মোংলা প্রতিনিধি : মোংলায় ঘুর্ণিঝড় ইয়াসে সব হারানো গরিব ও অসহায় এবং করোনায় উপার্জন হারানো মানুষদের মাঝে ত্রান সামগ্রী বিতরন করলেন সেচ্ছাসেবী সংগঠন বিএএসডি। রোববার দুপুরে মোংলার কানাইনগর এলাকায় ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরী করে সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে এ সকল অসহায়দের হাতে খাদ্য সামগ্রী তুলে দেন বিএএসডির কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রশাসন। এসময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কমলেশ মজুমদার বলেন, সারা বিশ্বে করোনা ভাইরাস মহামারি আকার ধারণ করেছে। করোনা ভাইরাস বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ায় মানবজাতি আজ হুমকির সম্মুখীন। সাম্প্রতিক সময়ে মোংলা উপজেলাব্যাপিও করোনা ভাইরান সংক্রোমন প্রোকট আকার ধারন করেছে। একদিকে করোনা মহামারী অন্যদিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঘুণিঝড় ইয়াস। সুন্দরবন সংলগ্ন উপক’লীয় এলাকায় ঘুর্ণিঝড়ে সর্বচ্ছ কেড়ে নিয়েছে নদীরকুলে বসবাসকারী মানুষের মাথা গোজার ঠাই ও বেঁচে থাকার শেষ সম্ভলটুকু। বাঁধভেঙ্গে নদীর পানিতে ভেষে গেছে ঘের ও পুকুরের মাছ, শুরু হয়েছে নদী ভাঙ্গন, নষ্ট হয়েছে মিস্টি পুকুরের সুপেও খাবার পানি। পশুর নদী সংলগ্ন মোংলা উপজেলা একটি ঘনবসতি পূর্ণ উপজেলা বিধায় করোনা ভাইরাস আমাদের জন্য এটি মারাত্মক বিপর্যয় বয়ে আনতে পারে। একমাত্র ব্যক্তিগত এবং সামাজিক সচেতনতাই আমাদেরকে এ বিপর্যয় থেকে রক্ষা করতে পারে। এ সময় নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী ব্যতিত অন্যান্য দোকান, হোটেল, রেস্টুরেন্ট বন্ধ রাখা, অপ্রয়োজনে গৃহের বাহিরে অবস্থান না করা, বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান বর্জন করা, সবসময় মাস্ক পরে বাহিরে অবস্থান করা, ব্যক্তিগত পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা ইত্যাদি বিষয় সূমহের উপর আমাদের পক্ষ থেকে গুরুত্তারোপ করে প্রচারনা করা হচ্ছে, উপজেলা জুড়ে চলছে কঠোর বিধিনিষেধও। তিনি আরো জানান, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার প্রয়োজনে মোংলা উপজেলা ব্যাপি জনসমাগমমূলক সব ধরণের কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। এর ফলে সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে এখানকার খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ। এই সকল ক্ষতিগ্রস্থ জনসাধারণকে সাহায্য ও সহযোগিতা করার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ধরণের পদক্ষেপও গ্রহন করেছে সরকার। ঝড়ের পরে দ্রুত ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরী করে পাঠানো হয়েছে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে। এছাড়া এখানকার এনজিওদেরও ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় মানুষদের পাশে দাড়াতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে। এরই ধারাবাহিকতায় বিএ এসডি একটি সেচ্ছাসেবী সংগঠন অসহায় মানুষদের পাশে দাড়িয়েছে।
এ প্রতিষ্ঠানে প্রজেক্ট ম্যানেজার এ্যাডোয়াড এ মধু বলেন, মোংলা উপজেলায় অসহায় জেলে, দরিদ্র খেটে খাওয়া, ঘুর্ণিঝড়ে সব কিছু হারানো মানুষ, প্রতিবন্ধী ও শিশুদের এ সহায়তার আওতায় আনা হয়েছে। এ প্রতিষ্ঠানের ৬০টি সেল্ফহেল্প গ্রুপ ও ২৪০ শিশুসহ ৬৪০জন অসহায় মানুষদের নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। এসময় ত্রানসামগ্রী গ্রহনকারীদের মধ্যে সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে ও জনসচেতনতা সৃষ্টির জন্য করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সরকারের নির্দেশনা মেনে চলাচল করারও আহবান জানানো হয়। প্রধান অতিথি কমলেশ মজুমদার, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মোঃ সেলিম, প্রজেক্ট ম্যানেজার এ্যাডোয়াড এ মধু ছাড়াও উপজেলা, বিএএসডি কর্মকর্তা ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ এসময় উপস্থিত ছিলেন।














