যশোর শহরের ১৫ আবাসিক হোটেলে প্রকাশ্যে চলছে দেহ ব্যবসা

0
13076

মালেকুজ্জামান কাকা : যশোরের ১৫টি আবাসিক হোটেলে রমরমা অসামাজিক কারবার চলছে। যশোর শহরের প্রায় এক ডজন আবাসিক হোটেলে কলগার্ল রেখে অনৈতিক কার্যকলাপ চালানো হচ্ছে। অভিযোগের ভিত্তিতে এসব হোটেলের ওপর পুলিশি নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যে তিনটি হোটেলে অভিযান চালিয়ে যৌনকর্মীসহ পাঁচজনকে আটক করেছে। এ ব্যাপারে হোটেলমালিকদের সতর্ক করা হয়েছে।
এলাকাবাসী ও পুলিশের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, যশোর শহর ও শহরতলীর প্রায় ১২টি হোটেলে চালানো হচ্ছে রমরমা দেহ ব্যবসা। এসব হোটেলে কলগার্লদের রেখে অনৈতিক কার্যকলাপ পরিচালনা করা হয়। এখানে প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলে অনৈতিক এ কারবার। এজন্য হোটেলমালিককে এক ঘণ্টার জন্য দিতে হয় পাঁচশ’ থেকে এক হাজার টাকা। এই কার্যকলাপ পরিচালনা করার জন্য ক্ষেত্রবিশেষে পুলিশের নামও ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগে জানাগেছে, উপশহর খাজুরা বাস স্ট্যান্ড এলাকায় দুইটি আবাসিক হোটেলে পতিতাদের বেজায় প্রভাব রয়েছে। গত সপ্তাহে উপশহর পুলিশ ফাঁড়ি সংলগ্ন এলাকায় একটি আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে পুলিশ একজোড়া নারী-পুরুষ কে আটক করে। রেলস্টেশন এলাকার চারটি আবাসিক হোটেলে পরিচ্ছনতা কর্মীর আড়ালে যৌনকর্মী নিযুক্ত করে রেখেছেন মালিকেরা। প্রতি হোটেলে চার থেকে ছয়জন বা তারও বেশি নারী রয়েছেন। তারা সাধারণ বোর্ডারদের পাশাপাশি বাইরে থেকে আসা খরিদ্দারদের মনোরঞ্জন করেন। কোনো কোনো সময় খরিদ্দাররা বাইরে থেকে স্ত্রী পরিচয়ে যৌনকর্মীদেরকে নিয়ে ওঠেন এসব হোটেল। ঘণ্টা চুক্তিতে ৪০০ টাকা থেকে এক হাজার টাকা হোটেল মালিককে দিয়ে ম্যানেজ করে তারা অনৈতিক কার্যকলাপ করে চলে যান। শহরের আরও প্রায় আটটি হোটেলে একই পদ্ধতিতে অনৈকিত কার্যকলাপ পরিচালনা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে কোনোটিতে মালিককে অন্ধকারে রেখে ম্যানেজাররা এসব কাজ পরিচালনা করছেন বলেও অভিযোগে উঠে এসেছে।
বিষয়টি যশোর পুলিশ গুরুত্বের সাথে নিয়ে কঠোর নজরদারিতে রেখেছে হোটেলগুলোকে। ইতিমধ্যে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে কয়েকটি আবাসিক হোটেলে। এরমধ্যে রয়েছে ঝালাইপট্টির হোটেল নীরব ও পলাশ এবং উপশহরের বন্ধু। অভিযানকালে মালিক ও ম্যানেজার পালিয়ে গেলেও যৌনকর্মী ও খরিদ্দার মিলিয়ে পাঁচজনকে আটক করা হয়। তাদেরকে আদালতে চালান দেয়া হয়েছে। একইসাথে হোটেল মালিকদের কঠোর হুশিয়ারি দিয়ে এধরনের অনৈতিক কার্যকলাপ না চালানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের সাথে আলোচনা করে জানাগেছে, দেহ ব্যবসা পরিচালনা করার জন্য হোটেল মালিকেরা পাহারাদার নিযুক্ত করেছেন। এরা বাইরে পাহারায় থাকেন আর ভেতরে চলে দেহ ব্যবসা। কাজের মহিলা পরিচয়ের অন্তরালে হোটেলগুলোতে নিযুক্ত যৌনকর্মীরা যশোরের বিভিন্ন উপজেলা ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলো থেকে আসেন। তাদের অনেকে স্বামী সাজিয়ে দালালদের মাধ্যমে এসব হোটেলে এসেছেন। আবার কাউকে কাউকে স্বামীরাই পৌঁছে দিচ্ছেন হোটেলে।
যশোর সদর ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর সুমন ভক্ত জানিয়েছেন, অভিযোগের ভিত্তিতে শহরের আবাসিক হোটেলগুলোকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে। ইতিমধ্যে তিনটিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। আরও অভিযান চালানো হবে। সত্যতা মিললে আটক করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here