যশোর শহরের বিভিন্ন পাড়া মহল্লায় মাদকের কারবার ও দেহ ব্যবসার জমজমাট ব্যবসা চলছে

0
1913

মালেকুজ্জামান কাকা : যশোর শহরে অবৈধ মাদকের কারবার বেড়েছে। হাত বাড়ালেই এই শহরে মিলছে মরণ নেশা মাদক। ইয়াবা, গাঁজা, ফেন্সিডিল, হেরোইন থেকে শুরু করে হরেক রকমের মদ মিলছে এই শহরের অলিতে গলিতে। উঠতি বয়সের ছেলে মেয়ে থেকে শুরু কওে বিশ্ববিদ্যালয় পড়–য়া ছাত্র , কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, ডাক্তার, ব্যবসায়ী এসব মাকদের খদ্দের। এসব নেশাজাতীয় দ্রব্যের বেচাকেনার পাশাপাশি এই শহরকে নারী ও শিশু পাচারের নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহার করছে একটি চক্র। এছাড়া এই শহরের অধিকাংশ আবাসিক হোটেল ব্যবহৃত হচ্ছে মিনি পতিতালয় হিসেবে।এর পাশাপাশি বিভিন্ন বাসাবাড়িতেও চলছে অবৈধ দেহ ব্যবসা ও মাদকের কারবার। বিশেষ করে বিউটি পার্লারের আড়ালে এসব পার্লারে অবৈধ দেহব্যবসা ও মাদক ব্যবসা এখন জমজমাট আকার ধারন করেছে। স¤প্রতি জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একাধিক টিম এরকম কয়েকটি বিউটি পার্লারে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমান মাদক দ্রব্য উদ্ধারের পাশাপাশি ভ্রাম্যমান বেশ কয়েকজন পতিতাকে খদ্দেরসহ আটক করেছে।
খোঁজ খবর নিয়ে জানা গেছে, যশোর শহরে অবৈধ মাদক ব্যবসার পাশাপাশি আবাসিক এলাকায় দেহ ব্যবসা জমজমাট আকার ধারন করেছে। এছাড়া নারী ও শিশু পাচারকারী চক্রের দৌরাত্ব নাগরিক সমাজকে ভাবিয়ে তুলছে। তথাকথিত সমাজপতি ও আঞ্চলিক রাজনৈতিক নেতাদের মদদে এসব অবৈধ কারবার এখন ওপেন সিক্রেট । বৃটিশ ভারতের প্রথম জেলা শহর যশোরের একটা আলাদা ঐতিহ্য ছিল। সেই শহর এখন নানা কারনে নাগরিকদের দু:শ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখানে এখন এমন কোন মহল্লা নেই যেখানে ইয়াবা বা গাঁজাসহ নেশাদ্রব্য নেই। এমন একটি পাড়াও মিলবে না যেখানে দালান বাড়ি ভাড়া করে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে চুটিয়ে পতিতা বা দেহ ব্যবসা হচ্ছেনা। একই সাথে শহরবাসির বড় দুশ্চিন্তা নারী ও শিশু পাঁচারকারী সিন্ডিকেট। আগে ফেন্সিডিল ও মদের আখড়া ছিল শহরের ৬নং ওয়ার্ড চাঁচড়া রায়পাড়া। সারাদেশ তো বটেই দেশের সীমানা ডিঙ্গিয়ে ভারতেও তার হাক ডাক ছিল। এখন রায়পাড়ায় মাদক পল্লীর দূর্নাম খানিকটা হলেও ঘুচেছে। এখন সকল মহল্লায় নিষিদ্ধ বার্মিজ ট্যাবলেট ইয়াবা হাত বাড়ালেই মিলছে। অপেক্ষাকৃত তরুনরাই তা বেচা-কেনা করছে। ১০০ থেকে শুরু করে ৭০০ বা কোন কোন ক্ষেত্রে ১০০০ টাকা একটি ইয়াবা যার কোড নেম “বাবা” বিক্রি হচ্ছে। অভিভাবকরা বুঝতেই পারছে না কিভাবে তাদের সন্তানরা ইয়াবায় আসক্ত হচ্ছে। শহরের রেলস্টেশন, ষষ্টীতলা টিবি কিনিকমোড়, খড়কী, কাজিপাড়া, বিমান অফিস পাড়া, ধর্মতলা, কারবালা পুকুর পাড়, ঘোপ ধানপট্টি, উপশহর ট্রাক স্ট্রান্ড বস্তি, ই ব্লক, বিরামপুর, ৭ নম্বও সেক্টও, ডি ব্লক, এফ ব্লক, শেখহাটি, মুজিব সড়ক ভিআইপি রোড, চোরমারা দিঘীর পাড়পল্লী, রেলগেট পশ্চিমপাড়া, রায়পাড়া, রায়পাড়া ঝিলপুকুরপাড়, শঙ্করপুর ষাড় অফিসপাড়া, চাঁচড়া বাজার মোড়, মাগুরপট্টি, গাজীর বাজার, মনিহারপট্টি, বারান্দীপাড়া, লোনঅফিস পাড়া, বেজপাড়া তালতলা, জিরো পয়েন্টমোড়, শঙ্করপুর বাস টার্মিনাল, বকচর কোল্ডস্টোরেজ , বারান্দীপাড়া, কুলতলার মোড়, পশ্চিম বারান্দীপাড়া, হাই কোর্ট মোড়, বারান্দী নাথপাড়া, ঘোপ ডিআইজি রোড, লোন অফিসপাড়া, কাঠেরপুলসহ প্রায় গোটা শহরের সর্বত্রই ইয়াবা ও গাঁজা পুরিয়া বিক্রি হচ্ছে। বিক্রিও পাশাপাশি এসব এলঅকার বিভিন্ন পয়েন্টে বসছে নেশার হাট। অবস্থা দেখে সুস্থ সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, পুলিশের ঘোষিত মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি এই শহরের কোথাও নেই। ফেন্সিডিলের মূল্য এখন প্রতি বোতল ১০০ মি:লি: তিন থেকে চার হাজার টাকা। একারনে ইয়াবা ও গাঁজা চুটিয়ে নেশা করছে আসক্তরা। আসক্ত তরুণরা বলছে ১০০ টাকায় ইয়াবা বা গাঁজা পুরিয়া মেলে আর ফেন্সিডিল এখন বড়লোকের নেশা । ওখানে আমাদের কোন প্লেস নেই। যশোরবাসির বড় দুশ্চিন্তা আবাসিক এলাকায় পতিতা ব্যবসা। এমন কোন মহল্লা নেই যেখানে বাড়ি বা ফ্যাট ভাড়া করে দেহ ব্যবসা চলছেনা। এসব ব্যবসায় স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের মদদ থাকায় কেউ তার প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছে না। এক্ষেত্রে পুলিশ কর্তাদের বক্তব্য রাজনৈতিক নেতারা প্রতিবাদ করলে আবাসিক এলাকায় দেহ ব্যবসা কখনোই হতে পারেনা। মজার বিষয় এই দেহ ব্যবসা আর নারী ও শিশু পাচার সিন্ডিকেট একই সাথে পরিচালিত হ্েচ্ছ। যশোর শহরের প্রায় দুই হাজার গৃহবধূ ও কিশোরী বিভিন্ন স্থানে পাচার হয়েছে। এদের বড় একটি অংশ ভারতের মুম্বাই শহরে আছে। প্রতি মাসে যশোর শহর থেকে ভারতে নারী ও কিশোরী পাঁচার হয়ে থাকে। শহরের খড়কী, রেলগেট পশ্চিমপাড়া, রায়পাড়া, রেলস্টেশনসহ বিভিন্ন মহলে এদের শক্ত সিন্ডিকেট বেশ আগে থেকেই রয়েছে। যশোর ও সাতক্ষীরার ভারতীয় সীমান্ত এলাকায়ও এদের বড়সড় নেটওয়ার্ক