ভারি বর্ষণে তলিয়েছে দুই হাজার বিঘা রোপা আমন

0
286

মেহেদী হাসান, মণিরামপুর \ দুই-তিন দিনের ভারি বর্ষণে তলিয়ে গেছে মণিরামপুরের বিভিন্ন বিলের দুই হাজার বিঘা রোপা আমন তে। ঘের-বেড়ির কারণে এবং হরিহরনদীতে নাব্যতা না থাকায় বৃষ্টির পানি বেরুতে না পেরে এই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি চাষিদের। দ্রুত পানি সরাতে না পারলে আমন তে নষ্ট হয়ে তির আশঙ্কা তাদের। উপজেলা কৃষি অফিসের সূত্রমতে, মণিরামপুরে এবার তিন হাজার হেক্টর জমিতে আমন চাষের সম্ভাবনা রয়েছে। দুই দিনের ভারি বর্ষায় রোহিতা, কাশিমনগর ও মশ্মিমনগর ইউনিয়নের কয়েকটি বিলের ৫০ হেক্টর (৩৭৫ বিঘা) জমির আমন তে তলিয়ে গেছে। দুই-তিন দিন বৃষ্টি না হলে কৃষকের তেমন তি হবে না। তবে সরেজমিন দেখা গেছে, ওই তিন ইউনিয়ন বাদেও খেদাপাড়া ইউনিয়নের রঘুনাথপুর বিলের ৫০-৬০ বিঘা আম তে তলিয়ে গেছে। এছাড়া শ্যামকুড় ইউনিয়নের হাসাডাঙা, নাগোরঘোপ, জামলা, দণি শ্যামকুড়, আগরহাটি ও আমিনপুর এলাকার প্রায় দেড় হাজার বিঘা জমির রোপা আমন পানির নিচে। উপজেলার সরসকাঠি গ্রামের চাষি বিল্লাল হোসেন বলেন, পানি সরতে না পেরে মুড়াগাছা, সালামতপুর ও সরসকাঠি বড় বিলের ৩০০-৪০০ বিঘা জমির আমন তে তলিয়ে গেছে। বিলের অধিকাংশ েেত হাটটু পানি। কিছু জমির ধান পানির তলে। কিছু জমির ধান কিঞ্চিত জেগে আছে। আবার কিছু জমি আছে যেখানে চাষি ধান রোপন করতে চাষ দিয়ে রেখেছেন। কিন্তু পানির কারণে ধান লাগাতে পারেননি। এই কৃষক বলেন, আমাদের ৭-৮ বিঘা আমন তে পানিতে তলানো। পানি সরার ব্যবস্থা না থাকায় ধান নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। যে অবস্থা তাতে ধান টিকবে বলে মনে হচ্ছে না। রঘুনাথপুর বিলের চাষি নজরুল ইসলাম বলেন, বৃষ্টির আগে দুই বিঘা জমিতে আমন লাগিয়েছি। এখন সেখানে কোমর পানি। পানি সরতে না পারায় বিলের ৫০-৬০ বিঘা জমির আমন তে তলানো। শ্যামকুড় ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মনি বলেন, মঙ্গলবার (৩আগষ্ট) সকালের বৃষ্টিতে ইউনিয়নের ছয়টি বিলের দেড় হাজার বিঘা রোপা আমন তলিয়ে গেছে। হরিহরনদীতে স্রোত নেই। মাঠের চেয়ে নদীতে পানি বেশি। এই জন্য পানি সরছে না। কৃষকরা বলছেন, আর বৃষ্টি না হয়ে রোদ পড়লে পানি গরম হয়ে ধান গাছ পচে যাবে। এণি পানি সরাতে না পারলে আমাদের বড় ধরণের তি হয়ে যাবে। মণিরামপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবুল হাসান বলেন, সব ইউনিয়নের তথ্য পাইনি। রোহিতা,কাশিমনগর ও মশ্মিমনগর ইউনিয়নের ৫০ হেক্টর জমির রোপা আমন বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে। দুই-তিনদিন বৃষ্টি না হলে ধান বেঁচে যাবে। আবুল হাসান বলেন, আমি সরেজমিন মাঠে যাচ্ছি। জলাবদ্ধতা নিরসনে উপজেলা প্রশাসনের সাথে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here