স্টাফ রিপোর্টার : যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. আমজাদ হোসেনের বিরুদ্ধে প্রবাসী নারী অধ্যাপকের লেখা নিজের নামে প্রকাশের অভিযোগ উঠেছে। লেখাটি ওই শিক্ষক নিজের নামে দেশের একাধিক শীর্ষ দৈনিকের অনলাইন ভার্সনে ছাপিয়েছেন। ভুক্তভোগী নারী জান্নাতুন্নাহার তন্দ্রা তার ফেইসবুক পেইজে বিশ^বিদ্যালয় শিক্ষকের এধরণের চৌর্যবৃত্তির নিন্দা জানিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করার পর বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। ইতোমধ্যে ড. আমজাদ হোসেন তার ফেসবুক পেইজ ও একটি পত্রিকা অনলাইন ভার্সন থেকে লিংকটি সরিয়ে নিয়েছে।
ড. আমজাদ হোসেন যবিপ্রবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক এবং ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান পদে কর্মরত। নর্থ ক্যারোলিনা এএন্ডটি স্টেট ইউনিভার্সিটির সহকারী অধ্যাপক জান্নাতুন্নাহার তন্দ্রা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, গত ২৫ মে তার ফেইসবুক পেইজে ‘কোভিডকালীন আমাদের স্থবির শিক্ষা ব্যবস্থা এবং তার কতিপয় সম্ভাব্য সমাধান’ শীর্ষক একটি লেখা প্রকাশ করেন। লেখাটি দেখে ড. আমজাদ হোসেন জানান লেখাটি তার ভীষণ পছন্দ হয়েছে এবং পত্রিকাতে ছাপাতে চান। তন্দ্রা তাতে সম্মতি দেন। তখন তিনি জানান, কিছু শব্দ বা বাক্যের পরিবর্তন করতে হতে পারে। প্রকাশের ক্ষেত্রে প্রতিটি লেখারই সম্পাদনা হয়-এ বিবেচনায় তিনি অনুমতিও দেন। এরপর আমজাদ হোসেন তাকে একটি মেইল করেন। সেখানে দেখা যায় দুই একটি শব্দ বাক্যের পরিবর্তন তিনি করেছেন যে, লেখাটি পড়লে চট করেই তা বোঝা যায় না। তিনি লেখাটি ছাপতে না চাইলেও আমজাদ হোসেন নিজের নামে একটি জাতীয় দৈনিকে লেখাটি ‘করোনাকালে শিক্ষা কার্যক্রম চালু রাখতে যা করতে হবে’ শিরোনামে প্রকাশ করেন। এরপর বিষয়টি নিয়ে ফেইসবুকে তন্দ্রা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তন্দ্রা লেখেন, ‘একজন পাবলিক বিশ^বিদ্যালয়ের বিভাগীয় প্রধান যখন এরকম কারো লেখা/আইডিয়া নিজের নামে চালিয়ে দেন এবং সেটা একটি প্রথম সারির দৈনিকে নিজের নামে ছাপেন বিষয়টি আপনারা কিভাবে দেখেন ? ডক্টর আমজাদ হোসেন কত শ্রদ্ধার সাথে আপনাকে জানিয়েছি লেখাটি আমি ছাপাবো না। আপিন নিজের নামে চালিয়ে দিলেন! আপনারা জাতির বিবেক আপনারা যদি এরকম নীতি বিরুদ্ধ কাজ করেন, যে ছাত্ররা আপনার ছায়ায় বেড়ে উঠছে, তাদের কাছে আমরা কি আশা করতে পারি ? আমি বাকরুদ্ধ হয়ে গেলাম’। তন্দ্রা আরো লেখেন, ‘কাউকে হেনস্থা বা অসম্মানিত করা আমার উদ্দেশ্য না। ডক্টর আমজাদ হোসেন একজন সম্মানিত শিক্ষক। আমি তাকে নিয়ে কোন অশোভন মন্তব্য না করার জন্য অনুরোধ করছি এবং পত্রিকা লিংকটি সরিয়ে নেবে এটুকুই আশা করছি।’ মূলত ফেইসবুকে এধরণের পোস্ট করার পর অনেকে ড. আমজাদ হোসেন ও পত্রিকাটি সম্পর্কে নেতিবাচক মন্তব্য করেন। এরপর বিষয়টি আলোচনা সমালোচনা শুরু হলে ড. আমজাদ হোসেন ফেসবুক পেইজ ও পত্রিকাটি তাদের অনলাইন ভার্সন থেকে লিংকটি সরিয়ে নেন। কিন্তু বৃহস্পতিবার আবারও আর একটি জাতীয় দৈনিকে লেখাটি প্রকাশিত হয়েছে। এ নিয়ে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। এ প্রসঙ্গে ড. আমজাদ হোসেন বলেন, আপনাদের কাছে লেখা দুটি থাকলে পড়ে দেখেন, লেখায় ভিন্নতা দেখতে পাবেন। তাছাড়া উনি (তন্দ্রা) আমার বান্ধবী। তিনি ফেসবুকে স্ট্যাটাসে লেখাটি লিখেছিলেন। লেখাটি ভাল ছিল তাই সেটি ‘মোডিফাই’ করে নিজের মতো করে লিখেছিলাম। কিন্তু তারপরও আপত্তি ওঠায় পত্রিকা কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করে মুছে ফেলা হয়েছে। আরেকটি পত্রিকায় প্রকাশনা প্রসঙ্গে তিনি দাবি করে বলেন, ‘প্রকাশের আগেই এই পত্রিকা কর্তৃপক্ষকেও লেখাটি প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে মেইল করেছিলাম। কিন্তু তারা লেখাটি ছেপে দিয়েছে।’ এ প্রসঙ্গে যবিপ্রবি উপাচার্য প্রফেসর ড. আনোয়ার হোসেন বলেন, অন্যের লেখা নিজের নামে চালানো অত্যন্ত গর্হিত অপরাধ। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের গুরুতর অপরাধের মধ্যে যে বিষয়গুলো ধরা হয়, তার মধ্যে এটি অন্যতম। ড. আমজাদ হোসেন যদি এমন কাজ করে থাকেন, তাহলে তিনি অত্যন্ত অন্যায় করেছেন। যদিও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিকভাবে কেউ কিছু জানায়নি। তবে অভিযোগ সত্যি হলে ঘটনা খতিয়ে দেখে আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেয়া হবে।














