ঘূর্ণিঝড় ইয়াস কাল বুধবার ভারতের মেদেনীপুরে আঘাত হানতে পারে ।। খুলনাঞ্চলে আঘাতের সম্ভাবনা কম

0
474

যশোর ডেস্ক : ঘন্টায় গতিবেগ ১৭ কিলোমিটার জোড়ে প্রবাহিত হচ্ছে ঘূর্ণিঝড় ইয়াস। তবে প্রতি মুহুর্ত এর গতি পথ পাল্টে যাচ্ছে বলে জানাচ্ছেন আবহাওয়াবিদরা। বেশ খানিকটা গতি বাড়িয়েছে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ইয়াস। স্থলভাগের দিকে ধেয়ে আসছে ইয়াস। সর্ব শেষ আগামীকাল বুধবার দুপুর নাগাদ এটা ভারতের উত্তর মেদেনীপুরের কাছে স্থল ভাগে এটা আচড়ে পড়তে পারে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের আবহাওয়া দপ্তর ‘মৌসম ভবন’ মঙ্গলবার স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটের (বাংলাদেশে বেলা পৌনে একটা) বুলেটিনে জানিয়েছে, গত ছয় ঘণ্টা ধরে ঘণ্টায় ১৭ কিলোমিটার গতিবেগে এগোচ্ছে ইয়াস। আর তার ফলেই স্থলভাগের থেকে ক্রমশ দূরত্ব কমছে তার। ঘূর্ণিঝড় যত স্থলভাগের দিকে এগোবে তত তার গতিবেগ বাড়বে।
তবে গতিবেগ বাড়লেও গতিপথ কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে ইয়াস-এর। পশ্চিমবঙ্গ উপকূল থেকে আরও কিছুটা ওড়িশার দিকে সরে গেছে ঘূর্ণিঝড়ের গতিপথ। অর্থাৎ বুধবার দুপুরে অতি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় রূপে ইয়াস ওড়িশার পারাদ্বীপ ও পশ্চিমবঙ্গের সাগর দ্বীপের মধ্যে ওড়িশার বালেশ্বরের দক্ষিণ ও ধামরার উত্তর দিক দিয়ে অতিক্রম করবে বলে পূর্বাভাস।
বঙ্গোপসাগরে ইয়াস এই মুহূর্তে ১৮ ডিগ্রি ৩ মিনিট উত্তর অক্ষাংশ ও ৮৮ ডিগ্রি ৩ মিনিট পূর্ব দ্রাঘিমাংশে অবস্থান করছে। এই মুহূর্তে ওড়িশার পারাদ্বীপ থেকে ২৮০ কিলোমিটার দক্ষিণ দক্ষিণ-পূর্ব, ওড়িশার বালেশ্বর থেকে ৩৮০ কিলোমিটার দক্ষিণ দক্ষিণ-পূর্ব, পশ্চিমবঙ্গের দিঘা থেকে ৩৭০ কিলোমিটার দক্ষিণ দক্ষিণ-পূর্ব ও সাগর দ্বীপ থেকে ৩৭০ কিলোমিটার দক্ষিণ দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থান করছে ইয়াস।
মঙ্গলবারের মধ্যে ইয়াস অতি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে বলেই জানিয়েছে মৌসম ভবন। তার পর আরও উত্তর উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে বুধবার ভোরে অতি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় রূপে পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশা উপকূলে চাঁদবালি ও ধামরা বন্দরের কাছে পৌঁছনোর কথা ইয়াস-এর। বুধবার দুপুরে বালেশ্বরের দক্ষিণ ও ধামরার উত্তর দিক দিয়ে অতিক্রম করবে ইয়াস, এমনটাই জানিয়েছে মৌসম ভবন। তার পর ঘূর্ণিঝড় চলে যাবে ঝাড়খণ্ডের দিকে।
ইয়াস-এর প্রভাবে মঙ্গলবার থেকেই রাজ্যের উপকূলবর্তী জেলাগুলো অর্থাৎ পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, কলকাতা, হাওড়া, হুগলিতে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে মৌসম ভবন। ইয়াস স্থলভাগে আছড়ে পড়ার সময় ঝড়ের গতিবেগ ১৫৫ থেকে ১৬৫ কিলোমিটার, সর্বোচ্চ ১৮৫ কিলোমিটার হতে পারে বলে জানিয়েছে মৌসম ভবন।

এদিকে ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের কারণে বাংলাদেশে সব ধরনের নৌযান বন্ধ ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। আজ বিকেলে এক বিজ্ঞপ্তি দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বিআইডব্লিউটিএ।
এদিকে, ঢাকা আবহাওয়া দপ্তরন জানিয়েছে, ঘণ্টায় ২১ কিলোমিটার গতিবেগে উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ইয়াস। বিকেলের মধ্যে সুপার সাইক্লোনে পরিণত হতে পারে। এতে বাতাসের গতি ঘণ্টায় ১৬৫ থেকে ১৯০ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়তে পারে।
আবহাওয়ার বিশেষ বার্তায় জানানো হয়েছে, ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’ চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৫৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ পশ্চিমে, কক্সবাজার থেকে ৫২৫ কিলোমিটার, মোংলা সমুদ্র বন্দর থেকে ৪৯০ কিলোমিটার এবং পায়রা সমুদ্র বন্দর থেকে ৪৬৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে। দেশের চার সমুদ্রবন্দরে দুই নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় জেলাগুলোতে ঝড়ো বাতাস বইছে। ,খুলনা, সাতক্ষীরা, পটুয়াখালী, নোয়াখালী ও ভোলা এলাকার নিচু এলাকা এবং চরাঞ্চলগুলোতে জোয়ারের পানি প্রবেশ করেছে।।

এদিকে চাঁদের ভরাকাঠাল মৌসুমের কারনে সাগরে জোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। তার ওপর ঘূর্ণিঝড়  ইয়াসের প্রভাবে সাগর মহা উত্তাল। আবহাওয়াবিদর বলছেন এই সময় ১০ থেকে ১২ ফুট উচ্চতায় জোয়ারের পানি ফুলে উঠতে পারে। ফলে সমুদ্র উপকুলীয় অঞ্চলের নিচু এলঅকা গুলো প্লাবিত হতে পারে। জোয়ারের পানি ঢুকে পড়তে পারে জনবসতি এলাকা গুলোতে। এর ফলে ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে সমুদ্র উপকুলীয় বাধ সমুহ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here