দেশের দক্ষিন পশ্চিমাঞ্চলের সেরা আম মোকাম র্শাশার বেলতলী বাগুড়ী

0
385

মালেকুজ্জামান কাকা : দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বৃহৎ আমের মোকাম যশোর জেলার শার্শা উপজেলার বেলতলা বাগুড়ী আমের মোকাম থেকে প্রতিদিনি ১০০ থেকে ২০০ মে:টন আম রফতানি হচ্ছে ঢাকা চিটাগাংসহ দেশের বিভিন্ন জেলা শহরে। করোনা পরিস্থিতি সর্ত্তেও বাজারে হিমসাগর গোপাল ভোগসহ বিভিন্ন প্রজাতির আমে বাজার জমজমাট হয়ে উঠেছে এখানকার আমের মোকাম। এবার বেশী লাভের আশা করছেন আম চাষীরা।
যশোরের শার্শা ও ঝিকরগাছা এবং সাতক্ষিরা কলারোয়াসহ তিনটি উপজেলার সংযোগস্থল বাগুড়ী বেলতলা বাজার। এ বাজারে প্রতিদিন ওইসব উপজেলা থেকে আসছে মোহনভোগ, হিমসাগর, গোপালভোগসহ নানা প্রজাতির আম। বছর কয়েক ধরে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বৃহৎ আমের মোকামে পরিনত হয়েছে বাজাররটি। চাষীরা বেশী লাভের আশায় আগাম আম এনে বাজারে বিক্রি করছেন। ঢাকা চিটাগাংসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে আসছেন আম ব্যবসায়িরা। বেলতলার প্রায় একশত আমের আড়ৎ থেকে আম কিরছেন তারা। ১৮০০ থেকে ৪০০০ টাকা মন দরে এসব আম কিনছেন তারা।
ঢাকা ও কুষ্টিয়া থেকে আসা আম ব্যবসায়িরা বলেন, এই হাটে আমের মজুদ বেশী থাকে। যেকারণে দামও কম। গত কয়েক দিনে প্রতিদিন ৩০০ ক্যারেট আম কিনছেন। এসব আম ঢাকা চিটাগাংয়ে বেশী দামে বিক্রি করে লাভবান হচ্ছেন।
আড়ৎ ব্যবসায়ি বাবলু হোসেন ও আকবার আলী বলেন, প্রচুর আম আমদানি হচ্ছে এখানে। জমজমাট বেচাকেনাও হচ্ছে। বাগুড়ীর আম দেশের বিভিন্ন শহরে ও দেশে বাইরেও রপ্তানী হচ্ছে। আমের মান ভাল হওয়ায় চাহিদাও ভাল।
জামতলা গ্রামের আমচাষি কালামুল বলেন, তিনি ৪ বিঘা জমিতে আম চাষ করেছেন। খরচ হয়েছে ৭৫ হাজার টাকা। ৩ লাখ টাকার আম বিক্রির আশা করছেন তিনি। এবার আমের ফলন ভাল হয়েছে বলে জানান চাষী মলম আলী ও আব্বাস আলী।
বাজার কমিটির সভাপতি নাসির উদ্দিন বলেন, প্রতিদিন ২০০ মে:টন আমদানি বেচাকেনা হচ্ছে। আমের গুণহত মান ঠিক রাখতে তিনি কমিটির সদস্যদের নিয়ে তদারকি করছেন। এবার আমে ফরমালিন রোধে গণসচেতনতাসহ প্রচার প্রচারণা চালানোও হয়েছে বলে দাবি করেন।
বাগ আচড়া পুলিশ ক্যাম্প ইনচার্জ বলেন, আমবাগান নজরদারীতে রেখেছে প্রশাসন। আমে যাতে কেউ কেমিকেল মেশাতে না পারে সেজন্য প্রশাসন সহ সজাগ রয়েছে পুলিশ।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সৌতম কুমার শীল বলেন, উপজেলায় চলতি মৌসুমে টার্গেট অতিরিক্ত আম চাষ হয়েছে। ফলন ও দাম ভাল পাওয়ায় খুশি চাষী। আমের ভাল হারবেষ্টের জন্যে চাষীদের পরামর্শ প্রশিক্ষণ ও সহযোগিতা দিচ্ছেন কৃষি অধিদপ্তর। আমের বাজারগুলো নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে বলে জানান কৃষি কর্মকর্তা।
