নূর ইসলাম : করোনা ভাইরাসের জন্য মারাতœক ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে বিবেচিত জেলা গুলোর একটি যশোর। ভারতীয় সীমান্তবর্তী হওয়ার কারনে এই জেলায় করোনার ঝুকি শতভাগ। ইতিমধ্যে জেলার বিস্তৃর্ণ সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিনই ভারত থেকে বৈধ অবৈধ পথে বাংলাদেশীরা ফিরছে নিজ ঠিকানায়। এতে করে এই জেলাসহ আশেপাশের জেলা গুলোতে করোনা ভাইরাসের ভারতীয় ভেরিয়েন্ট ও বøাক ফাঙ্গাস মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যে গত ১ মাসে যশোরের বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে এনওসি নিয়ে প্রায় ৪ হাজার বাংলাদেশী পাসপোর্ট যাত্রী দেশে ফিরেছেন। এছাড়া অবৈধ পথে সীমান্ত গলি দিয়ে আরো কতো মানুষ যে ভারত থেকে দেশে ফিরেছে তার কোন সঠিক পরিসংখ্যান নেই কারোর কাছেই। এদিকে সীমান্ত বন্ধের সরকারী ঘোষনার পর থেকে যশোরের জেলা প্রশাসক এক প্রজ্ঞাপনে ভারত ফেরত সব পাসপোর্ট যাত্রীকে নিজ খরচে ১৪ দিনের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনের ব্যবস্থা করেন। এই জন্য বেনাপোল ও ঝিকরগাছার সব হোটেল মোটেল এবং পর্যটনের গেষ্টহাউজ জেলা প্রশাসন রিকুইজিশান করেন। এছাড়া যশোর শহরের ১৬টি আবাসিক হোটেল মালিকবৃন্দ জেলা প্রশাসনের অনুরোধে অর্ধেক ভাড়ায় ভারত ফেরত পাসপোর্ট যাত্রীদের কোয়ারেন্টাইনে থাকার ব্যবস্থা করতে সম্মত হন । এদিকে এসব হোটেলে কোয়ারেন্টাইনে থাকা ৩৯ জনের শরীরে বিভিন্ন সময় করোনা ভাইরাসের সন্ধান মেলে। এর মধ্যে ৫ জনের শরীরে করোনা ভাইরাসের ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টের অসিস্ত প্রমানিত হয় যবিপ্রবি জেনোম সেন্টারের পরীক্ষাগারে। এছাড়া বাকিদের শরীরে নানা ধরনের রোগ ব্যাধির উপসর্গ দেখা দেয়। ভারত ফেরতদের সারি দীর্ঘ হওয়ায় এই প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনের পরিধি খুলনা, নড়াইল, সাতক্ষীরা ও ঝিনাইদহ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়। ভারত ফেরত পাসপোর্ট যাত্রীদের পুলিশী প্রহরায় এসব জেলার প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইন সেন্টার গুলোতে পাঠায় যশোরের জেলা ও পুলিশ প্রশাসন। এই অবস্থার মধ্যেও যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসাপাতালের ডেডিকেটেড করোনা ওয়ার্ড থেকে দফায় দফায় ভারত ফেরত করোনা রোগীদের পলায়নের ঘটনা ঘটেছে। শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে পুলিশকে আদালতের আশ্রয় নিতে হয়েছে। পলাতক করোনা রোগীদের আদালতের নির্দেশে গ্রেফতার করে কোর্টে সোপর্দ করার ঘটনাও ঘটেছে যশোরে।
এদিকে সীমান্ত সংলগ্ন জেলা হওয়ার কারনে এখানে অবাধে ভারত বাংলাদেশের মধ্যে সীমান্ত চলাচল অপেক্ষাকৃত সহজ। ইচ্ছা করলেই যে কেহ বিজিবির প্রহরার ফাক গলিয়ে এপার ওপার করতে পারে। এছাড়া দেশের বৃহত্তম স্থল বন্দর বেনাপোল দিয়ে পাসপোর্ট যাত্রীদের পাশাপাশি দুই দেশের ব্যবসা বাণিজ্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন বেনাপোল পোর্ট ও পেট্রাপোল পোর্ট ব্যবহার করে চলাচল করছে। এসব চলাচলকারী ট্রাক ড্রাইভার, হেলপার, সিএন্ডএফ এজেন্ট ও তাদের কর্মচারী, দুই পোর্টের দায়িত্বশীল সরকারী বেসরকারী কর্মকর্তা কর্মচারীবৃন্দ, সীমান্তে নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত সীমান্ত প্রহরীবৃন্দ ছাড়াও লোড আনলোডের লেবার, কুলি মুটে মুজুর থেকে শুরু করে হরেক শ্রেণী পেশার মানুষ হর হামেশায় দুই দেশের মধ্যে বর্ডার পাস নিয়ে বৈধ অবৈধ পন্থায় অবাধে