেশ যখন নাকাল তখন বাঙালীর জীবনে পহেলা বৈশাখের আবেদন অনেকটা ফিকে হয়ে গেছে। ১লা বৈশাখকে ঘিরে বাঙালীর প্রাণের সেই উচ্ছা¦াস আর নেই। দেশ এক কঠিন সময় পার করছে। এর মধ্যেই মাহে রমজানের আগমন। ধর্মপ্রাণ মুসলমানেরা ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্যেই পালন করছে সিয়াম সাধনা। ইতিমধ্যে সরকারী ভাবে সিন্ধান্ত দেওয়া হয়েছে প্রতিটি মসজিদে ওয়াক্ত নামাজ ও তারাবীর নামাজে ইমাম মুয়াজ্জিনসহ সর্বোচ্চ ২০ জন মুসল্লি জামায়াতে অংশ গ্রহণ করতে পারবে। যা নিয়ে রীতিমত পাড়া মহল্লায় মসজিদ গুলোতে ধাক্কা ধাক্কি লেগে গেছে। মসজিদ কমটি পড়েছে বিব্রতকর অবস্থায়। কোন ২০জনকে তারা মসজিদে জামাতে নামাজে উপস্থিত হতে নির্দেশনা দিবে তা নিয়ে রীতিমত হৈচৈ পড়ে গেছে। একদিকে কড়া লকডাউনের নামে বাজারে চোর পুলিশ খেলা অন্যদিকে মসজিদে তারাবীর নামাজসহ ওয়াক্ত নামাজে মুসল্লিদের উপস্তিতিতে বাঁধাদান সবকিছু মিলে দেশে বর্তমানে এক অস্তিতিশীল পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
তারপরও মরণব্যাধী করোনা ভাইরাসের মহা প্রার্দুভাব রুখতে হলে নিয়মিত শারিরিক দূরত্ব যেমন বজায় রাকতে হবে তেমনি অতি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হওয়ার প্রয়োজন নাই। খুব বেশি প্রয়োজন হলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে মুখে মাস্ক ও স্যানিটাইজেশনের ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here