বেনাপোলে সৎ মাকে মৃত দেখিয়ে জালিয়াতি করে কোটি টাকার জমি দখল

0
276

নাভারণ (যশোর)্ সংবাদদাতা ॥ যশোরের বেনাপোলে কোটি কোটি টাকার সম্পদ থাকলেও খেয়ে না খেয়ে অন্যের আশ্রয়ে রয়েছেন মরিয়ম নামে এক বিধবা নারী। ওয়ারীশ সনদের ফটোকপিতে জীবিত মরিয়ম বিবির নামের আগে মৃত লিখে জালিয়াতি করে তার কোটি টাকার সম্পদ নিজেদের নামে করে নিয়েছে সতীনের ঘরের সন্তানেরা। নিজের সম্পদ ফিরে পেতে গত কয়েক বছর ধরে আদালতের দ্বারে দ্বারে ঘুর পাক খাচ্ছেন তিনি। স্বামী মারা যাওয়ার পর সতিনের সন্তানেরা তাকে বাড়ী থেকে বের করে দেয়। আশ্রয় নেয় পরের বাড়ীতে । মরিয়ম বিবি বেনাপোল পোর্ট থানার কাগজ পুকুর গ্রামের মৃত টেনাই মোড়লের স্ত্রী। প্রতিবেশী আব্দুল জলিল জানান, টেনাই মোড়লের ছিল ৩ স্ত্রী। তিনি জীবিত থাকাবস্থায় ২ স্ত্রীর মৃত্যু হলে মরিয়ম বিবিকে বিয়ে করেন। ২০০৮ সালে টেনাই মোড়লের মৃত্যু হয়। প্রথম স্ত্রীর ঘরে ৪ ছেলেমেয়ে থাকলেও শেষের ২ স্ত্রীর ঘরে কোন সন্তান ছিল না। টেনাই মোড়লের মৃত্যুর কয়েকদিন পরেই সতীনের ঘরের সন্তানেরা তার ৩য় স্ত্রী মরিয়ম বিবিকে স্বামীর ভিটে বাড়ী থেকে তাড়িয়ে দেয়ার পর আমার বাড়ীতে আশ্রয় নেয়। টেনাই মোড়লের সন্তানেরা ২০১২ সালে বেনাপোল পৌরসভা থেকে একটি ওয়ারীশ সনদ নেন। মুল ওয়ারীশ সনদ ফটোকপি করে মরিয়ম বিবির নামের আগে মৃত লিখে তা আবার ফটোকপি করে। আর এই ওয়ারীশ সনদ নিয়ে তারা মরিয়ম বিবির সকল সম্পদ তাদের নামে নামজারী করে নেয়। বেনাপোল পৌরভার মেয়র আশরাফুল আলম লিটন ঘটনাটি জানতে পেরে মরিয়ম বিবিকে জীবিত রয়েছে মর্মে একটি প্রত্যয়ন পত্র প্রদান করেন। তিনি সেটিসহ যাবতীয় তথ্য প্রমানাদি নিয়ে আদালতের আশ্রয় নেন মরিয়ম বিবি। আইনজীবি বছর দু’য়েকের মধ্যে তার জমি ফেরত পাবার আশ^াস দেন। পরবর্তিতে সকল দলিল প্রমানাধি দেখে ২০১৯ সালে আদালত মরিয়ম বিবির পক্ষে রায় দেন। কোর্ট মরিয়ম বিবি সহ টেনাই মোড়লের সকল ওয়ারিসদের নামে জমা জমি নামজারি করার জন্য টেনাই মোড়লের ওয়ারিসদের কাছে নোটিশ পাঠান। কোর্টের নির্দেশ অমান্য করে টেনাই মোড়লের তিন ছেলে আলী হোসেন, নুর হোসেন ও রবিউল কোর্টের কোন নির্দেশ না পাওয়ার কথা বলে কোর্টে তারা আপিল করেন। কিন্তু আজ দু বছর পার হলেও এখনো তার কোন সুরাহা হয়নি। বরং প্রতিমুহুর্তে সতীনের সন্তানদের হুমকী ধমকীতে ভয়ে তটস্থ রয়েছে মরিয়ম বিবি। যার কারনে মরিয়ম বিবি হতাশ হয়ে পড়েছেন। শুধু মরিয়ম বিবি নন আইনী কাজে সহায়তা করার জন্য তারা আমাকেও নিয়মিত হুমকী দিয়ে যাচ্ছে। বৃদ্ধ মরিয়ম বিবি বলেন, আমার স্বামী টেনাই মোড়ল জীবতি থাকা অবস্থায় ভিটে থেকে আমার নামে ১০ কাটা জমি রেষ্ট্রি করে দেন। তিনি মারা যাওয়ার পর আমার সতিনের ছেলেরা আমাকে নানা ভাবে নির্যাতন করে ভিটে থেকে তাড়িয়ে দেয়। এখন প্রতিবেশী আব্দুল জলিলের জমিতে কুড়ে বেধে বাস করছি। ওয়ারিস সুত্রে আমি সাড়ে ৬ বিঘা মতো জমি পাবো। যার বাজার মুল্য কোটি টাকার উপরে। সব কিছু থাকলেও আমি অর্থাভাবে নিজেই নিজের খাবার যোগাড় করতে পারছিনা। জমি উদ্ধার করতে এখন আদালতের খরচ বহন করা আমার পক্ষে আর সম্ভব হয়ে উঠছে না। বেনাপোল কাগজ পুকুর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার আমিরুল ইসলাম জানান, টেনাই মোড়লের মোট জমির পরিমান প্রায় ১৬ একর। মৃত্যুর আগে তিনি তার তৃতীয় স্ত্রী মরিয়ম বিবির নামে ভিটে থেকে ১০ কাটা জমি রেষ্ট্রি করে দেন। টেনাই মোড়লের মৃত্যুর পর তার ছেলেরা বেনাপোল ভুমি অফিসের আব্দুল মজিদ নামে এক নায়েবকে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে পৌরসভা কৃত দেয়া ওয়ারিস সনদ জালিয়াতি করে জীবিত মরিয়ম বিবিকে মৃত দেখিয়ে সকল জমি নিজেদের নামে নামজারি করে নেয় তারা। পরে সৎ মা মরিয়ম বিবিকে নির্যাতন করে বাড়ী থেকে বের করে দেয় টেনাই মোড়লের ছেলেরা। মরিয়ম বিবি যে জীবিত আছে তার প্রত্যায়ন পত্র পৌরসভা কর্তৃক দেয়ার পর মরিয়ম বিবি কোর্টে মামলা করেন। মামলার রায় মরিয়ম বিবির নামে আসলেও তার সতিনের সন্তানেরা তার জমি বুঝিয়ে না দিয়ে কোর্টে আবার আপিল করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে আইনের প্যাচে মামলা কোর্টে ঝুলে আছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here