চলাচল করছে। ফলে এসব চলাচলকারীরা করোনা ভাইরাস বহনের জন্য উচ্চ ঝুকিপূর্ণ বাহক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আর এ কারনে খুলনা বিভাগীয় কমিশনার ইসমাইল হোসেন গতকাল ছুটে যান বেনাপোল স্থল বন্দর পরিদর্শনে। তিনি সেখানকার দৃশ্য দেখে হতবাক হয়ে যান। দুই দেশের মধ্যে ফ্রি স্টাইলে চলাচলকারীদের দেখে তিনি নিজেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তাৎক্ষনিক তিনি বেনাপোল বন্দর ব্যবহারকারী বিভিণœ প্রকারের স্টেক হোল্ডারদের নিয়ে জরুরী বৈঠক করেন। বৈঠকে যশোরের জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খান, পুলিশ সুপার প্রলয় কুমার জোয়ারদার, সিভিল সার্জন ডাক্তার আবু শাহিন, বেনাপোল বন্দরের কমিশনার আজিজুর রহমান, ইমিগ্রেশন অফিসার ইনচার্জ, বেনাপোল সিএন্ডএফ এজেন্ট এ্যাসিয়েশসের সভাপতি, সম্পাদকস স্থলবন্দর ব্যবহারকারী বিভিন্ন স্টেক হোল্ডারগণ ও তাদের প্রতিনিধিবৃন্দ এই সভায় উপস্থিত ছিলেন। সভায় করোনা ভাইরাসের ভারতীয় ভেরিয়েন্ট ও বøাক ফাঙ্গাসের আক্রমন রোধে সকলকে সতর্ক হওয়ার পরামর্শ প্রদান করে বিভাগীয় কমিশনার ইসমাইল হোসেন জানান, দ্রæত বেনাপোল বন্দর সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে টিকার আওতায় আনা হবে। একই সাথে বৈধ পাসপোর্ট যাত্রীদের নিজ খরচে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনের ১৪ দিন কঠোর ভাবে প্রতি পালন করতে হবে। একই সাথে অবৈধ পথে এই মুহুর্তে যেন একজন বাংলাদেশীও প্রবেশ করতে না পারে সে বিষয়ে বিজিবির কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন বিভাগীয় কমিশনার।একই সাথে ভারতীয় ট্রাক ড্রাইভার ও হেলপারদের প্রতি বিশেষ নজরদারি করার পরামর্শ দেন বিভাগীয় কমিশনার। এই জন্য বিজিবি, পুলিশ ও কাস্টমস এই তিন বিভাগ যৌথ ভাবে একটি চৌকষ মনিটোরিং টিম গঠনের সিদ্ধান্ত হয় ওই সভা থেকে।
উল্লেখ্য, ২৬ এপ্রিল থেকে সীমান্ত বন্ধ ঘোষনার পর বিশেষ ব্যাবস্থায় বেনাপোল ইমিগ্রেশন দিয়ে গত একমাসে দেশে ফিরেছে ভারতে আটকে পড়া ৩৭১৬জন যাত্রী। এদের মধ্যে ৩৯জন করোনা পজেটিভ রয়েছে। ৭৭১ জনকে বেনাপোলের বিভিন্ন হোটেলে কোয়ারেনটাইন করা হয়েছে। এদের মধ্যে ৭ জনের দেহে করোনা ভাইরাসের ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট পজেটিভ পাওয়া যায়। ফলে নতুন করে আতংক ছড়াচেছ বেনাপোলে।
এদিকে জেলঅর সিভিল সার্জন ডাক্তার আবু শাহিন জানান, সম্প্রতি যশোওে করোনা ভাইরাসের প্রার্দুভাব লক্ষ করা যাচ্ছে। ঈদেও পর থেকে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে সংক্রমন। যা গতকাল সর্বোচ্চ ২৩ শতাংশে গিয়ে পৌছায়। এই হার ঈদেও আগে ১০-১২ শতাংশের বেশি ওঠেনি। যবিপ্রবি ল্যাব ও যশোর মেডিকেল কলেজের পিসিআর ল্যাবের পরীক্ষায় প্রতি দিনই বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। যা রীতিমত ভয়ংকর বলেই মনে হচ্ছে। ফলে এই পরিস্থিতিতে দেশে যে কয়টি জেলঅ করোনা ভাইরাসের আকান্তের দিক দিয়ে উচ্চ মাত্রার মধ্যে পড়েছে যশোর তাদের একটি। সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ার কারনে ইতিমধ্যে এই জেলাকে রেড জোন ঘোষনা করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। বিশেষ করে জেলার সীমান্তবর্তী উপজেলা ও ইউনিয়ন এবং গ্রাম গুলোতে বিশেষ নজরদারি বাড়িয়েছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।
Home
খুলনা বিভাগ সীমান্তবর্তী জেলা যশোরকে করোনা ভাইরাসের জন্য মাত্রাতিরিক্ত ঝুঁকিপূর্ণ মনে করছে স্বাস্থ্য বিভাগ















