কালু-লালু কাঁপাবে মাগুরার কুরবানির হাট!

0
403

মাগুরা প্রতিনিধি : কুরবানির হাট কাঁপাতে এবার মাগুরায় আসছে কালু ও লালু। ইতোমধ্যে কালু ও লালুর দাম উঠেছে ১৫ লাখ টাকা। যা জেলায় সেরা গরুগুলোর মধ্যে পড়বে বলে অনেকে মনে করছেন। কালু দেখতে কুচকুচে কালো, সুঠাম ও স্বাস্থ্যবান। লালু দেখতে বাদামি-খয়েরি রঙের। কুরবানি ঈদকে সামনে রেখে সদরের চাউলিয়া ইউনিয়নের ঘোপডাঙা গ্রামে কৃষক ফুল মিয়ার বাড়িতে গরু দুটি দেখতে প্রতিদিন মানুষ ভীড় করছেন।
কৃষক ফুল মিয়া জানান, নিজ সন্তানের মতো বাড়িতে কালু ও লালুকে প্রতিপালন করছেন। দুই বছর আগে শত্রুজিৎপুর হাট থেকে তিনি পাঁচ লাখ টাকা দিয়ে গরু দুটি কেনেন। তারপর থেকেই নিজবাড়িতে শুরু করেন লালন-পালন। একটি গরু পাকিস্তানি জাতের ও অন্যটি সিন্ধি । গরু দুটির খাবার বাবদ আগে দিনে খরচ হতো এক হাজার টাকা। দুই বছরের মধ্যে গরু দুটি বড় হয়ে উঠলে তাদের খাবারের চাহিদা বাড়তে থাকে। বর্তমানে তাদের খাবার বাবদ খরচ হচ্ছে প্রতিদিন গড়ে দুই হাজার টাকা। প্রতিদিন পাঁচ কেজি ভূষি, ফিড, ঘাস, চিটাগুড় দেওয়া হয় তাদের । গতবার করোনার সময় কুরবানি ঈদে গরু দুটি বিক্রি করতে পারেননি তিনি। এবার গরু দুটি বিত্রিুর জন্য মন স্থির করেছেন ফুল মিয়া। তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও বরিশাল জেলার অনেক ব্যাপারি আমার সাথে যোগাযোগ করছে। অনেকে বাড়িতে এসে দেখে গেছে। বড় গরু কালুর ২৫ মণ ও লালুর ১৫ মণ মাংস হবে বলে আশা করছি।’ তিনি বলেন, ‘এক বছর আগে তাদের প্রতিপালনের জন্য আর্থিক সংকটে পড়ি। তখন তাদের খাবারের জন্যে আমার দুটি চাষের গরু ও ছাগল বিক্রি করে দিই। ব্যাপারিরা গরু দুটি বাবদ ১৫ লাখ টাকা দাম বলেছে; রাজি হইনি। আর একটু বেশি দাম উঠলে বিক্রি করবো। এখনো গরু দুটিকে হাটে উঠাইনি। বাড়িতেই ব্যাপারিরা আসছে, তাই বাড়ি থেকেই বিক্রির আশা করছি।’ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. হাদিউজ্জামান জানান, জেলায় মোট ৪৯৯টি পশুর খামার রয়েছে। এসব খামারে গরু মোটাতাজাকরণের জন্য খামারিরা কাজ করছেন। এখন লকডাউন চলছে। এরমধ্যে এখনো উন্মুক্ত স্থানে পশুর হাট বসেনি। জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের ওয়েবসাইটে অনলাইন পশু কেনাকাটার চেষ্টা চলছে। পরিস্থিতি ভালো হলে প্রশাসনের সহযোগিতায় সীমিত আকারে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পশুর হাট বসতে পারে। হাটে প্রতারণা ঠেকাতে কাজ করবে আইন-শৃঙ্খলাবাহিনী।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here