বাঁধ মেরামতে হাজারো মানুষের জোর প্রচেষ্টা, জোয়ারে ব্যর্থ 

0
317
শেখ সিরাজউদ্দৌলা লিংকন কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি, :  উপজেলার সবচেয়ে স্পর্শ কাতর মহারাজপুর ইউনিয়নের দশালীয়া বেড়িবাধঁ আটকানো হবে, আগে থেকেই এমন ঘোষণা দেওয়া হয়েছিলো মাইকে এবং ফেইসবুকে।
যার কারণে রোববার (৩০ মে) ভোর ৬টায় দূর-দূরান্ত থেকে কেউ হেঁটে, কেউবা নৌকা-ট্রলারে করে নিজ নিজ দায়িত্বে ঝুড়ি-কোদাল নিয়ে বাঁধ বাঁধতে চলে আসেন।
ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাব ও ভরা পূর্ণিমায় জোয়ারের পানি অস্বাভাবিক বাড়ায় খুলনার কয়রা উপজেলার বিভিন্ন স্থানে জরাজীর্ণ বেড়িবাঁধ ভেঙে পানিতে তলিয়ে গেছে গ্রামের পর গ্রাম।
একের পরে এক স্বেচ্ছাশ্রমে সে বাঁধ মেরামত করছেন গ্রামবাসী।রোববার কপোতাক্ষ নদে ভাটা চলাকালে দল-মত নির্বিশেষে ভেদাভেদ ভুলে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কপোতাক্ষ নদের মহারাজপুর ইউনিয়নের দশালীয়া থেকে লোকা পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার বেড়িবাঁধের ৫টি পয়েন্ট  মেরামত করছিলো তার মধ্যে জোয়ারের পানি আসায় কাজ বন্ধ হয়ে যায়, ফলে সম্পূর্ণ  বেরিবাধ আটকাতে সম্ভব না হওয়ায় আবার আগামীকাল কাজ হবে ঘোষনা দিয়ে সকলে বাড়ি ফেরেন।
স্থানীয় তরুণ সমাজ সেবক আছাফুর রহমান বলেন, দশালিয়ার ৪ টি  ভাঙা বাঁধ দিয়ে লোকালয় পানি প্রবেশ করছে। রোববার কয়রা সদর ইউনিয়ন, বাগালি ইউনিয়ন, মহারাজপুর ইউনিয়নের ৩ হাজার মানুষ সেচ্ছাশ্রমে বাঁধ বাঁধার জোর প্রচেষ্টা চালালিয়ে ব্যর্থ হয় পানি আটকাতে ।
স্থানীয় আর এক বাসিন্দা আবুল কালাম জানান, ভোর থেকে নিজেদের অস্তিত্ব  টিকে থাকার লড়াইয়ে হাজারো মানুষের সাথে সেচ্ছাশ্রমে বাঁধ মেরামাতে কাজ করছি। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বাঁধ নির্মাণে সিনথেটিক বস্তা, বাঁশ, পেরেক এবং দড়ি দিয়ে সহযোগিতা করছে।
আটরা গ্রামের বাইজিদ হোসেন বলেন , মহারাজপুরের দশালীয়ার ভাঙা  বেড়িবাধেঁর ভাঙন সবচেয়ে বড় ভাঙন। যার পানি দিয়ে গোটা ইউনিয়ন পানিতে তলিয়ে আছে। দিশাহীন হাজার হাজার মানুষের কান্না, অসহায় আর্তনাদে ভারী হচ্ছে কয়রার বাতাস। এসব দুর্গত মানুষ দাবি জানাচ্ছেন দ্রুত টেকসই বেড়িবাঁধের।
স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আক্তারুজ্জামান বাবুর দিকনির্দেশনায় জেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ ইঞ্জিনিয়ার মাহবুবুর রহমান, উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জিএম মহাসিন রেজা, উপজেলা যুবলীগ সভাপতি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব শফিকুল ইসলাম, বাগালি ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুস সাত্তার পার, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম বাহারুল ইসলাম, মহারাজপুর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল মামুন লাভলু, তরুণ সমাজসেবক আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ, কয়রা সদর ইউপি চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির, আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুস সামাদ গাজী, ও উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি শরিফুল ইসলাম টিংকুর নেতৃত্বে সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী উপজেলা নির্বাহি অফিসার কয়রা থানা অফিসার ইনচার্জ উপস্থিতিতে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আশা বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার কয়েক হাজার মানুষ বাঁধ মেরামতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাজ করেছেন। এ সময় নেতৃবৃন্দ ও কর্মকর্তাদেরও সাধারণ মানুষের সাথে কাজ করতে দেখা যায়। নেতৃবৃন্দ জানান 31 মে সকাল থেকে আবারো কাজ শুরু হবে ইনশাল্লাহ আমরা পানি মুক্ত হব।##

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here