যশোরে ৩ জেলার বাফার গুদামে সার সংকট খালি হাতে ফিরছেন কয়েকশত ডিলার

0
377

শহিদ জয় : আমনের এই ভরা মৌসুমে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন (বিসিআইসি) বাফার যশোর গুদামে তীব্র সারের সংকট দেখা দিয়েছে। টাকা জমা দিয়েও ইউরিয়া সার পাচ্ছেন না যশোর নড়াইল ও মাগুরা জেলার দুই শতাধিক ডিলাররা। । প্রতিদিন তিন জেলার ডিলাররা ইউরিয়া সার উত্তোলন করতে এসে হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরছেন। কিছু ডিলার বরাদ্দের সামান্য পরিমাণ সার পাচ্ছেন। সারের এ সংকটের কারণে মাথায় হাত উঠেছে কৃষকদের। অলস সময় পার করছেন গুদামে কর্মরত শ্রমিকরা যশোর শহরের খোলাডাঙ্গায় অবস্থিত সারের বাফার গুদাম। যেখানে দেশি-বিদেশি কারখানায় উৎপাদনকৃত ইউরিয়া সার যশোর, নড়াইল ও মাগুরা জেলার কৃষকদের জন্যে মজুদ রাখা হয়। এখান থেকে ডিলাররা সরাসরি সার উত্তোলনের পর খুচরা বিক্রেতাদের মাধ্যমে কৃষকদের হাতে পৌঁছায়। কিন্তু যশোরের এই বাফার গুদামটি চলতি আমন মৌসুমে প্রায় খালি পড়ে আছে। গুদামের ইনচার্জ আক্তারুল ইসলাম বলেন, গুদামে সার মজুদ রাখার জন্য ৪টি ঘর রয়েছে। যার ধারণ ক্ষমতা চার হাজার টন। অথচ, কোন কোন সময় দশ হাজার টন মজুদ থাকে। প্রতি চালানে তিন হাজার টন সার আসে। অধিকাংশ আসে সিলেট ও চট্টগ্রাম থেকে। এই গুদাম থেকে জেলার মোট ২২১ জন ডিলার সার উত্তোলন করেন। পযন্ত এখন চারটি ঘরের মধ্যে মাত্র একটিতে ৪শ টন সার মজুদ আছে। সিলেট থেকে ৩০ টন সার এসেছে। যা এখনো গুদামে ঢোকানো প্রক্রিয়ায়। এ বিষয়ে কথা হয় একাধিক ডিলারের সাথে। তারা জানান, ব্যাংকে টাকা জমাদানের রশিদ দেয়ার পর একদিনের মাথায় খুব সহজে সার উত্তোলন করা যেতো। কিন্তু এবার ১০ দিনের অধিক সময় পার হলেও সার পাওয়া যাচ্ছে না। তারা জানান, একেক অঞ্চলের ডিলারদের বরাদ্দের পরিমাণ ভিন্ন। একেক জন ডিলার সার উত্তোলনের জন্যে সর্বনিম্ন ৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা জমা দিয়েছেন। টাকা জমা দেয়ার পর দূর-দূরান্ত থেকে আসা ডিলাররা প্রতিদিন সকাল থেকে প্রায় সন্ধ্যা পর্যন্ত ধরনা দিয়ে খালি হাতে ফিরছেন। হাতে গোনা দুইএকজন সার পেলেও বরাদ্দের চার ভাগের এক ভাগও হবে না। তারা বলেন, গুদামের চারটি ঘরের মধ্যে তিন ঘর তালাবদ্ধ। একটি ঘরে সামান্য পরিমাণে সার মজুদ আছে। সার উত্তোলনের জন্য এসে প্রতিদিন বাড়তি অর্থ ও সময় ব্যয় হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে কৃষক পর্যায়ে সারের দাম বেড়ে যাবে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শ্রমিক জানান, প্রায় এক মাসের অধিক সারের কোন বড় চালান আসেনি। তাদের আয়-উপার্জন ও অনেকটা বন্ধ হয়ে গেছে। ট্রাকে সার উঠানো এবং নামানোর পরিমাণের ভিত্তিতে তারা পারিশ্রমিক পেয়ে থাকেন। অতি প্রয়োজনীয় ইউরিয়া সার সংকটের প্রভাব পড়েছে মাঠ পর্যায়ে। মনিরামপুরের কৃষক হাসান আলী জানান, সার না পেয়ে তারা ক্ষেতে প্রয়োগ করতে পারছেন না। যশোর বাফার গুদামের ইনচার্জ আক্তারুল ইসলাম আরো বলেন, লকডাউনের পাশাপাশি বৈরি আবহাওয়ার কারণে পণ্য পরিবহনে অসুবিধা হচ্ছে। সে কারণে সাময়িক এই সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। বড় একটি চালান আসার অপেক্ষায় আছে। আশা করি, দ্রুত সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here