আবুল কাশেম,নড়াইল : নড়াইল সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আঙ্গিনায় লাগানো গাছ চুরি করে বিক্রি করার সংবাদ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ হলে নড়েচড়ে বসেছে শিক্ষা অফিসার । তার গাছ চুরির বিষয়টি ধামা চাপা দিতে চুরাইকৃত কিছু গাছ ফিরিয়ে আনা হয়েছে। কিন্তু অধিক মুল্যের গাছ গুলো এখনও ফিরিয়ে না আনার কারনে জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। যানা গেছে সদর উপজেলার শিক্ষা অফিসার মোঃ আতিকুর রহমান যোগদানের পর থেকে দূর্ণীতির আতপ ঘরে পরিনত হয়েছে। তার সীমাহীন দূর্নীতি অনিয়ম বিরুদ্ধে কোন শিক্ষক প্রতিবাদ করলে তাকে কৌশলে সায়েস্তা করা হয়। তার বিরুদ্ধে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গাছ চুরি থেকে শুরু করে বদলী বানিজ্য, বিদ্যালয় সংস্কারের কাজে দূর্নীতি সহ নানা বিধ অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি সময়ে , সদর উপজেলার তুলারামপুর ইউনিয়নের৩৫ নং পি বি মালিডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আঙ্গিনায় লাগানো জাম মেহগনি , রেন্টি গাছ সহ বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ১০ টি গাছ কেটে জরুরী ভাবে ট্রাকে করে চাঁচড়া সৈামিলে বিক্রি করেছেন। যার বাজার মূল্য ১০ লাখ টাকা। কোন রকম সরকারি নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে এই ভাবে সরকারি জায়গার গাছ কেটে নেওয়ায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।এহেন পরিস্থিতিতে স্থানীয় মনিরুল মোল্য বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
মনিরুল জানান, প্রধান শিক্ষক কৃপা নাথ সিকদার ও সভাপতি সৈয়দ মিন্টু দাঁড়িয়ে থেকে এই গাছ কেটে বিক্রি করেছেন। যখন এলাকাবাসী প্রতিবাদ করেছেন তখন গাছের কিছু অংশ স্কুলের আঙ্গিনায় রেখে দিয়েছেন।স্থানীয় জিল্লুর মোল্যা জানান, প্রায় ১২ লক্ষাধিক টাকার সরকারি গাছ কেটে বিক্রি করা হয়েছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক শিক্ষা অফিস কে ম্যানেজ করে কোন রকম নিয়মনীতি ছাড়াই ইচ্ছা মত এই গাছ কেটে নিয়েছেন ।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কৃপা নাথ সিকদার জানান, গাছ কাটার আগে আমি উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার মোকশুদূর হক স্যারকে জানিয়েছি। তিনি বলেছেন নতুন ভবনের অজুহাতে গাছ কেটে ফেলেন। পরে আমরা দেখছি, যা কিছু করার শিক্ষা অফিসার করবে।
এ বিষয়ে জানতে উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার মোকশুদূর হক জানান, গাছ কাটার বিষয়ে আমি কিছু জানি না।
উপজেলা শিক্ষা অফিসার আতিকুর রহমান জানান প্রধান শিক্ষক এক জন চতুর প্রকৃতির লোক। তিনি আমাকে গাছ কাটার বিষয়ে কিছু বলেনি। তবে গাছ কাটার সাথে জড়িতদের তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাদিয়া ইসলাম জানান, গাছ কাটার বিষয়ে আপনাদের মাধ্যমে জানতে পারলাম। আমার কাছে কেউ লিখিত অভিযোগ করেনাই। তবে বিষয়টি আমি তদন্ত করে দেখছি, যদি অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায় তাহলে অবশ্যই দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।















