কঠোর বিধিনিষেধে থাকছে না ‘মুভমেন্ট পাস’

0
330

যশোর ডেস্ক : করোনাভাইরাস মহামারীর আগ্রাসী বিস্তার ঠেকাতে কঠোর বিধিনিষেধসহ ১ জুলাই থেকে যে লকডাউন শুরু হচ্ছে, তখন জনসাধারণের জরুরি চলাচলের জন্য বিশেষ ‘মুভমেন্ট পাস’ নেওয়ার সুযোগ বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম। সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, লকডাউনে এবার এবার ‘মুভমেন্ট পাস’ থাকবে না। ‘ইমারজেন্সি’ ছাড়া কেউ বের হতে পারবে না। বাসায় থাকবে হবে সবাইকে। ‘মুভমেন্ট পাস’ না থাকলে বিশেষ প্রয়োজনে কেউ কীভাবে বের হবে এমন প্রশ্নের জবাবে আনোয়ারুল বলেন, “ধরেন দাফন-কাফন করতে হবে, সেটা তো বাসায় করা যাবে না, সে সসময় বের হওয়া যাবে। রোগী নিয়ে হাসপাতালে যাবেন, সেেেত্র বের হতে পারবেন।” লকডাউনে আর্মি, বিজিবি, ব্যাটেলিয়ান পুলিশ টহলে থাকবে জানিয়ে তিনি বলেন, তাদেরকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ‘অথরিটি’ দিয়ে দেওয়া হয়েছে। মানুষ যাতে কোনোভাবেই বের হতে না পারে তারা তা ‘মনিটর’ করবে। “আমরা সশস্ত্র বাহিনী বলছি, টহল দেবে। কেউ কথা না শুনলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া তাদের কাজের মধ্যে থাকবে।” পোশাক কারখানা ও রপ্তানিমুখী শিল্পকারখানা খোলা থাকবে কিনা, রিক্সা চলবে কিনা এবং অন্যান্য বিষয়গুলো পরে আদেশে বলে দেওয়া হবে বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব। এমন কঠোর পেেপর কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, “চারটি বিভাগের সঙ্গে আমরা ভিডিও কনফারেন্স করে পর্যালোচনা করে দেখেছি মাঠ পর্যায়ের সবাই ছিলেন, কমিশনার, ডিসি, ডিআইজি, এসপি, সিভিল সার্জন, জনপ্রতিনিধিরা ছিলেন। “সবার বক্তব্য দেশের একটা অংশ ওরেঞ্জ, রেড বা ব্রাউন হয়ে যাচ্ছে। সুতরাং এখন স্ট্রিক্ট নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা ছাড়া উপায় নেই। ১ জুলাই থেকে স্ট্রিক্ট রেসট্রিকশনে যাচ্ছি।” স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মঙ্গলবার বা পরশু বৈঠকে বসে বাস্তবায়ন কৌশল নির্ধারণ করা হবে বলে আনোয়ারুল জানান। লকডাউনের মধ্যে স্বল্প আয়ের খেটে খাওয়া মানুষদের কী হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “মন্ত্রিসভার বৈঠকে ত্রাণ প্রতিমন্ত্রীকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় যথাসম্ভব গতবারের মত গ্রোগ্রাম নিতে হবে। বিশেষ করে শহর এলাকায় বেশি সমস্যা হয়, সেখানে খেয়াল রেখে যেন সাহায্য নিশ্চিত করা হয়।” ৭ জুলাইয়ের পর আবারো লকডাউন দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে কিনা জানতে চাইলে খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, “আমাদের যেটা এক্সপিরেয়েন্স সেটা হলো- চাপাইনবাবগঞ্জ স্ট্রিক্টলি ব্লক করে দেওয়ায় সংক্রমণ অনেক কমে গেছে। সাতীরায় ইমপ্রুভ করেছে। যেখানে যেখানে আমরা মুভমেন্ট রেসস্ট্রিক্ট করে দিয়েছি সেখানে ইমপ্রুভ করেছ। সরকার যদি মনে করে আরও সাতদিন যেতে হবে, সেটাও বিবেচনায় আছে।” করোনাভাইরাস সংক্রমণ কঠোর লকডাউন শুরুর আগে আগামী তিন দিনের বিধি-নিষেধে কী কী খোলা থাকবে, কী কী বন্ধ থাকবে, তা রোববার জানায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এই বিধি-নিষেধের মেয়াদ শেষে ১ জুলাই থেকে কঠোর লকডাউনের ঘোষণা রয়েছে। উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছে যাওয়া করোনাভাইরাসের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে আনতে সোমবার থেকে সারাদেশে ‘কঠোর লকডাউন’ জারির ঘোষণা শুক্রবার দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু শনিবার জানানো হয়, সেই লকডাউন ১ জুলাই থেকে শুরু হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here