যশোর সীমান্তঞ্চলের বৃহৎ আমের হাট শার্শার বেলতলা। যশোর ও সাতক্ষিরা জেলার ঝিকরগাছা শার্শা ও কলারোয়া সহ ৩টি উপজেলার কৃষকেরা এহাটে নিয়ে আসেন বিভিন্ন প্রজাতির রসালো ফল আম। প্রতিদিন প্রায় ৫০০ মে: টন আম রফতানি হচ্ছে ইউরোপ মধ্যপ্রদেশ সহ দেশের বিভিন্ন জেলা শহরে। ২০ থেকে ২৫টাকায় বিক্রি হচ্ছে এক কেজি আম। এতে খুশি ক্রেতা বিক্রেতারা।
আম ব্যবসায়িরা জানান, কম দামে আম পাওয়ায় দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ক্রেতা বিক্রেতারা আসেন বেলতলা আমের হাটে। এখান থেকে আম পাঠানো হয় বিভিন্ন মোকামে। বড় ব্যাবসায়িরা এ আম পাঠাচ্ছেন বিদেশে। লাভবান হচ্ছেন তারা। এখানে আড়ৎ ব্যাবসায়িরা প্রতিকেজি ২/৩টাকা লাভে বিক্রি করছেন আম। ফলে ক্রেতরা বিক্রেতা ঝুৃকছেন বেশী। বিভিন্ন এলাকা থেকে ক্রেতারা আসছেন আম বাজারে। এখন আমের বাজার জমজমাট। তবে এবার আমের দাম কম হলেও ফলন ও বিক্রি বেশী থাকায় খুশি চাষী।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হীরক কুমার সরকার-জানান, ৫০০হেক্টর জমিতে ফলন হয়েছে ১৮ হাজার টন আম। দাম কম হলেও বাম্পার ফলন হওয়ায় লাভবান হচ্ছে চাষী-এখানকার আম যচ্ছে দেশ ছাড়িয়ে বিদেশে। করোনায় সাময়িক সমস্যা হলেও আবার আম রপ্তানী হচ্ছে। আমে ফরমালিন রোধে কাজ করছেন কৃষি বিভাগ।
বেলতলা বাজার থেকে আম যায় দেশ ছাড়িয়ে বিদেশে। এতে উপকৃত হয় চাষী ব্যবসায়িরা। চাষীদের বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ প্রশিক্ষণ ও সহযোগিতা দিচ্ছেন উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর।
বাজার কমিটির সভাপতি ও কাউন্সিলর নাসির উদ্দিন বলেন, প্রতিদিন ২০০ মে:টন আমদানি বেচাকেনা হচ্ছে। আমের গুণহত মান ঠিক রাখতে তিনি কমিটির সদস্যদের নিয়ে তদারকি করছেন। এবার আমে ফরমালিন রোধে গণসচেতনতাসহ প্রচার প্রচারণা চালানোও হয়েছে বলে দাবি করেন।
বিগত কয়েক বছর ধরে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বৃহৎ আমের বাজারে পরিণত হয়েছে বাজারটি। চাষিরা বেশী লাভের আশায় আগাম আম এনে বাজারে বিক্রি করছেন। ঢাকা চিটাগাংসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে আসছেন আম ব্যবসায়ীরা। বেলতলার শত আমের আড়ত থেকে আম কিনছেন তারা। ১৮০০ থেকে ৪০০০ টাকা মণ দরে এসব আম কিনছেন তারা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here