আনিছুর রহমান:- মণিরামপুরে দীর্ঘ ২৫ বছর বসবাসকারী একটি পরিবারকে বসত ঘর থেকে বের করে দিয়ে জোরপূর্বক দখল করে নিয়েছে প্রভাবশালী পরিবার। এমনকি তারা দুই মহিলাকে ঘরে ঢুকে দিয়ে গেটে ডবল তালা মেরে বসে রয়েছে। এদিকে অসহায় পরিবারটি শিশু সন্তান নিয়ে ঘরের পটের উপর বসে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েছে। প্রশাসন, চেয়ারম্যান, মেম্বর ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপে ক্ষনিকের জন্য সমাধান করা হয়েছে।
স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, মণিরামপুর উপজেলার চালুয়াহাটী ইউনিয়নের রত্নেশ্বরপুর গ্রামের মৃত শের আলীর ২ স্ত্রীর মধ্যে প্রথম স্ত্রীর কন্যা নেকজান ও দ্বিতীয় স্ত্রীর কন্যা আমেনার বিয়ের পর পৈত্রিক ভিটায় উভয়ে বসত ঘর নির্মান করে পাশাপাশি বসত করতে শুরু করে।
এক পর্যায় প্রথম স্ত্রীর কন্যা নেকজানের কোন সন্তানাদী না হওয়ায় গত ২৭ বছর পুর্বে ৪ বছরের নাতী সোহারবকে এনে লালন করেন তিনি। সোহারব ধীরে ধীরে বেড়ে ওঠার পর নানী নেকজানের সংসার কাঁধে নেয়। এক পর্যায় নি:সন্তান নানা নানীকে দেখবাল করার কারনে নানী নেকজান তার অংশিদারিত্ব ও ক্রয়কৃত সকল সম্পত্তি নাতী সোহারব ও নাতবউ এর নামে উইল ও হেবা করে দেন। উইলকৃত সম্পত্তি ২০১০ সালের ১৯ ডিসেম্বর রত্নেশ্বরপুর মৌজার ১৪ টি দাগ হতে ১ একর ২২ শতক যার দলিল নম্বর ৯৭৯৬, ২০১৪ সালের ২৪ মার্চ একই মৌজার ১৬ টি দাগ হতে ৭৭ শতক যার দলিল নম্বর ২২৭৫ ও ২০১৭ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর একই মৌজার ৪টি দাগ হতে ২২.৭৫ শতক জমি। এছাড়া নেকজান বিবি ২০১০ সালের ১৯ ডিসেম্বর একই মৌজার ৪ টি দাগ হতে ২৮ শতক জমি নাতবউ আয়েশার নামে উইল করে দেন। যার দলিল নম্বর ৯৭৯৭। এদিকে নিসন্তান নেকজান তার সকল সম্পত্তি নাতী সোহারবের নামে উইল করে দেওয়ায় দ্বিতীয় স্ত্রী আমেনার ছেলেদের পথের কাটা হয়ে যায় সোহারব। এক পর্যায় ৩ আগস্ট সকালে ২৫ বছর যাবৎ বসবাসকৃত সোহারবের পরিবারকে ঘর থেকে জোর পূর্বক বের করে দিয়ে ঐ ঘরে দ্বিতীয় স্ত্রী আমেনার ছেলেরা তার মা এবং এক বোনকে ঘরে ঢুকিয়ে বারান্দার গেটে ডবল তালা মেরে দেয়। সোহারবের পরিবার শিশু সন্তান নিয়ে ঘরের পটের উপর কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে। স্থানীয় প্রশাসন, চেয়ারম্যান ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সহয়তায় তালা খুলে ঐ দুই মহিলাকে বের করে পরিষদের পক্ষ হতে তালা মেরে বসতঘরটি চেয়ারম্যানের আয়ত্বে রাখেন। বিষয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ওসির নলেজে থাকায় এবং তাদের কথা মতে ৫ আগষ্ট বিকেলে ইউনিয়ন পরিষদে উভয় পক্ষের বসাবসির কথা হয়। শালিসে একপক্ষ হাজির না হওয়াই বিষয়টি সমাধান হয়নি। এদিকে বসতঘর থেকে বের করে দেওয়া পরিবার সাত-আট বছরের এক শিশু পুত্রকে নিয়ে পথে পথে ঘুরে বেড়াচ্ছে বলে ভুক্তভোগী পরিবার জানিয়েছেন।















