চৌগাছায় ২০টি কিন্ডার স্কুলের ২ শতাধিক শিক্ষক কর্মচারী করোনায় হয়েছেন অসহায়

0
448

চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি ॥ যশোরের চৌগাছায় মহামারি করোনা ভাইরাসের এই সময়ে চরম কষ্টে পরিবার পরিজন নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন কিন্ডার গার্টেন স্কুলের ২ শতাধিক শিক্ষক কর্মচারী। প্রায় দেড় বছর স্কুল বন্ধ, নেই কোন বেতন ভাতা, পারছে না অন্য কোন পেশায় যেতে দিন কাটছে অতি কষ্টে। অসহায় এই পরিবার গুলোকে আর্থিক সহযোগীতা প্রদানে সংশ্লিষ্ঠদেও আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন উপজেলার সচেতন মহল। মানসম্মত শিক্ষাদানের দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে ১৯৯০ সালের দিকে উপজেলাতে প্রথম কিন্ডার গার্টেন স্কুলের যাত্রা শুরু। সময়ের ব্যবধানে ব্যক্তি মালিকানায় পরিচালিত এই বিদ্যালয়ের সংখ্যা বাড়তে থাকে। পৌর সদরসহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে অন্তত ২০ টি কিন্ডার গার্টেন স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয়। এ সব বিদ্যালয়ে গড়ে ১০ জন করে শিক্ষক কর্মচারী চাকরী করেন। বিদ্যালয় গুলোতে দিনের বেশির ভাগ সময়ে শিক্ষার্থী অভিভাবক আর শিক্ষক কর্মচারীদের উপস্থিতিতে অন্য রকম এক পরিবেশের সৃষ্টি হত। কিন্ডার স্কুলে হাতে খড়ি এমন অসংখ্য শিক্ষার্থী আজ দেশে ও বিদেশে অত্যান্ত সুনামের সাথে অর্পিত দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু মানুষ গড়ার সেই কারিগর চৌগাছার কিন্ডার স্কুলের শিক্ষক কর্মচারীরা করোনায় চরম অসহায় হয়ে পড়েছেন। বিদ্যালয় বন্ধ, তাই শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে বেতন নেয়াও রয়েছে বন্ধ ফলে মাসের পর মাস কোন শিক্ষক কর্মচারীকে বেতন দিতে পারছেনা স্কুল কর্তৃপক্ষ। আবার অনেক বিদ্যালয় ভাড়া করা জায়গায় ভবন নির্মান করে প্রতিষ্ঠান চালাতেন। করোনার কারনে ভাড়া বাকি থাকায় জমি মালিক সেখানে আর স্কুল চালাতে দিবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। চৌগাছার সবুজ কুঁড়ি আইডিয়ল স্কুল, বেল প্রি ক্যাডেট স্কুল, প্রতিভা এডাস স্কুল, চাইল কেয়ার এডাস স্কুলসহ বেশ কিছু কিন্ডার স্কুলের একাধিক শিক্ষক নাম প্রকশ না করার শর্তে বলেন, প্রায় দেড় বছর কোন বেতন পাইনা, কত কষ্টে যে দিন পার করছি শুধু বিধাতায় জানেন। করোনা মহামারির মধ্যে ৩টি ঈদ গেছে, বাচ্ছাদের নতুন পোষাক তো দুরের কথা, তাদের মুখে ভাল খাবার তুলে দিতে পারেনি। পিতা হয়ে এর চেয়ে আর কষ্টের কি হতে পারে। সামনে কোরবানীর ঈদ, কি ভাবে দিনটি পার করবো ভাবতে খুব কষ্ট হচ্ছে। প্রথম দিকে স্কুল কর্তৃপক্ষ কিছু কিছু টাকা দিতেন, কিন্তু বিদ্যালয়ে কোন আয় না থাকায় তারাও আর কত সহযাগীতা করবেন। আমরা যে শিক্ষিত, আমরাও যে শিক্ষক এই কথাটি ভাবতেও আজ কষ্টে বুক ফেটে যায়। প্রতিভা এডাস স্কুলের গাড়ি চালক শাহাজান আলী বলেন, করোনার প্রথম দিকে স্কুল কর্তৃপক্ষ বেশ সহযোগীতা করেছেন। কিন্তু এখন তার কাছে হাত পাততে আমার বিবেকে বাঁধে। স্কুল বন্ধ গাড়ি চলছে না, মাঠেও কাজ করতে পারিনা বেশ কষ্টে পার হচ্ছে দিন গুলো। নবকিশালয় কিন্ডার স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান শিক্ষক আজাদুর রহমান আজাদ বলেন, মহামারি করোনার কারনে কিন্ডার স্কুল গুলো ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখিন হয়েছে। মাসের পর মাস শিক্ষক কর্মচারীরা অসহায় হয়ে পড়েছেন, প্রতিষ্ঠান মালিককে স্কুল বন্ধ থাকলেও ঘর ভাড়া গুনতে হচ্ছে, ভাড়া দিতে না পারায় ভবন ছেড়ে দিতে হয়েছে এমনও নজির আছে। মানসম্মত শিক্ষাদানে কিন্ডার স্কুল যে অগ্রনী ভূমিকা রেখে চলেছে সেদিকটা বিবেচনা করে এই সব স্কুলের প্রতি সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন তিনি। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, মাসের পর মাস বেতন না হলে পরিবার পরিজন নিয়ে চলা অবশ্যই কষ্টের। কিন্ডার স্কুালের এই সব শিক্ষক কর্মচারীদের জন্য সরকারী বা বে-সরকারী ভাবে আমার জানা মতে আজও কোন অনুদান আসেনি। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ এনামুল হক জানান, উপজেলা কিন্ডার গার্ন্টেন স্কুলের শিক্ষক কর্মচারীদের জন্য কোন অনুদান আমরা আজও পাইনি। কখনও যদি পাই তাহলে অবশ্যই শিক্ষা অফিসের মাধ্যমে তা স্বস্ব প্রতিষ্ঠানে পৌছানোর ব্যবস্থা করা হবে। মানুষ গড়ার কারিগর হচ্ছে শিক্ষক, হোক সে সরকারী বা বে-সরকারী। এই শিক্ষক সন্তানাদি নিয়ে চরম মানবেতর জীবন যাপন করছেন এমন খবর আমাদের জন্য অত্যান্ত কষ্ট আর বেদনার। তাই চরম এই দুঃসময়ে মানুষ গড়ার কারিগরদের সহযোগীতায় সরকার সহ সমাজের বৃত্তবানদের এগিয়ে আসার আহবান জানিয়েছেন উপজেলার সচেতন মহল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here