পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করা হচ্ছে যশোরের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

0
370

মালিকুজ্জামান কাকা : পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করার কাজ চলছে যশোরের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। ১৭ মাস ধরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ। হাজারো শিার্থীর কলকাকলীতে মুখর শিাঙ্গন এখন নিরাবতার ডিপো। এ কারণে দিন যত যাচ্ছে ততই শিার্থী-অভিভাবকদের চিন্তা বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে শুক্রবার এসেছে খুশির খবর। দেশে করোনা সংক্রমণ কমে যাওয়ায় আগামী ১২ সেপ্টেম্বর থেকে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার আশা করছে সরকার। স্কুল খোলার খবর পেতেই যশোরের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃপ জোরপহ পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার কাজ শুরু করছে। তবে, কোন কোন প্রতিষ্ঠানের কর্তারা আজকের আন্তঃ মন্ত্রণালয়ের মিটিংয়ে চূড়ান্ত নির্দেশনার অপোয় রয়েছেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার প্রস্তুতি নিয়ে ডাক্তার আব্দুর রাজ্জাক মিউনিসিপ্যাল কলেজের অধ্য জেএম ইকবাল হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন শিার্থীশূন্য ক্যাম্পাস তাদের পীড়া দেয়। করোনার কমে যাওয়ায় শিা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার সিদ্ধান্তে শিক অভিভাবকসহ সকলে খুশি। সব ধরনের প্রস্তুতি আছে তাদের। যশোর শিাবোর্ড মডেল স্কুল এন্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্য কল্যাণ সরকার বলেন, নিয়ম মেনে আগে থেকেই তারা বিদ্যালয় ঠিকঠাকভাবে পরিষ্কার রাখছেন। বিদ্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালনা করতে সার্বিক প্রস্তুতি তাদের আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যথাযথ কর্তৃপরে নির্দেশনা পেলে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে শিার্থী ও অভিভাবকদের এ বিষয়ে অবহিত করবেন। এদিকে স্কুল খোলার খবরে আনন্দিত শিার্থীরা, যশোর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিার্থী জান্নাতুল মাওয়া জানায়, অষ্টম শ্রেণিতে একদিনও সরাসরি কাস করতে পারেনি সে। স্কুল খোলার সংবাদে সে আনন্দিত। রাওয়ানা মারজিয়া মেধা নামে নবম শ্রেণির এক শিার্থী জানায়, অনলাইনে কাস চললেও সরাসরি কাস তারা মিস করছে। রাফসান নামে পুলিশ লাইন স্কুলের এক শির্থী জানায় বাড়িতে বসে থেকে তাদের সময় কাটে না। পড়তেও ইচ্ছা হয় না। ১২ সেপ্টেম্বর স্কুল খুললে একঘেয়ে জীবন থেকে তাদের মুক্তি মিলবে। এ খবরে খুশি অভিভাবকরাও। কয়েকজন অভিভাবক জানান, দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ থাকায় তাদের সন্তানের পড়ালেখার প্রচুর তি হয়েছে। ছেলেমেয়েরা একদম পড়াশোনা করতে চায় না। যদিও স্কুল থেকে নিয়মিত অনলাইন কাস হয়েছে। কিন্তু সেটা পর্যাপ্ত না। সরকার শিা প্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়ে ভালো সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ১২ সেপ্টেম্বর যেন স্কুল খোলে। সে বিষয়ে কর্তৃপরে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তারা। প্রাক প্রাথমিক বিদ্যালয়, প্রাথমিক স্কুল, মাধ্যমিক স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিার্থীদের বয়স ও আচরণে পার্থক্য আছে। সর্বজনীন ব্যবস্থার পাশাপাশি প্রত্যেকের জন্যে পৃথক বিধিবিধান করতে হবে উল্লেখ করে অভিভাবকরা বলছেন নিজেদের সন্তানের সুস্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা বিবেচনায় রেখে অভিভাবকদেরও সচেতন হতে হবে। সন্তানের স্বাস্থ্যবিধি মানা ও মানানোর প্রতি যত্নশীল হওয়া মা বাবার কর্তব্য ও দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। ইউনিসেফের প্রতিবেদন অনুসারে করোনায় সবচেয়ে বেশি সময় ধরে স্কুল বন্ধ থাকা দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয়। দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে শিা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার পর এবার খুলে দেয়ার এই উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। আজ শিা প্রতিষ্ঠান খোলা সংক্রান্ত বিষয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় মিটিংয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে বলে শুক্রবার চাঁদপুরে একটি অনুষ্ঠানে শিামন্ত্রী দীপু মনি জানান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here