একটি মাত্র পা নিয়ে জীবনযুদ্ধ জয় করে বিসিএস ক্যাডার হওয়ার স্বপ্নে বিভোর যশোরের তামান্না নূরা

0
332

স্টাফ রিপোর্টার : এক পা দিয়ে জীবনযুদ্ধ জয় করে বিসিএস ক্যাডার হওয়ার স্বপ্নে বিভোর যশোরের তামান্না নূরা। তামান্না যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার ১১নং বাঁকড়া ইউনিয়নের আলিপুর গ্রামের রওশন আলী ও খাদিজা পারভীন এর মেয়ে। তিন ভাইবোনের মধ্যে তামান্না বড়। ২০০৩ সালের ১২ ডিসেম্বর তামান্না দুই হাত ও এক পা বিহীন জন্মগ্রহণ করে। এক পা ওয়ালা শিশু কন্যাকে নিয়ে দুঃশ্চিন্তার অনআত ছিল না কৃষক পিতা রওশন আলীর। কিন্তু তিনি থেমে থাকেননি। ৫ বছর বয়সেই তামান্না নূরা কে স্থানীয় প্রাইমারি স্কুলে ভতি কওে দেন পিতা। মা খাদিজা পারভীন সাংসারিক কাজের ফাকে মেয়েকে কখনো কোলে কওে কখনো বা হুইল চেয়াওে বসিয়ে স্কুলে পৌঁছে দিতেন। অদম্য মেধাবী তামান্না নূরা জীবনের প্রথম পরীক্ষায় প্রতিটি বিষয়ে ১০০ নম্বও পেয়ে পরবর্তী কাসে উত্তীর্ণ হয়। এর পর প্রতিটি স্কুল ফাইনাল পরীক্ষায় তামান্না প্রথম স্থান অধিকার করেছে। স্কুল জীবনের পিইসি, জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষায় জিপি ৫ পেয়ে সে কৃতিত্বেও সাথে উত্তীর্ণ হয়। পরে স্থানীয় ডিগ্রি কলেজে আই ভর্তি হলে তার সহপাঠীরা তাকে নিয়ে হাঁসি তামাস করতো। প্রথম দিকে কিছুটা মনোক্ষুন্ন হলেও পরক্ষনে তামান্না নূরা সকলের হৃদয় জয় করে নেয় তার অদম্য মেধা আর আচার ব্যবহার দিয়ে। কলেজের বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতি প্রতিযোগিতায় গান, কবিতা ও উপস্থিত বক্তৃতায় প্রথম স্থান অধিকার করে সকলকে তাক লাগিয়ে দেয় প্রতিবন্ধি তামান্না নূরা। শুধু তাই নয় আন্ত:কলেজ বিতর্ক প্রতিযোগিতায়ও তামান্না নূরা সেরা বক্তা নির্বাচিত হয়ে কলেজের মুখ উজ্জল করেন। আসন্ন এইচএসসি পরীক্ষায় সে যশোর শিক্ষা বোর্ড থেকে জিপিএ ৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করে তামান্না নূরা বলে, আমার ২টি হাত ও একটি পা নেই। কিন্তু তাতে আমার কিছু যাই আসে না। আমার সুস্থ্য ব্রেন দিয়ে আল্লাহ সৃষ্টি করেচেন। আমি সুস্থ্য আছি। এই জন্য আলহামদুলিল্লাহ।
তামান্নার মা খাদিজা পারভীন বলেন, প্রথমে তামান্নাকে এলাকার একটি স্কুলে ভর্তি করতে নিয়ে গেলে স্কুল কর্তৃপ তামান্নাকে নিতে চায়নি। তাতে করে আমরা থেমে যায়নি। পায়ের আঙুলের ফাঁকে চক ধরিয়ে দিয়ে ওর লেখা, তারপর কলম ধরিয়ে লেখা আয়ত্ব করে সে। ধীরে ধীরে বইয়ের পৃষ্ঠা উল্টানো, পায়ের আঙুলের ফাঁকে চিরনী দিয়ে চুল আঁচড়ানো, চামচ দিয়ে খাওয়া, সবই সে আয়ত্ব করে নিয়েছে। তার তা সবার নজরে আসে। পরে এগিয়ে আসে স্থানীয় আজমাইন এডাস স্কুল কর্তৃপক্ষ। তারা খুব সহজে তামান্নাকে ভর্তি করে নেয়। তারপর থেকে কখনো কোলে, কখনো বা হুইল চেয়ারে করে তামান্নাকে স্কুলে আনা- নেয়া করেন বাবা-মা। তামান্নার বাবা রওশন আলী বলেন, ‘আমি শিক্ষিত হয়েও কোনো চাকরি করিনি আমার মেয়ের জন্য। ছোট্ট তামান্নাকে নিয়ে আমার মনে চ্যালেঞ্জ ফুটে উঠল যে তামান্নাকে অনেক উপরে নিয়ে যেতে হবে। ঐ সময় আমার এলাকার অনেক মানুষের কথা আমাকে ভীষণভাবে আহত করেছিল। তবে থেমে যাইনি। স্কুলে ভর্তি হওয়ার পর তামান্না প্রথম শ্রেণি থেকে দ্বিতীয় শ্রেণীতে ওঠে প্রথম হয়ে। ওর উৎসাহ আরও বেড়ে যায়। সবকিছু ঠিক থাকলে তামান্না এবার ঝিকরগাছার বাকড়া ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পরীা দিবে। এখন তামান্নার স্বপ্ন বিসিএস ক্যাডার হওয়া। আল্লাহ যদি আমাকে বাঁচিয়ে রাখে। তাহলে আমি চেষ্টা করবো আমার মেয়ের স্বপ্ন সফল করতে’। তামান্না নূরা বলেন, ‘আমার আশেপাশের লোকজন মাঝে মধ্যে বলতো, আমি পারব না। কিন্তু আমি কখনো ভাবিনি যে, আমি পরবো না। আমি আমার নিজের উপর আত্মবিশ্বাসী। আমি সাফল্যের দাঁড়প্রান্তে হাজির হয়ে দেখিয়ে দিতে চাই। ইচ্ছাশক্তি প্রবল হলে কোন বাধাই থামিয়ে দিতে পারে না। ইনশাআল্লাহ আমি বিসিএস ক্যাডার হতে পারবো’।
উপজেলা মাধ্যমিক শিা অফিসার এএসএম জিল্লুর রশিদ বলেন, অদম্য ইচ্ছাশক্তির কারনে তামান্না সাফল্যের সাথে সকল ধাপ পার হয়ে আজ এই পর্যন্ত এসেছে। আমি আশাবাদি আগামীতেও সে সাফল্য বয়ে আনবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here