মালেক্জ্জুামান কাকা : ভৈরব নদের বালিতে হচ্ছে পুকুর ও নিচু জমি ভরাট। চলমান ভৈরব খননকে পুঁজি করে ঠিকাদার নিযুক্ত লোকজন ও কয়েকটি দালাল চক্রের মধ্যস্থতায় নদ পাড়ের এলাকার কয়েক শত পুকুর ভরাট করা হয়েছে। ভৈরবের বালি কিনে স্থানীয়রা একাজ করছেন। এভাবে পরিবেশে আইন লংঘন করে বিভিন্ন এলাকা পুকুরশূন্য করা হয়েছে। আবার সমতলের জমি ভরাট করে রাস্তার সমান করা হচ্ছে চুক্তির মাধ্যমে। যশোর শহরতলীর বিরামপুর, ডাকাতিয়া, নওদাগ্রাম, নুরপুর, বাহাদুরসহ নদ পাড়ের কয়েকটি গ্রামে চলছে জলাশয় ভরাটের মহোৎসব।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ভৈরব নদে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে দীর্ঘ পাইপ লাগিয়ে বালি তুলে আশপাশের পুকুরগুলো ভরাট করা হচ্ছে। এজন্য পুকুর মালিকদের কাছ থেকে নেয়া হচ্ছে দশ হাজার থেকে শুরু করে এক লাখ টাকা পর্যন্ত। এভাবে নদ থেকে বালি উত্তোলন করায় ভূমিধসের আশংকা রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, অবৈধ বালি বিক্রি করার মাধ্যমে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে ঠিকাদারের লোকজন। এব্যাপারে দ্রæত জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগে জানা গেছে, বিরামপুরের বেশ কটি পুকুর ও পাশের ডোবা নিচু জমি ভরাট চলছে। পাশের ভৈবর নদ থেকে পাইপে আসছে বালি। এ কাজ চলছে কয়েক মাস ধরে। বিরামপুরে গেলে ভেসে আসে ড্রেজার মেশিনের আওয়াজ। ২০০ গজের ব্যবধানে রয়েছে দুটি ড্রেজার মেশিন। কাকডাকা ভোর থেকে মধ্য রাত পর্যন্ত চলে মেশিন দুটি। যত তাড়াতাড়ি পুকুর ভরাট হবে তত তাড়াতাড়ি মোটা টাকা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান নিযুক্ত লোকজন ও ডেজ্রার মেশিন কর্তৃপক্ষের পকেটে যাবে।
এর আগে নুরপুর, ডাকাতিয়া, বোলপুর অংশে ভৈরবের মাটি, কাঁদার সাথে বালি ওই ড্রেজার মেশিন দিয়ে উত্তোলন করে স্থানীয় প্রায় ১২টি পুকুর ভরাট করা হয়। সেখানে একযোগে ছয়টি ডেজ্রার মেশিন বসানো হয়েছিল। বিরামপুর এলাকায় তারা মোটা অংকের টাকার চুক্তিতে মিটার ও সেইফটি চুক্তিতে বালি উত্তোলন করে দিচ্ছে। ড্রেজার মেশিন চালকদের দাবি তারা ১০০ মিটার পর্যন্ত ১৬ ফিট গভীর করে মাটি, কাঁদা, বালি উত্তোলন করে দেবেন। তবে ওই বালি, কাঁদা কোথায় ফেলা হবে তা ঠিকাদারে নির্দেশনায় হচ্ছে। এখন কয়েকটি পুকুর ভরাটের কাজ চলছে।
ড্রেজার মেশিনে কাজ করা এক শ্রমিক জানিয়েছেন, এ পর্যন্ত ভৈরব নদের বালি, মাটি ও কাঁদা নিয়ে কয়েক কোটি টাকার বাণিজ্য হয়েছে।
বিরামপুর এলাকার সূত্র জানিয়েছে, একদিকে সরকারের কাছ থেকে ভৈরব খনন বিল উত্তোলন করছেন ঠিকাদার, অন্যদিকে অবৈধভাবে নদ থেকে বালি তুলে তা বিক্রি করে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠাননিযুক্ত লোকজন ছাড়াও অবৈধ এ বাণিজ্য পরিচালনায় যুক্ত রয়েছেন ড্রেজার মেশিন পরিচালনাকারী ও সাইড দেখাশোনাকারী ব্যক্তি এবং স্থানীয় দালাল।
স্থানীয়দের অভিযোগ, যেভাবে বালি ওঠানো হচ্ছে তাতে ভৈরব নদের তীরবর্তী গ্রামগুলো ভূমিধসের শিকার হওয়ার মুখে পড়েছে। এসব নিয়ে এলাকাগুলোতে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা এর প্রতিকার দাবি করেছেন।
এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ড যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী তাওহীদুল ইসলাম জানিয়েছেন, নদ খননে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেয়া হয়েছে। পাউবো খনন বুঝে নেবে নদের পাড় ও সীমানা বুঝে নেবে। কিন্তু ড্রেজার মেশিন বসিয়ে পাবলিককে বালি দেয়া, কারও ব্যক্তিগত পুকুর, ডোবা ভরাট ও অর্থবাণিজ্যের বিষয়ে তিনি অবগত নন। ওই সব অংশে কাউকে বালি, মাটি বিক্রি করার অনুমতিও দেয়া হয়নি। যে চক্রটি মানুষকে বোকা বানিয়ে বালি দিয়ে ভরাটের নামে বিক্রি করছে বলে অভিযোগ আসছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। নদ কাটতে বলা হয়েছে, বালি উত্তোলন করে কারো ডোবা, পুকুর, নিচু জমি ভরাটের দায়িত্ব দেয়া হয়নি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে বলেছেন পাইবো’র এই কর্মকর্তা।