রয়েছে। এদের বিরোধিতা করলেই প্রতিবাদকারিরা প্রশাসনের এক শ্রেণীর কর্তাদের রোষানলে পড়ে যায়। এ কারনে এরা প্রায় বাঁধাহীন ভাবে অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন স্কুল শিক্ষক বলেন, রেলগেট পশ্চিমপাড়ায় মা ও মেয়ে একই বাড়িতে পতিতাগিরি করছে। অবাক হয়ে দেখছি সেখানে বিভিন্ন বয়সীরা দিনে রাতে যাতায়াত করছে। সকলেই বিষয়টি জানলেও কেউ প্রতিবাদ করছেনা-এটাই দুশ্চিন্তার কারন। এই মা একবছরেরও বেশি সময় ভারতের মুম্বাই শহরে দেহ ব্যবসা করে এখন দেশে এসেছে। আর দেশে এসেই সে তার এক কন্যাকে এই পেশায় সম্পৃক্ত করেছে। অবশ্য এই গৃহবধূকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে প্রথমে বিয়ে ও পরে ভারতে পাচার করে খড়কীর দক্ষিন পাড়ার রবিউল। অভিযোগ রয়েছে রবিউল – মুন্না সিন্ডিকেট যশোরের প্রায় ১৫০ নারী ও শিশুকে ভারতে পাচার করেও বহাল তবিয়তে। মুন্নার মৃত্যুর পরে এই পাচার সিন্ডিকেটের প্রধান হয়েছে রায়পাড়ার বাবু নামের একজন ধর্মীয় লেবাসধারী ভন্ড। এই সিন্ডিকেটের টার্গেট নি¤œ আয়ের পরিবারের মেয়েরা ১০/১২ বছর বয়সের মেয়েরা। তাদের ফাঁদে ফেলে ভারতে পাচার করা হচ্ছে বলে জোর অভিযোগ অনেক দিনের। শুধু ভারতেই নয় যশোর শহরের বিভিন্ন ফ্যাটে ভাড়া রেখেও তাদের জোর পূর্বক দেহ ব্যবসায় খাটানো হচ্ছে বলে মহল্লা ওয়ারী অভিযোগ মিলেছে। এক্ষেত্রে এই সব কিশোরী পরিস্থিতির শিকার। অনেক ক্ষেত্রে তাদের মা খালা মামা বা বাড়ির অন্য কোন অভিভাবক জড়িত বলে জানা গেছে। প্রতিদিন এই সব কিশোরীদের কয়েক জনকে যশোর শহরে স্কুটার বা চার্জার মোটর বাইক চালিয়ে যাতায়াত করতে দেখা যায়। পুলিশের হাতে এদের আটকের ঘটনাও কম নয়। এই সব কিশোরীদের ভেট দিতে হয় স্থানীয় রাজনৈতিক পাতি নেতা বা তরুণ ২/১ জন নেতার লোককে। কোতয়ালি মডেল থানার একজন দারোগা বলেন, একটি পাচার মামলা তদন্তে দেখি বিভিন্ন নেতারা চাইছে তার সুষ্ঠ তদন্ত না হোক। এর কারন থলের বিড়াল বের হবে। প্রতিটি পাচারের সাথে তিন থেকে পাঁচ লাখ টাকা লেনদেনের কারবার আছে। চাঁচড়া রায়পাড়া ও রেলগেটে রয়েছে নারী ও শিশু পাচারকারি সিন্ডিকেটের সেই আখড়া। সাতক্ষীরার কয়েকজন পাচারকারিকে সেখানে প্রায়ই যাতায়াতের কথাও শোনা যায়। তবে স্থানীয় একটি শান্তি কমিটির কারনে সেই পাচার মামলার সুষ্ঠ তদন্তে বিলম্ব হচ্ছে। এমনকি একটি শ্রমিক ইউনিয়নের কয়েকজনেরও সেই পাচারে সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে জানান ঐ দারোগা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here