যশোরে বোরো ধান লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি উৎপাদন

0
364

স্টাফ রিপোর্টার : যশোরের সকল মাঠে বোরো ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে। মাঠের ধান বাড়ি এনে তা মাড়িয়ে এখন সারা বছরের খাবারের জন্য চাষিরা তৈরি করছেন চাল। গ্রামীণ জনপদের প্রায় প্রতি বাড়িতেই এখন চলছে বোরো ধান থেকে চাল তৈরির প্রক্রিয়া। এ প্রক্রিয়ায় বাড়ির আঙিনায় কেউ ধান ভিজিয়ে রাখছেন। কেউ চুলার আগুনে সেই ভেজানো ধান করছেন সিদ্ধ। আবার কেউ কেউ সিদ্ধ ধান শুকাচ্ছেন। ফলে ব্যস্ততা বেড়েছে কৃষক পরিবারে নারীদের।
এবছর (২০২০-২১) বোরো মৌসুমে যশোর অঞ্চলের ছয় জেলায় (যশোর, ঝিনাইদহ, মাগুরা, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর) ১৫ লাখ ৪৯ হাজার ৯৮৩ মেট্রিকটন চাল উৎপাদনে লক্ষ্য ধরেছিল সরকার। কিন্তু লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২৭ হাজার ১৪৬ মেট্রিকটন বেশি বোরো ধান উৎপাদন হয়েছে। তবে উৎপাদনে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেলেও হেক্টরপ্রতি গড় ফলন গতবারের চেয়ে কম। এবছর (২০২০-২১) হেক্টরপ্রতি গড় ফলন চার দশমিক ২৮৬ মেট্রিক টন; যা গত বছর ছিল চার দশমিক ৩৪ মেট্রিক টন। গত ২৫ মে যশোর অঞ্চলের ফসল কর্তন শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে। যশোর অঞ্চলের কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক জাহিদুল আমিন এ তথ্য জানান।
উল্লেখ্য, কৃষি ক্যালেন্ডার অনুসারে এপ্রিল- মে মাসেই বোরো ধান কাটার সময়। এসময় বন্যা শিলাবৃষ্টির ঝুঁকিতে কৃষকরা দিন কাটায়; কিন্তু এবছর পাকা ধান কেটে ঘরে তুলতে খুব একটা বেগ পেতে হয়নি কৃষকদের। তবে এ বছরটি ব্যতিক্রম বিশেষত অনাবৃষ্টির কারণে বোর ধান উৎপাদন কিছুটা ব্যহত হয়।
তিনি জানান, ছয় জেলায় বোরো আবাদের লক্ষমাত্রা ছিল তিন লাখ ৫৩ হাজার ৭৮০ হেক্টর জমি এবং উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৫ লাখ ৪৯ হাজার ৯৮৩ মেট্রিকটন চাল । কিন্তু আবাদ হয়েছিল লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৪ হাজার ১৮১ হেক্টর বেশি জমিতে। সঙ্গত কারণে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে হয়েছে ১৫ লাখ ৭৭ হাজার ১২৯ মেট্রিকটন চাল। তবে গত বছরের চেয়ে এবছর হেক্টর প্রতি ফলন কম হয়েছে। এর কারণ হিসেবে তিনি জানান-গত বছর বোরো মৌসুমে ধানের ফুল ফোটা পর্যায়ে তাপমাত্রা ও আদ্রতা সহনীয় পর্যায়ে ছিল, ফলে বোরো ধানের চিটা সমস্যা ততটা প্রকটভাবে দেখা যায়নি।
এবছরের বোরো মৌসুমে তেমন বৃষ্টিপাত না হওয়ায় তাপমাত্রা দিন দিন বেড়েই চলছিল বিধায় সংগত কারণে বাতাসে আদ্রতার পরিমাণও কম ছিল। এরই মধ্যে ৪ এপ্রিল বয়ে যায় উচ্চ তাপপ্রাহাহ বা হিট শক। এই পরিস্থিতিতে কুষ্টিয়া অঞ্চলে যে জমির ধান ফুল ফোটার পর্যায়ে ছিল, সেসব এলাকায় ধানের শিষ শুকিয়ে যায়। ফলে সেগুলোর পরাগরেণু শুকিয়ে ধান চিটা হয়ে যায়। এছাড়া কুষ্টিয়া জেলার জিকে আওতাভুক্ত জমিতে সেচ সমস্যা দেখা দেয়। এর প্রভাব পড়েছে এবছরের উৎপাদনে।
যশোর অঞ্চলের কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এবছর হেক্টর প্রতি বোরো ধান ফলন সবচেয়ে বেশি হয়েছে কুষ্টিয়া জেলায় চার দশমিক ৩৯ মেট্রিকটন। এরপর যশোর জেলায় চার দশমিক ৩৫ মেট্রিকটন, ঝিনাইদহে চার দশমিক ২৮, মাগুরা জেলায় চার দশমিক ২৩, চুয়াডাঙ্গা জেলায় চার দশমিক শূন্য আট মেট্রিকটন। এবছর হেক্টর প্রতি বোরো ধান ফলন যশোর অঞ্চলের ছয় জেলার মধ্যে সবচেয়ে কম হয়েছে মেহেরপুর জেলায় চার দশমিক শূন্য পাঁচ মেট্রিকটন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here